তৌফিক হাসান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের এই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়, সম্প্রতি তা ঢাকা স্ট্রিমের হাতে এসেছে।
তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকারের পাঠানো ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ৮০টিই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আলোচিত সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাও রয়েছে। শুধু মামলাই নয়, এই ৮০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ৫৩টিকে নথিভুক্ত করে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দুদক।
১৯৭৮ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার বন্ধ হয়ে যায় এই শ্রমবাজার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৫ সালে কর্মী পাঠানোর নামে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট তৈরি করে জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার।
এরপর দুই দেশের মধ্যে অনেক আলোচনার পর ২০২২ সালের আগস্টে বাজারটির পুনরায় চালু করে মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৫৪৯) স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন এবং মালয়েশিয়ার আইটি কোম্পানি বেসটিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতোশ্রি আমিন নুরের নেতৃত্বে অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। যা পরে ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটে পরিণত হয়। সবশেষ ২০২৪ সালের ৩১ মে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কর্মী পাঠানো। এরপর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও বাজারটি চালু করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্সিকে তালিকায় রেখে এভাবে শ্রমবাজার চালু করা গেলেও আগের মতোই অনিয়ম থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা আবার বাজারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামে আলাদা মামলা করে দুদক। তবে এর মধ্যে ৬০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নথিভুক্ত করে তাঁদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। সেই তদন্ত এখনও চলমান বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া শ্রমবাজার ইস্যুতে যে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে।’
তদন্ত চলমান থাকার পরও সেই ৬০ এজেন্সির মধ্যে ৫৩টির নাম অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো তালিকায় পাওয়া গেছে। এজেন্সিগুলো হলো—মো. সাইফুল নুরের ত্রিবেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ২২), মাজেদা বেগমের জনতা ট্রাভেলস লিমিটেড (আরএল ১৮৪), সৈয়দ গোলাম সরোয়ারের মের্সাস হায়দরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ২৪০), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার আল বোখারী ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩০১), মো. গোলাম মোস্তফার প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরিসম লিমিটেড (আরএল ৩১০), শাহাদাত হোসেনের ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৪৫), উবায়েদুল হক শরীফের নিউ হেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৩৪৬), মোহাম্মদ আবুল বাসারের মেসার্স আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৫৪), নুর মোহাম্মদ তালুকদারের পিএন এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি ঢাকা লিমিটেড (আরএল ৩৭৬), এসএম রফিকের ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড (আরএল ৪৮৬), হুমায়ুন কবীরের দি সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড (আরএল ৫০১), মো. আমিনুর রহমান হারুনের ম্যাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৫০৪), সায়েম মোহাম্মদ হাসানের মেসার্স আগা ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৫৩০), মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের এলিগ্যান্টস ওভারসেজ লিমিটেড (আরএল ৫৪৪) এবং রাজিব আহমেদের কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ (আরএল ৫৭৩)।
তালিকায় আরও আছে, ইউসুফ নবীর ইস্ট ওয়েস্ট প্যারাডাইস (আরএল ৬১৯), নাসির উদ্দিন মজুমদার সিরাজের মদিনা ওভারসেজ প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ৬৩৯), রেজিয়া বেগমের মেসার্স আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৬৮০), শওকত হোসেন শিকদারের মেসার্স নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৭০৩), কাজী মোহাম্মদ ফুহাদুর রহমানের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এন্ড সন্স লিমিটেড (আরএল ৭০৫), মো. রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারির আমান এন্টারপ্রাইজ (আরএল ৭২৪), এবিএম শামসুল আলম কাজলের শান ওভারসিজ (আরএল ৭৫৯), শেখ আজগর নস্করের মেসার্স গ্যালাক্সি কর্পোরেশন (আরএল ৭৯৫), ফেরদৌস আহম্মেদ বাদলের দি গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৮৯১), আলতাফ হোসাইনের সুলতান ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৯০৬), মো. আশরাফউদ্দিনের প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৯৩২), আসলাম খানের দেশারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৯৪৫), মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ম্যানেজ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (আরএল ৯৭৩), কাউসার মৃধার মৃধা ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন (আরএল ১১০৮), মিসেস লিনা রহমানের মেসার্স ঐশি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১১৪১), শহীদুল আলমের রমনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১১৭২), মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মেসার্স আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (আরএল ১১৯৪), মো. সুলাইমানের বিডি গ্লোবাল বিজনেস (আরএল ১২৩১), মাহবুব মিয়ার দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ১২৯৫), মাজহারুল ইসলামের পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১২৯৮), মো. নাজিবুর রহমানের নাতাশা ওভারসিজ (আরএল ১৩১৫), মো. রফিকুল হোসেনের কাশীপুর ওভারসিজ (আরএল ১৩১৭), আরিফুর রহমানের অপরাজিতা ওভারসিজ (আরএল ১৩১৮), শাহ জামাল মোস্তফার আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৩২৬), সামিউর রহমানের রানওয়ে ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৩৪১), উত্তম কুমার রায়ের স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ১৩৫২), মোহাম্মদ শাহ আলমের বেসিক পাওয়ার এন্ড কেয়ার ওভারসিজ (আরএল ১৪১৮), জামাল আবু জাঈদের ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৪৭২), জাকির আহমেদ ভূঁইয়ার আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্স এন্ড কন্সালট্যান্সি (আরএল ১৪৮৫), রাশাদ আবেদীনের এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৫৩০), মো. রাকিবুল ইসলাম শাহিনের মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৫৬৭), রফিকুল ইসলামের ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৫৭১), তাছলিমা আক্তারের এশা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৫৯৭), শিউলী বেগমের মালয়েশিয়া বাংলাদেশে হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ১৬৭৫), মেহেদি হাসানের কমফোর্ট ওভারসিজ কন্সালট্যান্ট লিমিটেড (আরএল ১৭৩৯), মো. জাহাঙ্গীর কবীরের এএনজেড মাল্টি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৭৬৪), আক্তার হোসেনের আক্তার রিক্রুটিং এজেন্সি (আরএল ১৮৪৮) ও মোহাম্মদ সোহেল রানার জে.জি আল ফালাহ ম্যানেজম্যান্ট (আরএল ১৮৬১)।
দুদকের তথ্য মতে, এই ৫৩টি এজেন্সি আওয়ামী লীগ আমলে ২ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। যার বিপরীতে এজেন্সিগুলো আয় করেছিল ৪ হাজার ৮ কোটি ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তদন্তাধীন ছাড়াও মামলা চলছে—এমন ২৭টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামও তালিকায় খুঁজে পাওয়া গেছে। এই এজেন্সিগুলো হলো, রেহানা আরজুমানের গ্রিন ল্যান্ড ওভারসিজ (আরএল ৪০), হাফজুল বারী মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইরবিং এন্টারপ্রাইজ (আরএল ২১৫), মোহাম্মদ বাছিরের রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ২৫৮), মো. শফিকুল আলম ফিরোজের জাহারাত এসোসিয়েট (আরএল ২৮৫), এম এ সোবহান ভূঁইয়ান হাসানের বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৫১), মনসুর আহমেদ কামালের আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড (আরএল ৩৮৪), মোহাম্মদ মুনসুর ভূঁইয়ানের কিউকে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড (আরএল ৪৪১), গোলাম মাওলার জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ৪৯০), শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমানের সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৪৯২), মো. আব্দুল হাইয়ের সিলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৫০৩) এবং মানজুর কাদেরের সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬২২)।
তালিকায় আরও আছে, মোহাম্মদ রফিকুল হায়দার ভূঁইয়ানের মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬৩১), মাহফুজুল হকের উইনার ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬৬৪), শেখ মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের নাভিরা লিমিটেড (আরএল ৭১২), নোমান চৌধুরীর ধামাসি কর্পোরেশন লিমিটেড (আরএল ৭২৭), হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৯৩৩), রুহুল আমিনের আমিন ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস (আরএল ৯৮১), বিশ্বজিৎ সাহার অদিতি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৯৮৩), কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল আদিব এয়ার ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (আরএল ১০২৪), মনির হোসেনের দি জিএমজি এসোসিয়েটস লিমিটেড (আরএল ১১৪৩), মো. আলমগীর কবিরের আর আরসি হিউম্যান রিসোর্স সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৩০৭), লিমা বেগমের জান্নাত ওভারসিজ (আরএল ১৪১৯), মো. শফিকুল ইসলাম বাছেকের বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড (আরএল ১৪২১), নাফিসা কামালের অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৪৫৭), শামসের আহমেদের টানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৭৭৯) এবং গোলাম রাকিবের পিআর ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ১৯২৮)।