জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দুই পয়েন্টে ৮০০ অবৈধ স্থাপনা অপসারণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৯: ৪৭
দুটি পয়েন্টের ফুটপাত ও বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা প্রায় ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্টে অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকা ও বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। পাঁচদিনের অভিযানে সৈকতের দুটি পয়েন্টের ফুটপাত ও বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা প্রায় ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৈকতে বসানো কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসাতেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া অভিযানে প্রথমে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন ঘিরে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে কলাতলী সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি ও রাস্তার পাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, লোহার কাঠামো ও অস্থায়ী স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়। অবশ্য এসময় অনেক ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় তাদের দোকান সরিয়ে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কলাতলী মোড়ের সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার চারপাশে অবৈধ দোকানপাট, কুটির ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি স্থাপনার ভেতরে ফ্রিজ, গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা ব্যবহার করে বসবাসের ঘটনাও ধরা পড়েছে।

সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশনের নিরাপত্তারক্ষী ওসমান গণি বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আসা সাবমেরিন কেবলটি এই স্থান দিয়েই দেশে প্রবেশ করেছে। তাই এলাকাটির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশপাশে অবৈধ দোকান বা আগুন জ্বালানোর মতো কার্যক্রম কেবলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এজন্য এলাকাটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযানের সময় সৈকতের বালিয়াড়িতে বসানো কিটকট ব্যবসায়ও নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। দেখা যায়, অনেকেই অনুমোদনের চেয়ে দ্বিগুণ চেয়ার-ছাতা বসিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অনুমোদন ছাড়াই সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। যেসব কিটকটের মালিকানা শনাক্ত করা যায়নি সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত সৈকতে আগে যেখানে প্রায় ৫০০টি চেয়ার ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দেড় হাজারের বেশি হয়েছে। এতে পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

কিটকট ব্যবসায়ী আমির হামজা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে প্রশাসনের অনুমতিতেই তারা নির্দিষ্ট স্থানে চেয়ার বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে অনেককে হঠাৎ করে সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছে, যা তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের (পর্যটন সেল) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান বলেন, বালিয়াড়ি ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানগুলো ইতোমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকাও দখলমুক্ত করা হয়েছে। সৈকতের কিটকট ব্যবসায় অনিয়মের বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং পর্যায়ক্রমে সবগুলো যাচাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষায় অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর টানা পাঁচ দিনের অভিযানে সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট থেকে প্রায় ৮০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের দাবি, পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দখলদারত্ব ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

সম্পর্কিত