দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই বলামাত্র উত্তপ্ত সংসদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সংগৃহীত ছবি

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই বলামাত্র উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদের অধিবেশন। এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকে একসঙ্গে কথা বলতে চাইলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন অধিবেশন পরিচালনা করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা সাড়ে তিনটায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের সম্পূরক হিসেবে একটি প্রশ্ন করেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তাঁর প্রশ্নের উত্তরে দেওয়ার সময় অল্প সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন।

মীর আহমাদ বিন কাসেম জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলছে। ইতিমধ্যে সেখানে একাধিক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ভেতরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সংসদ সদস্য প্রশ্ন করেন, ‘আমার প্রথম প্রশ্ন, জিয়াউর রহমানের সন্তান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংকট নিরসনে কী ভূমিকা পালন করছেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে, সেখানে আমাদের এই জ্বালানি সংকটের ব্যাপারে উনি কী ভূমিকা পালন করছেন, আমরা সেটা জানি না।’

উত্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানির কোনো সংকট বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।’ মন্ত্রীর এই কথার সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। সমস্বরে সংসদ সদস্যরা জ্বালানি সংকটের কথা বলতে থাকেন। এ সময় স্পিকার দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবারও বলতে থাকেন, জ্বালানির যাতে একাধিক সোর্স থেকে আমরা সরবরাহ করতে পারি। সে জন্য ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার আমাদের সঙ্গে বসেছেন; জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উনি বসেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও যে সব সোর্স থেকে জ্বালানি আনতে পারি সে ব্যাপারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাল্লাহ আমরা সেটাতে সফল হবো।’

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দ্বিতীয়ত হচ্ছে, আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি যখন এই যুদ্ধটা লেগেছে বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, ফার্স্ট প্রায়োরিটি হচ্ছে বাংলাদেশিদের যারা মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেটা আমাদের মিশনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করে যাচ্ছে।’

এ সময় তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মরদেহ দেশে আনতে সমর্থ হয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সিচুয়েশনটা বুঝতে হবে; মধ্যপ্রাচ্যে অনেক কমপ্লিকেটেড সিচুয়েশন বিরাজ করছে। কখন কোথায় যুদ্ধ লাগে আমাদের বাংলাদেশিরা তখন নিজেরা বুঝতে পারে না। সুতরাং এর মধ্যে আমরা কিন্তু আনতে পেরেছি এবং ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে ইরান থেকে, তেহরান থেকে আইওএমের সহযোগিতায় দেশে ফেরত এনেছি একটি চার্টার্ড বিমান ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে।’

বাংলাদেশি নাগরিকরা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে নিরাপদ আছেন কিনা সেটাই সরকারের ‘একমাত্র প্রায়োরিটি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্পর্কিত