বদলগাছীতে ইউএনও বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ: তদন্তে অস্বীকার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নওগাঁ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৩১
গত ১ এপ্রিল আসাদুজ্জামান টুটুল ভূমি অফিসের গেটের সামনে ভ্যানে করে মাইকিং করেন

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছিলেন আসাদুজ্জামান টুটুল নামে এক ব্যক্তি। আলোচিত সেই ঘটনার তদন্ত চলাকালে নিজের বক্তব্য থেকে সরে এসে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) সাদিয়া আফরিনের সামনে দেওয়া বক্তব্যে টুটুল স্বীকার করেন যে, ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানে মাইকিং করার পদ্ধতি তাঁর ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, ‘এভাবে জনসম্মুখে প্রচারণা চালানো অনুচিত ছিল’। তবে একইসঙ্গে তিনি খাজনা আদায়ের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর আপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সেটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে সংশোধনের দাবি জানান।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১ এপ্রিল। ওইদিন আসাদুজ্জামান টুটুল ভূমি অফিসের গেটের সামনে ভ্যানে করে মাইকিং করেন এবং খাজনা আদায়ের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাঁকে ইউএনও কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পরপরই টুটুল ইউএনও’র বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উত্থাপন করেন, যা খুব দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক বা প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগটি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি স্বচ্ছভাবে তদন্তের জন্য প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিযোগকারী নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করায় পুরো ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

সাংবাদিকদের সামনে টুটুল বলেন, ‘মারামারির ঘটনাটি আসলে ভুল বোঝাবুঝি। এভাবে মাইকিং করা ঠিক হয়নি।’

কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনূর ইসলাম স্বপন বলেন, ‘এডিসি তদন্তে আসার খবরে আমি এখানে এসেছি। আপনাদের সবার সামনে ভুক্তভোগী টুটুল বলল, সবই ছিল ভুল বোঝাবুঝি।’

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানিয়েছেন, তিনি কেবল স্মারকলিপি গ্রহণের উদ্দেশ্যে টুটুলকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকেছিলেন। তিনি যে অভিযোগ তুলেছেন, তার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে।

তদন্তে কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া আফরিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন আমরা তৈরি করছি। কয়েকদিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত