চালুর কয়েক মাসেই বন্ধ রাবির ই-কার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৩৮
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য চালু হয়েছিক ই-কার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য চালু হওয়া ই-কার (বৈদ্যুতিক গাড়ি) সেবা মাত্র কয়েক মাসেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। চালকদের লোকসান, ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পরিচালনাকারী কোম্পানির অনাগ্রহের কারণে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ক্যাম্পাসে এই পরিবহন সেবা বন্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া) পাঁচটি বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা উদ্বোধন করে। উদ্বোধনের সময় গাড়ির সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে কয়েক দিনের মধ্যেই দুটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন গাড়ি বাবদ কোম্পানিকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে জমা দিতে হতো। এরপর সারাদিন গাড়ি চালিয়ে যা আয় হয়, সেটিই তাঁদের মজুরি। শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও ধীরে ধীরে যাত্রীসংখ্যা কমে যায় এবং ভাড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে লোকসান দিয়ে গাড়ি চালানো চালকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ই-কার সেবার ম্যানেজার এনায়েত কবির লিখন জানান, পরিচালনাকারী কোম্পানি অধিক মুনাফার আশায় এখন ক্যাম্পাসে গাড়ি দিতে আগ্রহী নয়। রমজানের ছুটির মধ্যেই তারা তিনটি গাড়ি নিয়ে গেছে এবং বাকিগুলো প্রশাসনের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রাজশাহীতে দক্ষ টেকনিশিয়ান না থাকায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভাঙা রাস্তায় চালানোর কারণেও গাড়িগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে। তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন গাড়ি কিনে ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে চলাচলের ব্যবস্থা করব। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।’

এদিকে ই-কার বন্ধ হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রাবি শাখা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ নাফিউল ইসলাম জীবন একে ‘ফুটেজ’ নেওয়ার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ই-কার চালু করা হয়েছিল। এটি মূলত একটি বাণিজ্যিক কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। যখনই দেখা গেল লাভ হচ্ছে না, তখনই তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে কোনো ই-কার চলছে না।’

সম্পর্কিত