
রাজধানীসহ সারা দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সাম্প্রতিক তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এরপর গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির সক্রিয় নেতাকর্মীদের সন্ধানে মাঠে নেমেছে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। অনলাইনেও চলছে নজরদারি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা ছিল। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে মিছিল থেকে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে জনমনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অপতৎপরতা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সর্বত্র গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যক্রম ঠেকাতে ব্যর্থতায় পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি এবং প্রয়োজনে বদলির মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, এক মিনিট বা ৩০ সেকেন্ডের জন্য সরু গলি থেকে বের হয়ে তারা এ ধরনের মিছিলের চেষ্টা করছে। সেগুলো অনলাইনে দিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এত জনবহুল দেশে হুট করে কোথাও কিছু বের করে আবার তারা মিলিয়ে যাচ্ছে, এটা বড় কিছু নয়।
তবে পুলিশ বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের এসব কর্মকাণ্ড ও অপতৎপরতা বন্ধের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের জনবল বাড়ানো হয়েছে। সুযোগসন্ধানীরা যাতে গলি দিয়ে হঠাৎ বেরিয়ে মিছিল করতে না পারে সেজন্য দেশের সবখানে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। সমন্বিত অভিযানও চালানো হচ্ছে।
এসব কর্মকাণ্ডে আর্থিক যোগানদাতাদের বিষয়ে প্রশ্নে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তারা ক্ষমতায় থাকার সময় সুবিধাপ্রাপ্তরা অর্থ সরবরাহ করছে, তাদেরকেও শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যেকোনো ঘটনার পর তদন্তে পেছনের কুশীলবদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্ট্রিমকে জানান, নিষিদ্ধ দল ও সংগঠন যেন কোনোভাবেই ঝটিকা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা র্যালি করতে না পারে সেজন্য প্রতিরোধমূলক গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও ঝটিকা মিছিল বা ককটেল বিস্ফোরণ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রয়োজনে বদলির মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার ক্রাইম বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যালয় ঘিরে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) বা অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন আইডিও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, বড় দল হওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে অপতৎপরতা চালানোর জনবল আওয়ামী লীগের রয়েছে। তবে পুলিশ পেছনের কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইনে যেকোনো উসকানিমূলক অপপ্রচার ঠেকাতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে বিটিআরসি ও এনটিএমসির সহায়তায় অপতৎপরতায় জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল ও সংগঠনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি হচ্ছে।
পুলিশের নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী স্ট্রিমকে জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা প্রতিহতে প্রোঅ্যাক্টিভ ও রিঅ্যাক্টিভ কর্মকৌশল নিয়েছে এসআরবি। এই গোষ্ঠীগুলো মূলত অনলাইনে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা করে। এজন্য তাদের অনলাইন কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। সাইবার মনিটরিং ইউনিটের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠে নামার আগে বিভিন্ন ইভেন্ট ধরে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের এই প্রক্রিয়াকে প্রোঅ্যাক্টিভ পদ্ধতি বলা হয়।
রিঅ্যাক্টিভ পদ্ধতির বিষয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কর্মকাণ্ডের আগাম তথ্য পেলে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়, যাতে তারা বাইরে আসার বা পূর্বঘোষিত স্থানে যেতে না পারে। গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠে প্রতিহত করাই হচ্ছে রিঅ্যাক্টিভ কার্যক্রম।
.png)


-40e58c.jpeg)





