ad

প্রকৃতির সঙ্গে মাত্র ২০ মিনিট, তাতেই মিলতে পারে যেসব উপকার

কীভাবে প্রকৃতি আমাদের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে সাহায্য করে, তা জেনে নেওয়া যাক।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০০
পার্কে বা গাছপালার মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করার পর মনটা হালকা লাগে। এআই জেনারেটেড ছবি
পার্কে বা গাছপালার মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করার পর মনটা হালকা লাগে। এআই জেনারেটেড ছবি

পার্কে বা গাছপালার মধ্যে একটু হাঁটাহাঁটি করার পর মনটা হালকা লাগে। দুশ্চিন্তাও যেন কমে যায়। এটা কি শুধু মনের অনুভূতি? উত্তর হচ্ছে, না। এর পেছনে রয়েছে শরীরবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা।

প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে শরীরেও কিছু পরিবর্তন হয়। স্ট্রেস কমে, রক্তচাপ কমতে পারে। এমনকি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার জন্যও প্রকৃতি উপকারী হতে পারে। আর এর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার্ক বা জঙ্গলে ঘুরতে হবে না। প্রায় ২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে থাকলেই এর ‘প্রভাব’ পাওয়া যেতে পারে। তাই সপ্তাহে কয়েক দিন পার্কে গিয়ে হাঁটা বা গাছের নিচে বসে থাকা কাজের কাজ হতে পারে।

কীভাবে প্রকৃতি আমাদের শরীর ও মনকে ভালো রাখতে সাহায্য করে, তা জেনে নেওয়া যাক।

মন অজান্তেই শান্ত হয়ে যায়

সবুজ গাছ দেখা, পাখির ডাক শোনা, পাতার মৃদু শব্দ, এসব আমাদের শরীরকে শান্ত করতে পারে। গাছের গন্ধও এতে ভূমিকা রাখে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্যাথি উইলিস বলেন, প্রকৃতির মধ্যে গেলে রক্তচাপ কমতে পারে, হৃদ্স্পন্দন ধীর হতে পারে। এগুলো শরীর শান্ত হওয়ার লক্ষণ।


যুক্তরাজ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে কাটান, তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা অন্যদের তুলনায় ভালো বলে জানিয়েছেন।

এই কারণে কিছু দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ‘গ্রিন সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং’ চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যাতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। এতে সুখ ও মানসিক সুস্থতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

স্ট্রেস হরমোন কমে

প্রকৃতির মধ্যে থাকলে শরীরের কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন কমতে পারে। মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় এই হরমোনগুলো বেড়ে যায়। জাপানে এক গবেষণায় দেখা গেছে, হোটেলের কক্ষে তিন দিন থেকে জাপানি সাইপ্রেস বা হিনোকি গাছের তেলের গন্ধ শ্বাসের সঙ্গে নেওয়া মানুষের শরীরে অ্যাড্রেনালিন কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ‘ন্যাচারাল কিলার’ কোষ। এসব কোষ শরীরকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শরীরে এই কোষের পরিমাণ দুই সপ্তাহ পরও বেশি ছিল। অধ্যাপক মিং কুও বলেন, প্রকৃতি শরীরকে অনেকটা ভারসাম্যে ফিরিয়ে আনে, যেটা শান্ত করা দরকার, সেটাকে শান্ত করে; আর যেটা শক্তিশালী করা দরকার, সেটাকে শক্তিশালী করে।


তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, প্রকৃতির মধ্যে তিন দিন কাটালে শরীরের ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি এক মাস পরও এই প্রভাব স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ২৪ শতাংশ বেশি থাকতে পারে।

গাছের গন্ধেও আছে উপকার

শুধু প্রকৃতি দেখলেই নয়, গাছপালার গন্ধ নিলেও শরীরে প্রভাব পড়ে। গাছ ও মাটি থেকে নানা ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান বের হয়। শ্বাস নেওয়ার সময় এসব উপাদানের কিছু অংশ শরীরে ঢুকতে পারে।

পাইনগাছের গন্ধ এর একটি ভালো উদাহরণ। উইলিসের মতে, পাইনবনের গন্ধ মাত্র ৯০ সেকেন্ডে মানুষকে শান্ত করতে পারে। এই প্রভাব প্রায় ১০ মিনিট থাকতে পারে। এমনকি ছোট শিশুরাও কিছু গন্ধে শান্ত হয়ে যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো গন্ধের সঙ্গে আগের স্মৃতি না থাকা শিশুরাও শান্ত করার মতো গন্ধ লিমোনিন পেলে শান্ত হয়ে যায়।

মাটির সংস্পর্শও উপকারী

প্রকৃতি শুধু মনকে শান্ত করে না। মাটি ও গাছপালার মধ্যে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াও আমাদের জন্য উপকারী হতে পারে। উইলিস বলেন, এসব ব্যাকটেরিয়ার কিছু একই ধরনের, যেগুলো আমরা প্রোবায়োটিক খাবার ও পানীয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাপটপে প্রকৃতির ছবি দেখা বা শুধু সবুজ কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকলেও মস্তিষ্কে শান্ত হওয়ার মতো পরিবর্তন আসতে পারে। এতে মানসিক চাপও কমতে পারে। অধ্যাপক মিং কুওর কথায়, প্রকৃতির সামান্য উপস্থিতিও কাজে আসে।

অধ্যাপক মিং কুওর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির কিছু উপাদান শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে মেজাজ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার গাছ থেকে বের হওয়া ফাইটোনসাইড নামের কিছু রাসায়নিক রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করতে পারে।

সংক্রমণবিষয়ক বিজ্ঞানী ডা. ক্রিস ভ্যান টুলেকেন প্রকৃতিকে শরীরের জন্য একধরনের ভালো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, প্রকৃতি আমাদের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থাকে সক্রিয় হতে সাহায্য করে। এ কারণেই তিনি তাঁর সন্তানদের জঙ্গলের মাটিতে খেলতে দেন।

বাইরে যেতে না পারলে?

সব সময় পার্ক বা জঙ্গলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে তাতেও সমস্যা নেই। ঘরেও প্রকৃতির কিছুটা ছোঁয়া আনা যায়। ঘরে ফুল রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাদা বা হলুদ গোলাপ মস্তিষ্ককে শান্ত করার ক্ষেত্রে ভালো প্রভাব ফেলতে পারে।


গাছের গন্ধও কাজে আসতে পারে। বাড়িতে হলে, পিনিনের মতো উপাদান থাকা এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজারে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর সেটাও সম্ভব না হলে, জঙ্গলের ছবির দিকে তাকিয়েও কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা সত্যি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ল্যাপটপে প্রকৃতির ছবি দেখা বা শুধু সবুজ কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকলেও মস্তিষ্কে শান্ত হওয়ার মতো পরিবর্তন আসতে পারে। এতে মানসিক চাপও কমতে পারে। অধ্যাপক মিং কুওর কথায়, প্রকৃতির সামান্য উপস্থিতিও কাজে আসে।

  • বিবিসি অবলম্বনে
Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত