বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি: স্পিকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ২২
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাৎ। সংগৃহীত ছবি।
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্পিকারের সাক্ষাৎ। সংগৃহীত ছবি।

বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্রকামী এবং এ দেশের মানুষ কখনো স্বৈরাচারকে সমর্থন করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) স্পিকারের কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তিনি এ কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন বারবার উৎসর্গ করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নিজেদের অধিকার আদায়ে আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় লাভ হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হলেও গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে এ দেশে গণতন্ত্রের সূচনা হয়।’

বিগত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল প্রহসনের। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ভুলুণ্ঠিত করে দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করা হয়েছিল এসব নির্বাচনের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে।

তিনি আরও যোগ করেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল এ দেশের ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। বর্তমানে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, এ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সংশোধনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা মুক্ত হবে। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থার মধ্য দিয়ে শক্তিশালী, কার্যকর ও গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বৈঠকে উভয় পক্ষ জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থা ও সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের কার্যকর ভূমিকা, আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি এবং সংসদীয় কূটনীতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরাসহ উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত