রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ১০৯ জন গ্রেপ্তার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ১৮: ৫০
ডিএমপির লোগো

রাজধানীর মিরপুর, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় পৃথক অভিযানে অপহরণকারী চক্রের সদস্য, অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য ও চাঁদাবাজসহ মোট ১০৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার (৬ মে) বিকেলে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৫ মে রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

মিরপুরে ৫৪ জন গ্রেপ্তার

মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ আজ বুধবার এলাকাটির বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ পয়েন্টে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ৩ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং বাকি ৫১ জন বিভিন্ন মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত বা নিয়মিত মামলার আসামি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাইমিনুল ইসলাম (৩০), তৌফিক আজম (২১) ও রিফাত হোসেনসহ (২২) ৫৪ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে পুলিশ।

মতিঝিলে ভুয়া ডিবি চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

মতিঝিল এলাকায় ডিবি পরিচয় দিয়ে এক কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো মো. আনোয়ার সরকার (৩০) ও মো. জহিরুল ইসলাম জহির (২৩)। পুলিশ জানায়, ভিকটিম রাসেল আহমেদকে গত ১০ মার্চ তাঁর অফিস থেকে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করে নন্দীপাড়ার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি এবং জোরপূর্বক তিনটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করলে ভিকটিম পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৫ মে রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে এবং ভিকটিমের স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্পগুলো উদ্ধার করে।

যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞান পার্টির সদস্য আটক

যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির ৭ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি মতিঝিল বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো সাইফুল ইসলাম (৬০), অপু আহমেদ (৩৮) ও সুজন খানসহ (৩৫) মোট ৭ জন। তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চেতনানাশক হালুয়া, ইনজেকশন, অজ্ঞান করার লিফলেট এবং ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাস টার্মিনাল ও জনাকীর্ণ এলাকায় যাত্রীদের চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুটে আসছিল।

এ ছাড়া মুগদা ও যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জন নিয়মিত মামলার আসামি এবং ১৭ জনকে ডিএমপি অধ্যাদেশ বা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ আলাদা এক অভিযানে আরও ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে নিয়মিত মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি ছাড়াও ১৬ জনকে মোবাইল কোর্টে সাজা দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত