জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০, পুড়ল বাড়ি-গাড়ি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৩৮
কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণে দগ্ধ একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। স্ট্রিম ছবি

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নতুন স্থাপিত একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। পুড়েছে আশপাশের অন্তত ১০টি বাড়ি এবং পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত ২০ থেকে ২৫টি জিপ।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দগ্ধদের মধ্যে ৯ জন হলেন— সাকিব (২৪), মো. সিরাজ (২৪), আব্দুর রহিম (৪৫), মোতাহের (৪৫), কামরুল হাসান (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।

তাদের মধ্যে ছয়জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও দু’জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আর দু’জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবু সাইদ জানান, আব্দুর রহিম ও আবু তাহেরের শরীরের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে; তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘এন আলম’ নামক ওই ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ তিন ঘণ্টায় পুরো এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে পাম্পের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত পাম্পের চারপাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রথম দফায় লিকেজ বন্ধ করা হলেও রাত ৮টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জনবহুল এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপন করা বড় ধরনের ঝুঁকি। শুরু থেকেই আমরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।’ আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইমরান বলেন, ‘বসতবাড়ির পাশে এ ধরনের পাম্প অনুমোদন দেওয়া ঠিক হয়নি। এতে মানুষের জীবন হুমকির মুখে রয়েছে।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন আছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত