বন্ধ রাস্তায় পণ্যের পসরা, মৌসুমি বিক্রেতাদের ‘বৈশাখী মেলা’

মার্যিউর রহমান চৌধুরী
মার্যিউর রহমান চৌধুরী
ঢাকা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ০৬
বন্ধ রাস্তায় দেশীয় পণ্যের পসরা নিয়েই বসেছেন কিছু ব্যবসায়ী। স্ট্রিম ছবি

সড়ক বন্ধ, তাতে কী! বন্ধ সড়কের দুই ধারে নানা পণ্যের পসরা সাজানো। আগ্রহ নিয়ে সেসব পণ্য নেড়েচেড়ে দেখছেন পথচারীরা। কেউ কেউ কিনছেন দু-একটি পণ্য। চরকি, খেলনা টমটম, ময়ূর, একতারা, ডুগডুগি আর তালপাতার হাতপাখাসহ নানা পণ্যে শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও আগ্রহ দেখা গেল।

আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পয়লা বৈশাখের সকাল থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ কেন্দ্র করে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হয়েছেন হাজারো মানুষ। বর্ষবরণ আয়োজনের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে এ এলাকার আশপাশের কয়েকটি রাস্তা। বন্ধ রাস্তায় দেশীয় পণ্যের পসরা নিয়েই বসেছেন কিছু ব্যবসায়ী।

কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় এ ধরনের অস্থায়ী দোকান বেশি দেখা গেল। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের অধিকাংশই পেশাদার ব্যবসায়ী নন। বৈশাখ উপলক্ষে একটু বাড়তি আয়ের আশায় ঢাকার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছেন।

তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু কিছু পণ্য তাঁরা বাড়িতে নিজেরাই তৈরি করেছেন। কিছু তাঁদের নিজ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পণ্য। পয়লা বৈশাখে এ ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে ঢাকার মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। অন্যদিকে ঢাকায় এখন বৈশাখী মেলা হয় না বললেই চলে। ফলে বন্ধ রাস্তাই বিক্রিবাট্টার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

প্রায় ২০ বছর ধরে চরকি বিক্রি করেন স্বপন শেখ। স্ট্রিম ছবি
প্রায় ২০ বছর ধরে চরকি বিক্রি করেন স্বপন শেখ। স্ট্রিম ছবি

শাহবাগে বসা বিক্রেতাদের একজন মো. দুলাল। গ্রামে কৃষিকাজ করেই জীবিকা চালান তিনি। নিজের তৈরি খেলনা টমটম গাড়ি আর ময়ূর নিয়ে গতকাল ঢাকায় এসেছেন। দুলাল স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি বাড়িতে হালচাষ করি। টমটম গাড়ি নিয়ে আসছি। এখনো বেচাবিক্রি তেমন হয়নি। আশা করি বেলা হতে হতে বিক্রি হবে।’

শিশুদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে রংবেরঙের কাগজ দিয়ে তৈরি চরকি নিয়ে। মোহাম্মদ আসাদ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। হঠাৎ তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে চরকি নেওয়ার জন্য বায়না ধরেছে। প্রথমে কিনে না দিলেও পরে মেয়ের কান্নাকাটিতে চরকি কিনে দিতে বাধ্য হলেন। মোহাম্মদ আসাদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘বাচ্চার আবদার, তাই কিনে দিলাম।’

প্রায় ২০ বছর ধরে চরকি বিক্রি করেন স্বপন শেখ। কোথাও কোনো আয়োজন কিংবা উৎসব হলেই তিনি চরকি নিয়ে ছুটে যান। স্বপন শেখ বলেন, ‘বেচাকেনা ভালোই হচ্ছে। এই ব্যবসার বাইরে বাড়িতে জমিজমা আছে, খেতখামার করি।’

কুষ্টিয়ার একটি কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম। পড়াশোনার পাশাপাশি কুষ্টিয়ার লালন ইনস্টিটিউটে গান শিখেছেন তিনি। কয়েক ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারেন সিয়াম। নিজ এলাকা থেকে একতারা আর ছোট ডুগডুগি নিয়ে এসেছেন ঢাকায়। সিয়াম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি নিজে গান শিখি। বাদ্যযন্ত্র ভালোবাসি। একতারা ১৮০ টাকা আর ডুগডুগি বিক্রি করছি ১২০ টাকায়। আশা করি সব বিক্রি হয়ে যাবে।’

কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় এ ধরনের অস্থায়ী দোকান বেশি দেখা গেল। স্ট্রিম ছবি
কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাস্তায় এ ধরনের অস্থায়ী দোকান বেশি দেখা গেল। স্ট্রিম ছবি

সিয়ামের কাছ থেকে একটি ডুগডুগি কিনেছেন বলরাম তরফদার। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বলরাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘ছোটবেলায় ডুগডুগি বাজাতাম। এখন দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল, তাই একটা নিলাম।’

বলরাম আরও বলেন, ‘আমরা একটা সংকটময় পরিস্থিতিতে বসবাস করছি। নতুন বছরে আমার চাওয়া— সব সংকট যাতে আমাদের ওপর থেকে কেটে যায়।’

এ ছাড়া তালপাতার হাতপাখা, নকশি কাঁথা আর প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা বিক্রি করতে দেখা যায় অনেককে। তবে বিশেষ করে চোখে পড়ে টিনের তৈরি খেলনা ট্রলার। ভেতরে আগুন দিতেই ভটভট করে সত্যিকারের ট্রলারের মতো শব্দ করে ওঠে এগুলো। বিক্রেতা মোসলেহ উদ্দিন শেখ ব্যবহৃত অ্যারোসলের বোতল কেটে নিজেই তৈরি করেন এসব ট্রলার। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এসব ট্রলার তৈরি করেন এবং যতদিন পারবেন বানিয়ে যাবেন তিনি।

সম্পর্কিত