চীনের সঙ্গে চুক্তি, হঠাৎ তুরস্কের ড্রোন কারখানা—কী হচ্ছে বগুড়ায়

স্ট্রিম গ্রাফিক

চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রায় ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি করে। বগুড়ায় সামরিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা করার কথা ছিল ওই চুক্তিতে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই এলো আরেক ঘোষণা।

এবার তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে বগুড়ায় ড্রোন কারখানা করবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি জানান, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের ড্রোন কারখানা বা শিল্পটি বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে নির্মাণ করা হবে।

এ ঘোষণার পরই প্রশ্ন উঠেছে—চীনের সঙ্গে আগের চুক্তির কী হলো? সেই প্রকল্প কি বাতিল? চীনের বদলে কি তুরস্ককে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ? নাকি একই জায়গায় দুটি আলাদা ড্রোন উৎপাদন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?

এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা তথ্য বলছে, চীনের প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত হয়নি। চুক্তি প্রত্যাহারেরও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। বরং বগুড়াকে ঘিরে দুটি পৃথক ড্রোন উৎপাদন উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। একটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চীনের সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প। অন্যটি তুরস্কের সঙ্গে নতুন যৌথ উদ্যোগ।

দুই প্রকল্পের কাজের সুনির্দিষ্ট ভাগ এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতার ধরন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভিন্ন প্রয়োজন ও প্রযুক্তিকে সামনে রেখে একাধিক ধারার ড্রোন সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে ঢাকা।

তুরস্কের কারখানায় বায়কার?

তুরস্কের কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোন কারখানা করবে, সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রকাশ করেনি। তবে প্রতিরক্ষা খাতের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে বায়কার টেকনোলজিসের নাম।

যুদ্ধক্ষেত্রে বহুল আলোচিত বায়রাকতার টিবি২ ড্রোন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি। আকিনজির মতো আরও উন্নত মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএভিও রয়েছে বায়কারের।

বাংলাদেশের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নতুন নয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এরই মধ্যে বায়রাকতার টিবি২ ব্যবহার করছে। ২০২২-২৩ সাল থেকে এ ড্রোন বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার অংশ। দেশে ড্রোনের যন্ত্রাংশ উৎপাদন, সংযোজন বা স্থানীয় উৎপাদন নিয়ে বায়কারের সঙ্গে আলোচনাও চলছে।

ফলে বগুড়ার নতুন কারখানায় বায়কার যুক্ত হলে সেটি তুরস্কের সঙ্গে চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হতে পারে।

বায়রাকতার টিবি২ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছে মূলত বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের কারণে। নাগোরনো-কারাবাখ ও ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতে এ ড্রোন ব্যবহার হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে নজরদারি ও আক্রমণ—দুই কাজেই ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামানের মতে, বিশ্বজুড়ে সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নে ড্রোন এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি। নাগোরনো-কারাবাখের মতো সংঘাতে ড্রোনের ভূমিকা দেখে অনেক দেশ এ প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। সক্ষমতা ও বাজেট—দুই দিক বিবেচনায় তুরস্কের বায়রাকতার বাংলাদেশের জন্য ভালো একটি বিকল্প।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শুধু ড্রোনে সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা এসএসবি দুই দেশের সামরিক শিল্প সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে বাংলাদেশে অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক যান ও ড্রোন উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তাহলে চীনের চুক্তির কী হলো

চীনের সঙ্গে ড্রোন কারখানার চুক্তি হয় গত ২৭ জানুয়ারি। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন বা সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এ চুক্তি করে। প্রকল্পের ব্যয় ৬০৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

চুক্তির আওতায় প্রস্তাবিত বগুড়া বিমানঘাঁটিতে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে এমএএলই ও ভিটিওএল, দুই শ্রেণির ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা।

সহজ ভাষায়, এমএএলই এমন ড্রোন, যা মাঝারি উচ্চতায় উঠে দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে। বড় এলাকা নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে এসব ড্রোন ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে ভিটিওএল ড্রোন হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে আকাশে উঠতে ও নামতে পারে। দীর্ঘ রানওয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে সীমিত জায়গা বা দুর্গম এলাকা থেকেও এগুলো পরিচালনা করা সম্ভব।

চীনের সহযোগিতায় স্থাপিত কারখানায় সিইটিসির এক্সওয়াই-১ মডেলের ড্রোন উৎপাদন হতে পারে বলে প্রতিরক্ষা খাতে আলোচনা ছিল। ২০২২ সালের ঝুহাই এয়ার শোতে প্রথম ড্রোনটি প্রদর্শন করা হয়। এর নকশার সঙ্গে তুরস্কের বায়রাকতার টিবি২র মিল নিয়েও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে চীনের প্রকল্প বাতিল হয়েছে, এমন কোনও সরকারি তথ্য নেই। ফলে তুরস্কের নতুন উদ্যোগকে চীনা প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে দেখার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, চীনের প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রয়োজনকে সামনে রেখে নেওয়া। তুরস্কের উদ্যোগটি সেনাবাহিনীর বিদ্যমান টিবি২ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বা দেশের বৃহত্তর ড্রোন সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

চীন থাকতে তুরস্ক কেন

বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী চীন। দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় অংশই চীনা উৎসের। যুদ্ধবিমান থেকে নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামে দীর্ঘদিন ধরে চীনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ।

তাহলে ড্রোন উৎপাদনে তুরস্ককে কেন যুক্ত করা হচ্ছে? এর বড় একটি কারণ হতে পারে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উৎস বহুমুখী করা।

গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের জন্য একটি দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণেই অনেক দেশ একই ধরনের সামরিক সক্ষমতার জন্য একাধিক দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। বাংলাদেশের চীন ও তুরস্কের সঙ্গে পৃথক ড্রোন উদ্যোগকেও এ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

দুই দেশের শক্তির জায়গাও আলাদা। চীন তুলনামূলক কম খরচে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে তুরস্কের বড় শক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ড্রোন প্রযুক্তি।

এ ছাড়া তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য হলেও নিজস্ব ও তুলনামূলক স্বাধীন প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতি অনুসরণ করে। পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় তুর্কি সামরিক প্রযুক্তির দাম কম। রাজনৈতিক ও রপ্তানি-সংক্রান্ত শর্তও অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয়।

ফলে একদিকে চীনের উৎপাদন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা, অন্যদিকে তুরস্কের যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ড্রোন—দুই ধারায় সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

চীন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাড়তে থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নজরে রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় ড্রোন উৎপাদন ও সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি ভারতের জন্য সংবেদনশীল। এর একটি কারণ শিলিগুড়ি করিডোর।

‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত ভারতের এ সরু ভূখণ্ড দেশটির মূল অংশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেছে। সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে উন্নত ড্রোন ও নজরদারি সক্ষমতা তৈরি হলে এ অঞ্চলে ঢাকার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও আকাশ নজরদারির ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির উদ্বেগের আরেকটি কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরও বিস্তৃত। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক। চীনা সামরিক প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকির বিষয়েও বাংলাদেশকে সতর্ক করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে বিকল্প হিসেবে ঢাকার সামনে তুলে ধরতে চায় ওয়াশিংটন।

এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ককে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। এটিকে চীন থেকে বাংলাদেশের সরে আসা বলা যাবে না। তবে ড্রোন শিল্পে একক চীনা প্রভাবের ধারণা কিছুটা কমাতে পারে তুরস্কের উপস্থিতি। কোনও একটি দেশের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা হিসেবেই এ কৌশলকে দেখা হচ্ছে।

কেন বগুড়া

দুই ড্রোন উদ্যোগের কেন্দ্র হিসেবে বগুড়াকে বেছে নেওয়ার পেছনে সামরিক ও অবকাঠামোগত কারণ রয়েছে।

পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দর দেশের পুরোনো বিমান অবকাঠামোর একটি। কয়েক দশক ধরে এটি প্রায় অব্যবহৃত। এখন বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই এলাকায় উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম বিশেষায়িত বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বর্তমানে বগুড়ায় বিমানবাহিনীর ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর স্কুল রয়েছে। সেখানে সিজে-৬ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নতুন আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হবে।

একই এলাকায় বিমানবন্দর, সামরিক বিমানঘাঁটি ও ড্রোন উৎপাদন কারখানা থাকলে ড্রোন তৈরি, পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ একই জায়গায় করা সম্ভব হবে। এতে একটি সমন্বিত উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কী চাইছে

বগুড়ার দুই ড্রোন উদ্যোগকে শুধু দুটি কারখানার পরিকল্পনা হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে। এখন লক্ষ্য, অন্তত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি দেশে আনা এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা।

সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনও বড় সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এসব ড্রোন সীমান্ত নজরদারি, আকাশসীমার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজে লাগতে পারে।

তবে দেশে কারখানা হলেই বাংলাদেশ ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হয়ে যাবে, বিষয়টি এত সহজ নয়। মূল প্রশ্ন হচ্ছে প্রযুক্তি হস্তান্তর কতটা হবে। বাংলাদেশ কি শুধু বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশ সংযোজন করবে? নাকি ধীরে ধীরে যন্ত্রাংশ, সফটওয়্যার ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও দেশে তৈরি করতে পারবে?

প্রকৃত সক্ষমতা নির্ভর করবে এসব প্রশ্নের উত্তরের ওপর। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশ চীনকে বাদ দিয়ে তুরস্কের দিকে যাচ্ছে না। আবার শুধু চীনের ওপরও নির্ভর করতে চাইছে না।

বরং চীনের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সহযোগিতার পাশাপাশি তুরস্কের যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ড্রোন প্রযুক্তিকেও কাজে লাগাতে চাইছে ঢাকা। দৃশ্যত, একটি প্রকল্পের জায়গায় আরেকটি নয়। দুটি পৃথক পথে একই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চলছে—দেশে নিজস্ব ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা।

তবে তুরস্কের প্রকল্পে কোন প্রতিষ্ঠান থাকবে, কত টাকা বিনিয়োগ হবে, কোন মডেলের ড্রোন তৈরি হবে এবং চীন ও তুরস্কের দুই উদ্যোগের কাজের সুনির্দিষ্ট ভাগ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো সরকার প্রকাশ করেনি। এসব তথ্য সামনে এলে বগুড়াকে ঘিরে বাংলাদেশের পুরো পরিকল্পনা আরও পরিষ্কার হবে।

আপাতত এটুকু বলা যায়, বগুড়ায় শুধু ড্রোন তৈরির কারখানা হচ্ছে না। বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, নতুন বিমানঘাঁটি ও একাধিক ড্রোন উৎপাদন উদ্যোগ মিলিয়ে সেখানে একটি নতুন সামরিক উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। আর সে কারণেই বগুড়ার দিকে এখন নজর রয়েছে দিল্লি, বেইজিং ও ওয়াশিংটনেরও।

Ad 300x250

সম্পর্কিত