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১০টি শর্ত জুড়ে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। যার থেকে তিনটি শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে সেই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি দেশটির সরকার। শুধু চিঠির উত্তর নয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার বিষয়ে কিছু জানায়নি দেশটির সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার ওই তালিকা তৈরিতে এই শর্তের বিষয়ে লুকোচুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলছেন, ‘এই তালিকা প্রস্তুতের সময় অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়ার দেওয়া ক্রাইটেরিয়ার (শর্ত) কথা জানিয়েছিল। এর ফলে আমরাসহ অনেক স্বচ্ছ ব্যবসায়ী আবেদনই করিনি। কিন্তু পরর্বর্তী সময়ে যখন আমরা মন্ত্রী (উপদেষ্টা) এবং সচিবের সঙ্গে বসলাম, তখন আমাদের বলল যে ওই ক্রাইটেরিয়ার (শর্ত) তিনটি পয়েন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বললাম আমাদের কেন তা জানানো হয়নি। তাঁরা কোনও উত্তর দেয়নি। তার মানে ওই ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে যে বাছাই হয়েছে, তা একদিকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই হয়েছে; অন্যদিকে তিনটা পয়েন্ট বাদ দিলেও আমাদের জানানো হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্ট্রিমকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকার আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পাঠিয়েছিল। সেসব ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি টিম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা তৈরি করেছিল। মালয়েশিয়া আমাদের কাছে জানতে চায়নি যে কার বিরুদ্ধে মামলা আছে আর কার বিরুদ্ধে নেই। তাছাড়া যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তারা দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাদ দেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের ছিল না।’
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা তো আমার জানার বিষয় না। তবে আমার জানামতে সবাইকে জানানো হয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ওই তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই, তালিকা নতুন করে তৈরি করা হোক।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে দেশটিতে সফর করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তবে দেশটিতে জনবল পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা নতুন করে করা হবে নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো তালিকাই থাকবে, সে বিষয়ে সঠিক কোনও তথ্য দিতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরের পর এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কোনও ব্রিফ করেনি। এর ফলে কীভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে আর অন্তবর্তী সরকারের পাঠানো তালিকায় কর্মী পাঠানো হবে নাকি নতুন তালিকা তৈরি হবে তাও ঠিক করা হয়নি।
তবে গত ১২ এপ্রিল সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। মালয়েশিয়ায় আবারও কর্মী পাঠাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কম খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে চায়। তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এসব বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন সেদিন বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী—উভয়ই এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’
‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, এই প্রক্রিয়া নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায় এমন সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করতে পারবে, তাদেরই যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে সক্ষম হব।’
এদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু এই তালিকার এজেন্সি দিয়েই কর্মী পাঠানো হবে কিনা এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
মামলাগুলো সমাধানের আগেই এই এজেন্সিগুলোকে দিয়ে কর্মী পাঠানো শুরু হলে একই জিনিস আবার ঘটবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এতো তাড়াহুড়ো করে মালয়েশিয়া বাজার চালু করার আসলে যুক্তি নাই। এই কারণে যে কিছু চলমান মামলা, কিছু চলমান প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্সি, ব্যক্তি এই বিষয়গুলো এখনো ঠিক করা হয়নি। আমরা যে যৌথ বিবৃতি দেখলাম সেখানেও এমন ধরনের কোনো কিছু নাই যেটা খুব কনক্রিটভাবে এই সমস্যাগুলোকে সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এগুলোর সমাধান যদি খুব কনক্রিট ভাবে না হয় তাহলে যেটা হবে যে একই জিনিসই আবার হবে, নতুন করে কিছু হবে না।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালুর একাধিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের এই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়, সম্প্রতি তা ঢাকা স্ট্রিমের হাতে এসেছে।
তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরকারের পাঠানো ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ৮০টিই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আলোচিত সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাও রয়েছে। শুধু মামলাই নয়, এই ৮০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে ৫৩টিকে নথিভুক্ত করে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দুদক।
১৯৭৮ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার বন্ধ হয়ে যায় এই শ্রমবাজার। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৫ সালে কর্মী পাঠানোর নামে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট তৈরি করে জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা। এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেলে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া সরকার।
এরপর দুই দেশের মধ্যে অনেক আলোচনার পর ২০২২ সালের আগস্টে বাজারটির পুনরায় চালু করে মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু সে সময় বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৫৪৯) স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন এবং মালয়েশিয়ার আইটি কোম্পানি বেসটিনেটের মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতোশ্রি আমিন নুরের নেতৃত্বে অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়। যা পরে ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটে পরিণত হয়। সবশেষ ২০২৪ সালের ৩১ মে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কর্মী পাঠানো। এরপর থেকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও বাজারটি চালু করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্সিকে তালিকায় রেখে এভাবে শ্রমবাজার চালু করা গেলেও আগের মতোই অনিয়ম থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা আবার বাজারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামে আলাদা মামলা করে দুদক। তবে এর মধ্যে ৬০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে নথিভুক্ত করে তাঁদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে সংস্থাটি। সেই তদন্ত এখনও চলমান বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া শ্রমবাজার ইস্যুতে যে রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে।’
তদন্ত চলমান থাকার পরও সেই ৬০ এজেন্সির মধ্যে ৫৩টির নাম অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো তালিকায় পাওয়া গেছে। এজেন্সিগুলো হলো—মো. সাইফুল নুরের ত্রিবেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ২২), মাজেদা বেগমের জনতা ট্রাভেলস লিমিটেড (আরএল ১৮৪), সৈয়দ গোলাম সরোয়ারের মের্সাস হায়দরী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ২৪০), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার আল বোখারী ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩০১), মো. গোলাম মোস্তফার প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরিসম লিমিটেড (আরএল ৩১০), শাহাদাত হোসেনের ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৪৫), উবায়েদুল হক শরীফের নিউ হেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৩৪৬), মোহাম্মদ আবুল বাসারের মেসার্স আল রাবেতা ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৫৪), নুর মোহাম্মদ তালুকদারের পিএন এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি ঢাকা লিমিটেড (আরএল ৩৭৬), এসএম রফিকের ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড (আরএল ৪৮৬), হুমায়ুন কবীরের দি সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড (আরএল ৫০১), মো. আমিনুর রহমান হারুনের ম্যাচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৫০৪), সায়েম মোহাম্মদ হাসানের মেসার্স আগা ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৫৩০), মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের এলিগ্যান্টস ওভারসেজ লিমিটেড (আরএল ৫৪৪) এবং রাজিব আহমেদের কিসওয়া এন্টারপ্রাইজ (আরএল ৫৭৩)।
তালিকায় আরও আছে, ইউসুফ নবীর ইস্ট ওয়েস্ট প্যারাডাইস (আরএল ৬১৯), নাসির উদ্দিন মজুমদার সিরাজের মদিনা ওভারসেজ প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ৬৩৯), রেজিয়া বেগমের মেসার্স আল খামিস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৬৮০), শওকত হোসেন শিকদারের মেসার্স নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৭০৩), কাজী মোহাম্মদ ফুহাদুর রহমানের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এন্ড সন্স লিমিটেড (আরএল ৭০৫), মো. রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারির আমান এন্টারপ্রাইজ (আরএল ৭২৪), এবিএম শামসুল আলম কাজলের শান ওভারসিজ (আরএল ৭৫৯), শেখ আজগর নস্করের মেসার্স গ্যালাক্সি কর্পোরেশন (আরএল ৭৯৫), ফেরদৌস আহম্মেদ বাদলের দি গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৮৯১), আলতাফ হোসাইনের সুলতান ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৯০৬), মো. আশরাফউদ্দিনের প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৯৩২), আসলাম খানের দেশারি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৯৪৫), মোহাম্মদ মাহবুব আলমের ম্যানেজ পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেড (আরএল ৯৭৩), কাউসার মৃধার মৃধা ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন (আরএল ১১০৮), মিসেস লিনা রহমানের মেসার্স ঐশি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১১৪১), শহীদুল আলমের রমনা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১১৭২), মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মেসার্স আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (আরএল ১১৯৪), মো. সুলাইমানের বিডি গ্লোবাল বিজনেস (আরএল ১২৩১), মাহবুব মিয়ার দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ১২৯৫), মাজহারুল ইসলামের পাথ ফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১২৯৮), মো. নাজিবুর রহমানের নাতাশা ওভারসিজ (আরএল ১৩১৫), মো. রফিকুল হোসেনের কাশীপুর ওভারসিজ (আরএল ১৩১৭), আরিফুর রহমানের অপরাজিতা ওভারসিজ (আরএল ১৩১৮), শাহ জামাল মোস্তফার আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৩২৬), সামিউর রহমানের রানওয়ে ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৩৪১), উত্তম কুমার রায়ের স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ১৩৫২), মোহাম্মদ শাহ আলমের বেসিক পাওয়ার এন্ড কেয়ার ওভারসিজ (আরএল ১৪১৮), জামাল আবু জাঈদের ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৪৭২), জাকির আহমেদ ভূঁইয়ার আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্স এন্ড কন্সালট্যান্সি (আরএল ১৪৮৫), রাশাদ আবেদীনের এসওএস ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৫৩০), মো. রাকিবুল ইসলাম শাহিনের মুবিন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৫৬৭), রফিকুল ইসলামের ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৫৭১), তাছলিমা আক্তারের এশা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৫৯৭), শিউলী বেগমের মালয়েশিয়া বাংলাদেশে হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ১৬৭৫), মেহেদি হাসানের কমফোর্ট ওভারসিজ কন্সালট্যান্ট লিমিটেড (আরএল ১৭৩৯), মো. জাহাঙ্গীর কবীরের এএনজেড মাল্টি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৭৬৪), আক্তার হোসেনের আক্তার রিক্রুটিং এজেন্সি (আরএল ১৮৪৮) ও মোহাম্মদ সোহেল রানার জে.জি আল ফালাহ ম্যানেজম্যান্ট (আরএল ১৮৬১)।
দুদকের তথ্য মতে, এই ৫৩টি এজেন্সি আওয়ামী লীগ আমলে ২ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। যার বিপরীতে এজেন্সিগুলো আয় করেছিল ৪ হাজার ৮ কোটি ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তদন্তাধীন ছাড়াও মামলা চলছে—এমন ২৭টি রিক্রুটিং এজেন্সির নামও তালিকায় খুঁজে পাওয়া গেছে। এই এজেন্সিগুলো হলো, রেহানা আরজুমানের গ্রিন ল্যান্ড ওভারসিজ (আরএল ৪০), হাফজুল বারী মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের ইরবিং এন্টারপ্রাইজ (আরএল ২১৫), মোহাম্মদ বাছিরের রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ২৫৮), মো. শফিকুল আলম ফিরোজের জাহারাত এসোসিয়েট (আরএল ২৮৫), এম এ সোবহান ভূঁইয়ান হাসানের বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৩৫১), মনসুর আহমেদ কামালের আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড (আরএল ৩৮৪), মোহাম্মদ মুনসুর ভূঁইয়ানের কিউকে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড (আরএল ৪৪১), গোলাম মাওলার জিএমজি ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড (আরএল ৪৯০), শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমানের সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৪৯২), মো. আব্দুল হাইয়ের সিলিব্রিটি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৫০৩) এবং মানজুর কাদেরের সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬২২)।
তালিকায় আরও আছে, মোহাম্মদ রফিকুল হায়দার ভূঁইয়ানের মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬৩১), মাহফুজুল হকের উইনার ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ৬৬৪), শেখ মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের নাভিরা লিমিটেড (আরএল ৭১২), নোমান চৌধুরীর ধামাসি কর্পোরেশন লিমিটেড (আরএল ৭২৭), হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের মেরিট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ৯৩৩), রুহুল আমিনের আমিন ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস (আরএল ৯৮১), বিশ্বজিৎ সাহার অদিতি ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ৯৮৩), কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল আদিব এয়ার ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস (আরএল ১০২৪), মনির হোসেনের দি জিএমজি এসোসিয়েটস লিমিটেড (আরএল ১১৪৩), মো. আলমগীর কবিরের আর আরসি হিউম্যান রিসোর্স সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল ১৩০৭), লিমা বেগমের জান্নাত ওভারসিজ (আরএল ১৪১৯), মো. শফিকুল ইসলাম বাছেকের বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড (আরএল ১৪২১), নাফিসা কামালের অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল ১৪৫৭), শামসের আহমেদের টানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ১৭৭৯) এবং গোলাম রাকিবের পিআর ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল ১৯২৮)।