জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে বিষ, ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৭: ৫৩
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের একটি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির পানির লাইনে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় এ মামলা করা হয়।

মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুরের ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান ইয়াসিনও রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সকালে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবহৃত পানিতে সাদা ফেনা ও দুর্গন্ধ দেখতে পান দায়িত্বরত সদস্যরা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে পানি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সীতাকুণ্ড থানা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরীক্ষার জন্য পানির নমুনা সংগ্রহ করেন।

পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজিম উদ্দিন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে ভূমিদস্যুমুক্ত রাখতে সেখানে যৌথ বাহিনী অবস্থান করছে। এটি সন্ত্রাসীরা মেনে নিতে পারছে না। এর আগে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। পানিতে তারাই বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

তিনি জানান, তদন্ত করতে গিয়ে জঙ্গলের ভেতরে পানির সরবরাহ লাইনের একটি অংশ কেটে প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে দুটি পৃথক লাইন রয়েছে—একটি স্থানীয় স্কুলে এবং অন্যটি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ ক্যাম্পে পানি সরবরাহ করে।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা প্রথমে যৌথ বাহিনীর লাইনের ভালভ বন্ধ করে পাইপ কেটে ভেতরে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক (কেমিক্যাল) ঢুকিয়ে দেয়। পরে সেটি প্লাস্টিক দিয়ে এমনভাবে মুড়িয়ে রাখা হয়, যাতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। এই পানি ব্যবহার করলে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়ত।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। এর আগে ওই এলাকায় র‌্যাব ক্যাম্পে হামলা, গুলিবর্ষণ ও সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ক্যাম্প স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পানিতে প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত