ঘরে প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ, পাশে স্ত্রী-শিশু সন্তানের নিথর দেহ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ১১
মানিকগঞ্জে নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পাঠানো হচ্ছে মর্গে। স্ট্রিম ছবি
মানিকগঞ্জে নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ পাঠানো হচ্ছে মর্গে। স্ট্রিম ছবি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ঘরের দরজা ভেঙে দেড় বছরের সন্তানসহ দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি ঘোনাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন— সৌদিপ্রবাসী আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) ও দেড় বছরের মেয়ে আলিজা আক্তার। তাদের মধ্যে প্রিয়াঙ্কার কপালে জখম এবং আলিজার গলায় আঙুলের দাগ পেয়েছে পুলিশ। আর আকরামের লাশ ঝুলছিল ঘরের আড়ায়। পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন আকরাম।

আকরামের পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান তিনি। সকাল পেরিয়ে গেলেও তারা বের না হওয়ায় আকরামের মা দরজার ফাঁকা দিয়ে উঁকি দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। পরে তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে দরজা ভেঙে তিনজনেরই মরদেহ পায়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আকরাম স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের জন্য আকরামের পরিবারকে দায়ী করেছেন প্রিয়াঙ্কার মা আলিয়া বেগম। তিনি বলেন, মেয়ের সঙ্গে জামাই সব সময় ভালো ব্যবহার করত। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রিয়াঙ্কাকে খুব একটা পছন্দ করত না।

তিনি অভিযোগ করেন, দুই মাস আগে আকরাম বিদেশ থেকে আসার পর কারও সঙ্গে তেমন একটা কথা বলত না, একা একা থাকত। ভাই-বোনেরা প্রিয়াঙ্কার বিষয়ে তার মন বিষিয়ে তুলেছিল। মানসিক চাপ থেকে সে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান।

আকরামের খালা জাহানারা বেগম বলেন, এবার দেশে ফেরার পর আকরাম তেমন একটা বাড়ির বাইরে যেত না। কয়েক দিন আগে তাকে জিজ্ঞেস করলে বলে, খালা আমার শরীরটা খুব একটা ভালো নেই। এরপর পরিবারের লোকজনকে বলেছিলাম ওর চিকিৎসা করাতে।

আকরামের প্রতিবেশী মামুনুর রশীদ বলেন, আকরাম খুব ভালো মানুষ ছিল। দুই মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো সে দেশে আসে। তবে এবার তার চালচলন স্বাভাবিক ছিল না। সব সময় বাড়িতেই থাকত। আমাদের ধারণা, পারিবারিক কলহের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত