নারীর সঙ্গে ঢুকলেন হোটেলে, ইউপি সদস্য ফিরলেন লাশ হয়ে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৬: ৫৭
বামে বিপুল চন্দ্র পাল ও আটক নারী মোর্শেদা। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় আবাসিক হোটেল থেকে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৪৮) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।

হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রোববার (৭ জুন) রাতে ঠাকুরগাঁও থেকে মোর্শেদাকে (৩৮) আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহিম আলী জানান, বিপুল চন্দ্রের লাশ উদ্ধারের পরে সিসিটিভি ফুটেজে বোরকা পরা নারীর মুখে মাস্ক দেখা যায়। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থেকে মোর্শেদাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন– ‘দুজন মিলিত হওয়ার সময় বিপুল চন্দ্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ভয়ে লাশ কক্ষে রেখে পালিয়ে যাই’। তবে মোর্শেদার এই দাবি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

গত ৬ জুন দুপুরে বগুড়া সদরে সেঞ্চুরি মোটেল নামে হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষ থেকে বিপুল চন্দ্র পালের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিপুল চন্দ্র বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত সদস্য এবং শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের সুপারভাইজার ছিলেন।

পুলিশ জানায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দাবি করেছিল– বিপুল একাই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের পর দেখা যায়– ৫ জুন রাত ৯টায় বিপুল দ্বিতীয় তলার একটি রুমে বোরকা পরিহিত নারীকে নিয়ে অবস্থান করেন। দুই ঘণ্টা পর সেখান থেকে তারা ষষ্ঠ তলার ৬১০ নম্বর কক্ষে যান।

এরপর রাতের কোনো এক সময়ে ওই নারী একাই কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। পরের দিন দুপুরে চেকআউটের সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সাড়া না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে কক্ষের দরজা খুলে বিপুল চন্দ্রকে বিছানা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিপুল চন্দ্রের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

সম্পর্কিত