আরও ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনা হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সিলেট

সিলেট সার্কিট হাউসে মতবিনিময় করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় ক্রীড়াবিদদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আরও ৫০০ ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এসব কথা বলেন।

এদিন সিলেট সার্কিট হাউসে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এতে তিনি বলেন, ‘আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রায় পাঁচশো সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে এনে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া মন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সংগৃহীত ছবি
সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ক্রীড়া মন্ত্রী যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সংগৃহীত ছবি

সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আমিনুল হক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের সব জেলায় একযোগে ‘নতুন ক্রীড়া কর্মসূচি’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন তিনি। প্রথম পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ মোট সাতটি ইভেন্ট নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এতে অংশ নেবে দেশের বিভিন্ন উপজেলার দল এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরা।

গত ১৬ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে বলে মন্তব্য করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ববর্তী সময়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। এর ফলেই স্টেডিয়ামের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

এর আগে খুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন আমিনুল হক। পরে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, বিসিবি পরিচালক রাহাত শামস, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ, ক্রীড়াবিদ রেজাউল করিম নাচন প্রমুখ।

সম্পর্কিত