আশ্বাসেই থেমে আছে রংপুর বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৫৬
স্ট্রিম গ্রাফিক

রংপুরে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের নানা পরিকল্পনা, ঘোষণা ও বিভিন্ন সময় ক্রিকেট-কর্তাদের পরিদর্শনের খবর মিললেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনাময় ক্রিকেট এগোলেও সামগ্রিক উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর রংপুরে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। পরে নগরের উত্তম হাজিরহাট এলাকায় প্রায় ২০ একর জমিতে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে তারও প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

বর্তমানে স্থানীয় খেলোয়াড়দের একমাত্র ভরসা রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন। কিন্তু এই মাঠেও নেই পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা। ইনডোর সুবিধা, মানসম্মত উইকেট, উন্নত ড্রেসিংরুম ও নিয়মিত লিগ হচ্ছে না।

সম্প্রতি রংপুর ক্রিকেট গার্ডেন মাঠ ঘুরে সেখানকার সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। মাঠটিতে অনুশীলন করার সময় ক্রিকেটার মিম মোসাদ্দেক বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের মধ্যে এই মাঠে কিছু ফ্যাসিলিটিজ থাকলেও ইনডোর সুবিধা নেই। উইকেটের মান ভালো না। শুনেছি বাজেট হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি। ড্রেসিংরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকলে আমরা আরও ভালোভাবে খেলতে পারতাম।’

আরেক খেলোয়াড় আব্দুল্লাহ বিন হাবিব রুমি বলেন, ‘এটি বিভাগীয় স্টেডিয়াম বলা হলেও এখানে ড্রেসিংরুমের কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। টার্ফ উইকেট নেই, অনেকেই শণ বা ঘাসে ব্যাটিং করে। সারা বছর প্র্যাকটিস করলেও কোনো লিগ হয় না, যা আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।’

অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

তবে সাফল্যের দিক থেকে পিছিয়ে নেই রংপুর। সাম্প্রতিক আসরে জাতীয় ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি সংস্করণেও শিরোপা জিতেছে দলটি। বয়সভিত্তিক দলগুলোতেও নিয়মিত খেলোয়াড় সরবরাহ করছে এই বিভাগ।

২০২৪ সালের ২০ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইঁয়া রংপুরে বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই ঘোষণাও এখনও বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

ক্রিকেট একাডেমির কোচ সালাউদ্দিন পাপ্পু বলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় তৈরি করতে হলে প্রথমেই দরকার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এই মাঠে কিছু উন্নয়ন করা সম্ভব, তবে রংপুরে একটি আধুনিক বিভাগীয় স্টেডিয়াম অত্যন্ত জরুরি।’

ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সংগঠকদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে রংপুর দেশের ক্রিকেটে অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ শুরু করা না হলে সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের ক্রিকেট আরও পিছিয়ে পড়বে।

রংপুর ক্রিকেট একাডেমির সাবেক কোচ সাকিল রায়হান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হলে এখানে বিপিএল, প্রিমিয়ার লিগসহ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব। ক্রিকেট গার্ডেনকে প্র্যাকটিস ভেন্যু হিসেবে রেখে বিভাগীয় লিগ চালু করা উচিত। পাশাপাশি বিকেএসপির মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার।’

রংপুর জেলা সুজনের সভাপতি ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, ‘এই অঞ্চলে এক ডজনের বেশি জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। এখানে বিমানবন্দর, হোটেলসহ সব ধরনের সুযোগ আছে। তারপরও অবকাঠামোর অভাবে আমরা পিছিয়ে আছি। অতীতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা রংপুরের ক্রীড়ার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি। এখন দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সরকার মাজহারুল মান্নান বলেন, ‘দেবীপুর মৌজায় প্রায় ১৫ একর জমিতে স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা সাইট পরিদর্শনও সম্পন্ন করেছেন। এখন প্রকল্প অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ ও প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সব বিভাগেই স্টেডিয়াম আছে, শুধু রংপুরে নেই। এটি হতাশাজনক। দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে এই প্রকল্প শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’

বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম যোগাযোগ করা হলে তিনি ন্যাশনাল ম্যানেজার গ্রাউন্ডসের আবুল হাসানের সঙ্গেই বিষয়ে কথা বলতে বলেন।

ন্যাশনাল ম্যানেজার গ্রাউন্ডসের আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, এই মুহূর্তে বিসিবির অনেকে পরিবর্তন হয়ে গেছে। এটি আমাদের বিষয় না।

রংপুর জেলা ক্রীড়া অফিসার রানা মাসুদ বলেন, এটি আসলে বিভাগের বিষয়। তাই বিভাগীয় কমিশনার জানেন। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও রিসিভ করেনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত