গ্যাসের চাপ বাড়ায় সাভার-আশুলিয়ার কারখানায় গতি ফিরছে
স্ট্রিম সংবাদদাতাসাভার (ঢাকা)

গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে উৎপাদনে গতি ফিরছে। গত দুই দিনে গ্যাসের চাপ বাড়ায় উৎপাদন আবার চাঙ্গা হচ্ছে বলে শিল্পমালিকরা জানিয়েছেন।
উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি ধরে রাখা গেলে দীর্ঘসময়ের উৎপাদন ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তবে এর পাশাপাশি ব্যাংক সহায়তা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের বকেয়া বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চান তারা।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ইপিজেডসহ সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ছোট-বড় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কারখানা রয়েছে। বেশিরভাগই তৈরি পোশাক শিল্পের। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন প্রায় ৮ লাখ শ্রমিক।
গ্যাস সরবরাহ সংকটের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কারখানাগুলোর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রয়োজন প্রায় ১০ পিএসআই। সরবরাহ সংকটে অনেক সময় তা এক পিএসআই পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। এতে বয়লার ও ডাইং ইউনিট চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উৎপাদন সচল রাখতে তখন অনেক কারখানাকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। কিন্তু এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় কয়েক গুণ। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে যাওয়ায় কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
তবে সরকারি সিদ্ধান্ত ও তিতাস গ্যাসের বিশেষ উদ্যোগে গত দুদিনে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। এতে গ্যাসের চাপ বেড়ে ৭ পিএসআই পর্যন্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ফাউন্টেন গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিক বলেন, ‘গ্যাস-সংকটের কারণে দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এখন প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও ৭ পিএসআই চাপ পাওয়ায় পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু গ্যাস সরবরাহে উন্নতি হলেই হবে না। উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে নিতে ব্যাংক সহায়তা এবং জমে থাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ প্রয়োজন। তাহলে আমরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’
নরসিংহপুরের আল মুসলিম গ্রুপের এজিএম (অ্যাডমিন) সেন্টু তালুকদার বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস মিলছে না। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে সরবরাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
গ্যাসের চাপ বাড়ায় এরই মধ্যে কারখানার বয়লার ও ভারী যন্ত্রপাতি চালু করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমিকদের অলস বসে থাকাও কমেছে। এখন কারখানাগুলোর বড় লক্ষ্য হলো জমে থাকা অর্ডারের কাজ শেষ করা। দীর্ঘ সময় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় যে ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে অনেক কারখানায় বাড়তি গতিতে কাজ চলছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ঢাকা ও ধামরাই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সিস্টেমে গ্যাসের চাপ বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহে উন্নতি হচ্ছে। তবে সব এলাকায় একই সময়ে চাপ বাড়ানো সম্ভব নয়।’ অঞ্চলভেদে ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়বে বলে জানান তিনি।
.png)






