ব্যবসায়ীকে হুমকি ছাত্রদল নেতার, বাড়ির ইট সুদ্ধা থাকব না

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাভার (ঢাকা)

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০: ২৫
ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিন। ছবি: সংগৃহীত

‘আরামেই থাকতে চাইয়েন, ইয়ার বাইরে যাইতে না কইরেন। নাইলে বাড়ির ইট সুদ্ধা থাকব না’– ঢাকার ধামরাইয়ের ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে এই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ধামরাই উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাফিজুল ইসলাম রবিনের বিরুদ্ধে।

হুমকি দেওয়ার কারণ তুলে ধরে রবিন বলেন, ‘সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছেন।’

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ধামরাইয়ের ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভাড়ারিয়া বাজারে তাঁর কাপড়ের দোকান রয়েছে। সাদ্দামের দাবি, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত একটি কাজে সহায়তা করার পর থেকে রবিনের সহযোগী জাকারিয়া আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা।

গত ১৪ আগস্ট ছাত্রদল নেতা রবিন নিজের ফেসবুকে একটি ভিডিও দেন। সেখানে ১০-১৫ সহযোগীসহ তাঁকে সাদ্দামের বাড়ির সামনে এক নারীর সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে রবিন বলেন, ‘আরামেই থাকতে চাইয়েন। ইয়ার বাইরে যাইতে না কইরেন।’

তখন ওই নারী বলেন, ‘একটা বানোয়াট কথা বলবেন আইসা।’ এবার রবিন বলেন, ‘নাইলে বাড়ির ইট সুদ্ধা থাকব না। পুরুষ মানুষ আছে? থাকলে বইলেন। ডাউটিয়া যাইয়া মিছিল করার সাহস পাইলো কেমনে?’

ভিডিওতে দেখা যায়, আরেক নারী এসে রবিনের কথার প্রতিবাদ করেন। তিনি বলতে থাকেন, ‘কি জন্য আইছস, কি চাস তোরা? দল ধরে আসছস। সন্ত্রাসী নিয়ে যেনেহেনে যাস?’ তখন রবিনের এক সহযোগী বলেন, ‘এখানে সবাই ছাত্রদলের।’ তখন ওই নারী বলেন, ‘কিসের ছাত্রদল, সন্ত্রাসী তোরা। কোপাইতে আসো বাড়িতে।’

ভিডিওটি ১৪ জুলাইয়ের বলে জানিয়েছেন রবিন ও সাদ্দাম। এর কয়েক দিন আগে ধামরাইয়ের ডাউটিয়া এলাকায় ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করে। জানতে চাইলে রবিন বলেন, ডাউটিয়া বাসস্ট্যান্ডে ছাত্রলীগের ওই মিছিলের পরে আমাকে জেলার নেতারা ফোন করে বলেন– ‘তোমার উপজেলায় কীভাবে ছাত্রলীগ মিছিল হয়?’ আমি খোঁজ নিয়ে পেয়েছি, পৌরসভায় দু-একজন ছেলের এই মিছিলের অর্থদাতা ভাড়ারিয়ার সাদ্দাম। তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। তিন মাস জেলেও ছিলেন। এরপর ওইদিন আমি সাদ্দামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর অভিভাবকদের বিষয়টি বলে এসেছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটু সাবধান করে আসছি। বাসায় যাওয়াতে একটু হইহুল্লা হইছে, চিল্লাচিল্লি হইছে। এই কারণে ও (সাদ্দাম) একটি মিথ্যা অভিযোগ দিছে। বাসায় যাওয়া থেকে আসা পর্যন্ত আমাদের একটি ভিডিও আছে। আমরা কী বলে আসছি, কী বলে গেছি, সব আছে।’

সাদ্দাম হোসেন বলেন, রবিনের সহযোগী জাকারিয়ার খালাকে আমার মামা ডিভোর্স দেন। তখন আমরা মামার পাশে দাঁড়াই। এই বিষয় নিয়ে প্রথম ঝামেলা শুরু। এরপর হুমকি দিয়েছে– ‘তোকে এমন ধরনের মামলা দেব, তুই সারা জীবনে আর জেল থেকে ছাড়া পাবি না।’

তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় হলো– আমার নানা তাঁর জমি আমার মা-খালা ও মামাকে লিখে দিয়েছেন। সেই কাগজপত্রের কাজ আমি করে দিয়েছি। এখন প্রাক্তন মামির ছেলে জমি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কিনা, তা থেকেই আমাদের হুমকিধমকি দেওয়া হচ্ছে।

সাদ্দাম জানান, এরই ধারাবাহিকতায় একদিন পুলিশ এসে কথা বলার জন্য থানায় ডেকে নেন। পরে রাজনৈতিক ও ভাঙচুরের মামলা দেওয়া হয়। সেই মামলায় তিন মাস জেল খাটতে হয়েছে। জামিনে বের হওয়ার পরেও হুমকিধমকি দিচ্ছে। ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারি না। দোকান করতে পারি না। দোকানে আইসা মারতে চায়।

সাদ্দামের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘এখন আমার পোলাটা বাইরে গেলে ডরে থাকি। কী যে কোনো সময় করে। বাইরে কই তো গেছে, বাইরে গেলে কুবাইব, কাটব বলে হুমকি দিছে তারা।’

সাদ্দামের স্ত্রী তাইয়েবা আক্তার বলেন, ‘হুমকির পর থেকে আমি ও আমার শাশুড়ি সাদ্দামকে বের হইতে দেই না। ভয় লাগে। এদিক-সেদিক সব জায়গায় বইলা বেড়াইতেছে– সাদ্দাম যেখানে পামু, ওখানেই মাইরা ফেলব।’

এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও দেখেছি। এই বিষয়ে সংগঠনে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, ‘কেউই আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। কেউ আক্রান্তবোধ করলে আইনের সহায়তা নিতে পারেন। সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ দিলে পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

ব্যবসায়ীকে হুমকি ছাত্রদল নেতার, বাড়ির ইট সুদ্ধা থাকব না