রাজশাহীতে তাপপ্রবাহের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টি, ফেটে যাচ্ছে লিচু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

পাকার আগেই গাছে ফেটে যাচ্ছে লিচু। স্ট্রিম ছবি

এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। এর মাঝে কদাচিৎ দেখা মিলছে বৃষ্টির। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক বৈরিতায় পাকার আগেই গাছে ফেটে যাচ্ছে লিচু। এতে ফলন কমার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

রাজশাহী শহরের চণ্ডিপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস চত্বর ও রায়পাড়া এলাকার কয়েকটি বাগানে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। গাছে থোকায় থোকায় লিচু ধরলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পাকার উপযোগী হতে যাওয়া এসব লিচুর অনেকগুলোই ফেটে গেছে। কোনোটির গায়ে কালো বা খয়েরি দাগ পড়েছে, আবার অনেক ছোট লিচু ঝরে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রায়পাড়া এলাকার বাগানমালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র গরম পড়লে এমনিতেই কিছু লিচু ঝরে পড়ে বা পাকার আগে ফেটে যায়। কিন্তু এবার এই হার অনেক বেশি। ঠিক কী কারণে এমনটা হচ্ছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’

ফলন কমার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। স্ট্রিম ছবি
ফলন কমার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। স্ট্রিম ছবি

লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মূলত তাপপ্রবাহের ভেতর হঠাৎ বৃষ্টির কারণেই লিচু এভাবে ফেটে যাচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে আমরা এমন খবর পাচ্ছি।’

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহীতে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ৩টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ এপ্রিলও তাপমাত্রা একই বিন্দুতে পৌঁছেছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) তথ্য বলছে, গত কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ‘মৃদু’, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ‘মাঝারি’ এবং ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তাকে ‘তীব্র’ তাপপ্রবাহ বলা হয়।

রাজশাহীতে লিচুতে ফাটল। স্ট্রিম ছবি
রাজশাহীতে লিচুতে ফাটল। স্ট্রিম ছবি

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ৫৩০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৭৬৮ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর লিচু বাগানের জমির পরিমাণ দুই হেক্টর কমলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে ৭ মেট্রিক টন বেশি ধরা হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিচুর এই ক্ষতি রোধে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘খরা চলাকালীন গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে। সম্ভব হলে পুরো গাছে পানি স্প্রে করতে হবে। এছাড়া গাছে পরিমিত মাত্রায় হরমোন, বোরন বা জিংক স্প্রে করলেও এই ফেটে যাওয়া রোধ করা সম্ভব।’

সম্পর্কিত