জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ফরিদপুরে গাছ কাটা নিয়ে বড় ভাইয়ের শর্টগানের গুলিতে ছোট ভাই নিহত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফরিদপুর

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৫
বোয়ালমারীতে ছোট ভাইকে হত্যায় অভিযুক্ত ডা. গোলাম কবীরকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। স্ট্রিম ছবি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিরোধপূর্ণ পৈতৃক জমিতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বড় ভাই ডা. গোলাম কবীরের ছোড়া শর্টগানের গুলিতে হুমায়ুন কবীর মিন্টু (৫৫) নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চতুল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজন ডা. কবীরকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করে।

হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) আজম খান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাছ কাটাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত গোলাম কবীরকে আটক করা হয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত শর্টগানটি জব্দ করা হয়েছে।’

ডা. গোলাম কবীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি। তিনি বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে বাস করতেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা ঢাকায় থাকেন। এলাকায় পৈতৃক জমি নিয়ে তাঁর সঙ্গে ছোট ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনরা।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, পৌরসভার চতুল উত্তরপাড়া গ্রামের কাওছার শেখের বাড়ির পাশের প্রায় ৪০ শতাংশ পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল গোলাম কবীর ও হুমায়ুন কবীরের মধ্যে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ জমি কাওছার শেখের নামে লিখে দেন হুমায়ুন। বাকি জমির মেহগনি গাছ সম্প্রতি বড় ভাই গোলাম কবীর প্রায় ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

এদিকে বুধবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন ছোট ভাই হুমায়ুন। এ সময় দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে গোলাম কবীর বাড়ি থেকে ব্যক্তিগত একটি শর্টগান এনে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা হুমায়ুন কবীরকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আন্না সুলতানা বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগীর বুকে ও কোমরে শর্টগানের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিলায়েত হোসেন মৃধা জানান, ‘শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি ডা. গোলাম কবীর তাঁর ছোট ভাইকে গুলি করে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ধাওয়া করে পুলিশের কাছে দেয়।’

নিহতের ভাই আলমগীর কবীর বলেন, ‘আমার চোখের সামনে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে বড় ভাই। সামান্য গাছ নিয়ে এমন ঘটনা কখনো ভাবিনি।’

সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান বলেন, হাসপাতাল থেকে হুমায়ুন কবীরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পারিবারিক সংঘর্ষের আশঙ্কা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সম্পর্কিত