পাবনায় হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিকিৎসাধীন ৩২, বেশির ভাগই শিশু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৩৩
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে অনেকে। স্ট্রিম ছবি

পাবনায় উদ্বেগজনক হারে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্কও রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১২৫ জন হামে আক্রান্ত হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চলতি মার্চেই সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। গত রাতেই সেখানে নতুন করে ৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, সাধারণত হামের টিকা ৯ মাস বয়স থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্তদের বড় একটি অংশই ৯ মাসের কম বয়সি শিশু, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় কাচঘেরা একটি কক্ষে গাদাগাদি করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মেঝেতেও অবস্থান নিতে হয়েছে অনেক শিশুকে।

হাসপাতালে শয্যা সংকটে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকেরা রয়েছে চরম উৎকণ্ঠায়। বিশেষ করে হাম সংক্রামক রোগ হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সদর উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা সুফিয়া বেগম বলেন, ‘গত শনিবার ৯ মাসের নাতিকে ভর্তি করেছি। কিন্তু শয্যা না থাকায় মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। গরম, মশার উৎপাতে একেবারেই নাকাল অবস্থা সবার।’

পাবনায় হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বিগ্ন চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকেরা। স্ট্রিম ছবি
পাবনায় হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বিগ্ন চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকেরা। স্ট্রিম ছবি

আশুতোষপুর গ্রামের স্মৃতি খাতুনের চার মাস বয়সি মেয়ে প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে শরীরে লাল গুটি দেখা দেয়। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি করলেও সুস্থ হতে দেরি হচ্ছে। বাচ্চার কষ্ট দেখে সহ্য করা যাচ্ছে না।’

মালিগাছা গ্রামের শিমলা খাতুনসহ অনেকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল হাসান বলেন, ‘পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। তবে আমরা জরুরি ভিত্তিতে আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছি এবং সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।’

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সংক্রমণ এড়াতে শিশুদের উচ্চ তাপমাত্রা ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

সম্পর্কিত