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১০টি শর্ত জুড়ে দেয় মালয়েশিয়া সরকার। যার থেকে তিনটি শর্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৪ নভেম্বর মালয়েশিয়া সরকারকে চিঠি দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে সেই চিঠির কোনো উত্তর দেয়নি দেশটির সরকার। শুধু চিঠির উত্তর নয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার বিষয়ে কিছু জানায়নি দেশটির সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকার ওই তালিকা তৈরিতে এই শর্তের বিষয়ে লুকোচুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলছেন, ‘এই তালিকা প্রস্তুতের সময় অন্তর্বর্তী সরকার মালয়েশিয়ার দেওয়া ক্রাইটেরিয়ার (শর্ত) কথা জানিয়েছিল। এর ফলে আমরাসহ অনেক স্বচ্ছ ব্যবসায়ী আবেদনই করিনি। কিন্তু পরর্বর্তী সময়ে যখন আমরা মন্ত্রী (উপদেষ্টা) এবং সচিবের সঙ্গে বসলাম, তখন আমাদের বলল যে ওই ক্রাইটেরিয়ার (শর্ত) তিনটি পয়েন্ট বাদ দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বললাম আমাদের কেন তা জানানো হয়নি। তাঁরা কোনও উত্তর দেয়নি। তার মানে ওই ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে যে বাছাই হয়েছে, তা একদিকে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই হয়েছে; অন্যদিকে তিনটা পয়েন্ট বাদ দিলেও আমাদের জানানো হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্ট্রিমকে বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকার আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পাঠিয়েছিল। সেসব ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি টিম রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা তৈরি করেছিল। মালয়েশিয়া আমাদের কাছে জানতে চায়নি যে কার বিরুদ্ধে মামলা আছে আর কার বিরুদ্ধে নেই। তাছাড়া যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তারা দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাদ দেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের ছিল না।’
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা তো আমার জানার বিষয় না। তবে আমার জানামতে সবাইকে জানানো হয়েছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ওই তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই, তালিকা নতুন করে তৈরি করা হোক।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে দেশটিতে সফর করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তবে দেশটিতে জনবল পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা নতুন করে করা হবে নাকি অন্তর্বর্তী সরকারের পাঠানো তালিকাই থাকবে, সে বিষয়ে সঠিক কোনও তথ্য দিতে পারেনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরের পর এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কোনও ব্রিফ করেনি। এর ফলে কীভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে আর অন্তবর্তী সরকারের পাঠানো তালিকায় কর্মী পাঠানো হবে নাকি নতুন তালিকা তৈরি হবে তাও ঠিক করা হয়নি।
তবে গত ১২ এপ্রিল সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। মালয়েশিয়ায় আবারও কর্মী পাঠাতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কম খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে চায়। তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এসব বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন সেদিন বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী—উভয়ই এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।’
‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, এই প্রক্রিয়া নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায় এমন সব দেশের জন্যই প্রযোজ্য। যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করতে পারবে, তাদেরই যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে সক্ষম হব।’
এদিকে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার সিদ্দিকুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকারের আমলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪২১টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়। কিন্তু এই তালিকার এজেন্সি দিয়েই কর্মী পাঠানো হবে কিনা এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
মামলাগুলো সমাধানের আগেই এই এজেন্সিগুলোকে দিয়ে কর্মী পাঠানো শুরু হলে একই জিনিস আবার ঘটবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘এতো তাড়াহুড়ো করে মালয়েশিয়া বাজার চালু করার আসলে যুক্তি নাই। এই কারণে যে কিছু চলমান মামলা, কিছু চলমান প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্সি, ব্যক্তি এই বিষয়গুলো এখনো ঠিক করা হয়নি। আমরা যে যৌথ বিবৃতি দেখলাম সেখানেও এমন ধরনের কোনো কিছু নাই যেটা খুব কনক্রিটভাবে এই সমস্যাগুলোকে সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এগুলোর সমাধান যদি খুব কনক্রিট ভাবে না হয় তাহলে যেটা হবে যে একই জিনিসই আবার হবে, নতুন করে কিছু হবে না।’

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি গুদামে অবৈধভাবে মজুত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি ও মজুতের অভিযোগে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম শাকিলকে আটক করেছে পুলিশ।
১৮ মিনিট আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে বাতিলের পর পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম বহাল রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
দিনাজপুর শহরে বাড়ির ভেতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌরসভার সুইহারি আশ্রমপাড়া এলাকার এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডারে ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। নিহত তপন সরকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো।
২ ঘণ্টা আগে