মাটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পেল বাংলা একাডেমির পুথি স্ক্যানিংয়ের কাজ

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ১৭: ৫৫
স্ট্রিম গ্রাফিক

বাংলা একাডেমির ৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ‘প্রো সয়েল ফাউন্ডেশন কনসালট্যান্ট’। মাটি গবেষণায় সম্পৃক্ত বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠাকে দেওয়া হয়েছে পুথির লিপ্যন্তর ও ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের কাজ।

অভিযোগ উঠেছে, পুথির লিপ্যন্তর ও ডিজিটাল আর্কাইভিংয়ের কোনো অভিজ্ঞতা নেই প্রো সয়েলের। তারপরও নেত্রকোনা অঞ্চলের বিএনপির সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কাজটি পেয়েছে তারা।

গত ২১ মে বাংলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট পাইলট প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. হারুন রশিদের সই করা চিঠি প্রো সয়েল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রকৌশলী শামসুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘কনসালটেশন সার্ভিস: ডিজিটাল আর্কাইভিং অব পুথিস থ্রু ট্রান্সলিটারেশন অব পুথিস’ শীর্ষক কাজের জন্য মোট চুক্তি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি পাঁচ হাজার টাকা।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির সংশ্লিষ্ট শাখায় প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হয়। প্রকল্প পরিচালকের চিঠিতে চুক্তি কার্যকরে প্রো সয়েলকে আগামী ৭ জুনের মধ্যে আইটিসি ধারা ৫৪ অনুযায়ী ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা জামানত এবং ২১ জুনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক হারুন রশিদ স্ট্রিমকে বলেন, পুথি ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ট্রান্সলিটারেশন কাজের জন্য একটি কমিটি হয়েছিল। সার্কুলার দেওয়ার পর যারা আবেদন করে, তাদের সবকিছু বিবেচনা করে কমিটি প্রো সয়েল ফাউন্ডেশনকে বেছে নিয়েছে।

মাটি নিয়ে গবেষণা করা একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া প্রশ্নে তিনি বলেন, পুথি স্ক্যানিং এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে কেউ করেনি। এটিই প্রথম। পুথির পাঠোদ্ধার কোম্পানি করবে না, করবেন গবেষকেরা। তাঁরা প্রায় ৫ হাজার পৃষ্ঠার বিভিন্ন ভাষায় লিখিত পুথির কাজটি করবেন।

পাঠোদ্ধারের মূল কাজ প্রো সয়েল করবে কিনা– আরেক প্রশ্নে হারুন রশিদ বলেন, ‘না। এটি এখনো ফাইনাল হয়নি। তারা শুধু স্ক্যান করবে। প্রো সয়েল আগেও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছে। বিশেষ করে পুথির স্ক্যানিং।’ তবে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা চাপে কাজটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এ ব্যাপারে প্রো সয়েল ফাউেন্ডশনের সিইও প্রকৌশলী শামসুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রকিউরমেন্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভালো বলতে পারবেন। আমি একটি কমিটিতে আছি। এই কমিটি কাজের অগ্রগতি ও মান রিভিউ করে। পুথি স্ক্যানিংয়ের বিষয়ে শুনেছিলাম। পরে দেখলাম ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ভালো হলে, সততার সঙ্গে কাজ করলে যে কেউ ভালো করতে পারবে। এখানে শুধু স্ক্যানিং নয়, বাঁধাইয়ের কাজও রয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম জানান, প্রকল্প পরিচালক কাজটি করানোর জন্য একটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি করেন। কমিটি প্রথমে সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘জমা দেওয়া কাগজপত্রে প্রো সয়েল স্ক্যানিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা বলেছে। তারা যে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছে, তার একটি ডেল্টা। আগে কোনো কোম্পানি এই কাজ করেনি। এজন্য আমি কাজটি দেখভালে একটি কমিটি রাখার শর্ত দিয়েছি।’

রাজনৈতিক চাপে প্রকল্প পরিচালক প্রো সয়েলকে কাজ দিয়েছে– এমন প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। সম্ভবত কেউ ম্যানুপুলেট করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানার জন্য প্রো-সয়েলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নাম্বারে কল করে শামসুল ইসলামের নাম্বার চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী বলেন, আমার কাছে তার নাম্বার নেই। আপনাকে পরে জানাব। একদিন আগেও ফোন দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, তখনও একই কথা বলেন। এমনকি নিজের নামটিও বলেননি। নাম জানতে চাইলে বলেন, পরে বলব।

এছাড়াও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও কলটি রিসিভ করেননি তিনি। পরে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এর উত্তরও তিনি দেননি।

সম্পর্কিত