এনসিপির প্রথম কাউন্সিল: কলেবর বাড়াতে অন্য দলেও চোখ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

স্ট্রিম গ্রাফিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরু করেছে প্রথম কাউন্সিলের প্রস্তুতি। একই সঙ্গে দলের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। এজন্য দলটি বেরিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীকে ফেরানোর পাশাপাশি বিএনপিসহ অন্য দলের ‘বঞ্চিতদেরও’ টানার চেষ্টা করছে।

দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে তরুণদের দলটি। ওই সময় গঠিত আহ্বায়ক কমিটির এক বছরের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ নিয়ে দলটির নেতারা জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততার কারণে সময়মতো কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। তবে ঈদুল আজহার আগেই তারা কাউন্সিল করতে চান।

দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ‘নির্বাচনী তৎপরতা, রমজান ও ঈদের ছুটির কারণে কাজ কিছুটা থমকে ছিল। এখন পর্যন্ত ৫০টি জেলা কমিটি দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোর কাজ শেষ করেই আমরা কাউন্সিলের দিকে যাব। তৃণমূলের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই এই প্রক্রিয়া।’

এনসিপির এক শীর্ষ নেতা জানান, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম কিছুদিনের মধ্যে ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন। দেশে ফিরলেই কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম গতি পাবে।

দলের ষষ্ঠ সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনসিপির পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সারা দেশের কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন সদস্য সর্বোচ্চ দুবার সাধারণ সম্পাদক এবং দুবার সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর।

কলেবর বাড়াতে তৎপরতা

কাউন্সিলকে সামনে রেখে দল বড় করার চেষ্টায় নেমেছে এনসিপি। এরমধ্যে এনসিপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে গড়া ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) শীর্ষ নেতাদের এবং বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রভাবশালীদের দলে ভেড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক এনসিপি নেতা স্ট্রিমকে বলেন, এনসিপিতে আসার জন্য ইতোমধ্যে আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরকম আরও অনেকের সঙ্গেই আলোচনা হচ্ছে। অধিকাংশই এনসিপির সঙ্গে রাজনীতিতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন স্ট্রিমকে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বড় করতে হলে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষকে আসতে হবে। আমরা ওপেন আছি এবং সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। কলেবর বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের আলোচনায় আছে।’

দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে নয়, বরং ব্যক্তি আকারে যোগ্যদের নিতে বেশি আগ্রহী। এর মধ্যে সাবেক শিবির বা জামায়াত, এবি পার্টি কিংবা বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘শুরুর দিকের সদস্যরা দলের প্রতি যতটা কমিটেড থাকেন, পরে আসা প্রফেশনাল নেতাদের মধ্যে সেই আদর্শিক জায়গাটি কম থাকতে পারে। তবে প্রভাবশালী ও জনবলসম্পন্ন নেতাদের দলে টানা সংগঠনের বিস্তৃতির জন্য প্রয়োজন।’

তবে তিনি সতর্ক করেন, ‘বর্তমানে একটি অনুকূল পরিবেশে এনসিপি ভালো করছে। ভবিষ্যতে যদি আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসে, সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এনসিপি কীভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবে, সেটাই হবে তাদের টিকে থাকার আসল চ্যালেঞ্জ।’

সম্পর্কিত