সাইপ্রাসে মুক্তিপণের জন্য নরসিংদীর শিক্ষার্থীকে হত্যা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নরসিংদী

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ১৯: ৪৯
নিহর শাহারিয়ার আহমেদ ইমন (২২)। সংগৃহীত ছবি

সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়ার নয়দিন পর নরসিংদীর শিক্ষার্থী শাহারিয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণের ৩৫ হাজার ইউরো না পাওয়ায় অপহরণকারীরা ইমনকে হত্যা করেছে।

নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিস প্রবাসী নাসির উদ্দিনের বড় ছেলে। চার মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে পাড়ি জমান তিনি।

সেখানে ওরোক্লিন এলাকার একটি বাসায় থাকতেন এবং কোফিনু এলাকার কারখানায় খণ্ডকালীন কাজ করতেন। গত ১২ জুন কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হন ইমন।

নিখোঁজের নয়দিন পর গত রোববার (২১ জুন) সাইপ্রাসের পুলিশ ইমনের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে। সোমবার দুপুরে ইমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর মামা আল ফারুক।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার রাতে ইমন এক বন্ধুকে মোবাইল অ্যাপে নিজের অবস্থান জানিয়েছিলেন, এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা ইমনের ফোন ব্যবহার করে তাঁর বাবার কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করে মেসেজ পাঠায়। এ সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট সাইপ্রাসের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দুই দিন আগে অপহরণকারীদের সঙ্গে শেষ যোগাযোগে ইমনের পরিবার ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। এরপর অপহরণকারীরা হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তবে পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজের রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়। এরপর মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের নাটক সাজানো হয়েছিল। এ ঘটনায় সাইপ্রাস পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে জোর তদন্ত শুরু করেছে।

ইমনের মামা আল ফারুক বলেন, ‘একটি চক্র আমার ভাগ্নেকে জিম্মি করে ৩৫ হাজার ইউরো দাবি করে। আমরা সর্বশেষ ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হই। কিন্তু বিষয়টি পুলিশ ও প্রবাসীদের মধ্যে জানাজানি হলে আমার ভাগ্নেকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয় চক্রটি।’

তিনি সাইপ্রাস সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি জানান।

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানান, ভুক্তভোগী পরিবার সরকারি সহযোগিতা চাইলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত