ওকাপের অভিবাসী সম্মেলন

দুর্দশা ও হয়রানি অভিযোগ বিদেশফেরত ব্যক্তিদের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৮: ১২
কথা বলছেন ওমানফেরত রোকসানা। সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির চাকায় ভূমিকা রাখলেও বিদেশযাত্রার ব্যয়, বিমানবন্দরে দুর্ব্যবহার, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ঋণে জটিলতার মতো হয়রানি ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিদেশফেরত প্রবাসী কর্মীরা।

বুধবার রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসীকল্যাণ ভবনের বিজয় একাত্তর হলে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) আয়োজিত অভিবাসী সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তাঁরা।

প্রবাসীরা বলেন, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, বিমানবন্দরে কর্মকর্তাদের অপেশাদার আচরণ, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ঋণে জটিলতা এবং ন্যায্য বিচার না পাওয়ার মতো ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের।

অভিযোগ তুলে ধরে সৌদিফেরত মো: মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয় অভিবাসী কিন্তু আমার মনে হয় আমরা অভিবাসী না, আমরা বনবাসী। বিদেশ যাওয়ার সময় সরকার আমাদেরকে বলে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা হলে সৌদি আরব-মালয়েশিয়া যাওয়া যায়। কিন্তু যখন আমরা বিদেশের জন্য রওনা হই, তখন আমাদেরকে সৌদি আরব-মালয়েশিয়ার জন্য গুনতে হয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। তখন আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা দেখেন না। তখন যদি আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা একটু সুদৃষ্টি দিতেন তাহলে আমাদের জায়গা-জমি বিক্রি করে বিদেশে যেতে হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন ঢাকা এয়ারপোর্টে আসি, তখন এয়ারপোর্টের কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করে তা আপনারা সবাই জানেন। আমরা দেশে এসে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত-নিপীড়িত হই। আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। আমাদের লাগেজ কেটে রাখা হয়। আমাদের বডি চেক করা হয়।’

আরেক বিদেশফেরত প্রবাসী মাসুম মিয়া বলেন, ‘আমাদের যেন সহজ শর্তে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। যেন আমরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হই।’

ওমান ফেরত রোকসানা বলেন, ‘আমি যখন ২০১৯ সালে বিদেশ যাই, তখন আমি খুব অসহায় ছিলাম। তো বিদেশ গেছি সফল হওয়ার জন্য। কিন্তু ওইখানে গিয়ে আমি সফল হই নাই। আমি বিদেশ থেকে নিঃস্ব হয়ে আসছি। তো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আমি ওইখানে গেছি। যাওয়ার পরে তারা আমাকে দূর দূর করে খেদায়ে দেয়।’

আরেক প্রবাসী আল আমিন বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের এজেন্সি আছে; যারা ২ থেকে আড়াই লাখ টাকায় অনেক দেশে যাওয়া যায়, ওই জায়গায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয়। আমাদের সরকারের এরকম পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যে নির্দিষ্টভাবে বেঁধে দিতে হবে যে এত টাকার মধ্যে নিতে হবে। যদি বেশি নেয়, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’

প্রতারণার অভিযোগ তুলে ধরে দুবাই ফেরত সাবিনা বেগম বলেন, ‘আমি দেশে আসার পরে অনেকটাই ঋণগ্রস্ত ছিলাম, অসহায় ছিলাম। কেউ আমার পাশে এসে দাঁড়ায় নাই। আমি জনশক্তি অফিসে একটা আবেদন করি। কিন্তু ওইখানেও আমি প্রতারিত হই, এমনকি হয়রানির শিকার হই। আমি আমার ন্যায্য পাওনা পাই নাই।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত