মাদারীপুরে চলছে ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির দাফনের প্রস্তুতি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মাদারীপুর

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১২: ২২
বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে চলছে প্রস্তুতি। ছবি: সংবাদদাতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৬) মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবরে মাদারীপুরের সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামে চলছে শোকের মাতম।

শনিবার (৯ মে) সকালে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে সকাল থেকেই তাঁর পৈতৃক বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন স্বজন, বন্ধু ও এলাকাবাসী। এদিকে নিহতের লাশ দেশে আসার খবরে চলছে কবর খননের কাজ।

স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টায় মাদারীপুরের উদ্দেশে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স রওনা দেয়। মাদারীপুর সদরে বিরতি দিয়ে বিকেল ৩টার মধ্যে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে বৃষ্টিকে শেষবারের মতো দেখতে ইতিমধ্যে স্বজন ও এলাকাবাসী তাঁর গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

নিহত বৃষ্টির চাচি জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘বৃষ্টি ছিল আমাদের এলাকার একটি শিক্ষার আলো। সেই আলোটা এভাবে নিভে যাবে কখনোই ভাবতে পারিনি। সৃষ্টির কাছ থেকে আমার ছেলে সন্তানরা অনেক কিছু শিখেছে। অর মেধার কাছে এলাকায় আলো জ্বলে উঠেছিল। হয়তো বৃষ্টির মত কেউ আর আলো তৈরি হবে না! কিন্তু বৃষ্টির স্মৃতি নিয়ে আমরা বেঁচে থাকব। যারা বৃষ্টিতে নিঃসঙ্গভাবে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার চাই।’

নিহতের চাচা দানিয়াল আকন বলেন, ‘ও বাড়িতে আসলে গ্রামের সবাইকে শুধু পড়ার উপদেশ দিত, ভালো মানুষ হওয়ার উপদেশ। আজকে কেউ আর উপদেশ দিবে না। কেউ বলবে না ভালো লেখাপড়া করলে ভালো মানুষ হওয়া যায়। আমরা শুধু আমার মেয়েকে হারাইনি! হারিয়েছি পুরা এলাকার একটি আলো। বৃষ্টিতে যারা মেরেছে আমরা তার বিচার চাই।’

বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি
বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি

নিহত বৃষ্টির চাচাতো ভাই রুমান আকন বলেন, ‘আমি আপুর কাছেই শিখেছি কিভাবে ভাল রেজাল্ট করতে হয়। তার দেখানো পথেই চলে আজ আমি ক্লাসের ফার্স্ট বয়। আর মনে হয় আমাকে উপদেশ কেউ দিবে না, বাড়িতে আসতে কেউ আমাকে আর পড়াবেও না। ভাবছি আমার এলাকায় আপু আলোকিত করবে। কিন্তু সেই লাশ হয়ে ফিরবে তা কখনো ভাবেনি।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব রোমান সরদার বলেন, ‘বৃষ্টি আমাদের এলাকার গর্ব। ওর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা ওর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবী করছি। এবং এই পরিবারের দিকে যেন সরকার খোঁজ খবর রাখে সেই দাবি জানাই।’

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে সর্বশেষ জীবিত দেখা গিয়েছিল। এর পরবর্তী দুই দিন তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের ওপর থেকে হ্যাভি-ডিউটি ইউটিলিটি ট্র্যাশ ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুই দিন পর ওই এলাকারই ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর থেকে নাহিদার মরদেহ উদ্ধার করেন এক কায়াকার।

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহ নামের এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আটক রয়েছেন।

সম্পর্কিত