নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ৮০০ ছুঁইছুঁই, নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

নেপালের নুওয়াকোট জেলার দেবীঘাটে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও কাদায় ঢেকে যাওয়া বাড়িঘর দেখছেন স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স
নেপালের নুওয়াকোট জেলার দেবীঘাটে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও কাদায় ঢেকে যাওয়া বাড়িঘর দেখছেন স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৭৯৭ জন। নেপালে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টায় নেপালে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ৭৩৪ জন। উদ্ধার অভিযান এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও লাশ উদ্ধারের পর বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২৬৪টি লাশ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। এ ছাড়া নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৯৪, নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১২০, গোরখায় ৫৮, নুওয়াকোটে ৫২, ধাদিংয়ে ৫০, তানাহুনে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মী রয়েছেন। এখনো নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকও। নেপালের সরকারি হিসাবে, দুর্যোগের পর এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানের বড় অংশই এখন চলছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলগুলোকে ঘিরে। নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী কমপ্লেক্সে প্রায় ৩৫০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। নেপালের সেনাবাহিনী টানেলের প্রবেশপথ থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছে। ভারত ও চীন থেকে বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ১৯ হাজার নিরাপত্তাকর্মী এবং ১৬টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত থেকে ১১ সদস্যের এবং চীন থেকে ৯ সদস্যের টানেল উদ্ধারকারী দল এসেছে। বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়াও।

বন্যায় নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া বিদেশিদের খোঁজেও আলাদা করে অভিযান চালানো হচ্ছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৬ দেশের ২৬১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও ৩২০ পর্যটকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

এদিকে উদ্ধার করা লাশ শনাক্ত করতেও বড় ধরনের সংকটে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় অনেক লাশ পচে গেছে। মর্গগুলোতে জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি—এমন লাশ সাময়িকভাবে দাফন করা হচ্ছে। প্রতিটি লাশের ডিএনএ নমুনা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে পরে স্বজনদের কাছে এসব হস্তান্তর করা যায়। ভারত থেকে যাওয়া ১৮ সদস্যের একটি ফরেনসিক দল ডিএনএ শনাক্তকাজে সহায়তা করছে।

দুর্যোগের মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোতে কোশি নদীর পানির স্তর আবার বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ উজানে পানির প্রবাহ বাড়ার তথ্য নেপালকে জানিয়েছে। এ কারণে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নতুন একটি হ্রদ তৈরির আশঙ্কাও উদ্ধারকাজকে জটিল করে তুলেছে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভূমিধসের পর তৈরি হওয়া একটি নতুন হ্রদ থেকে আবার পানি নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। এতে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রেডক্রস।

নেপালের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চীনের তিব্বতেও। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছুঁইছুঁই এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি।

নেপাল সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু, বাড়িঘর ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে। পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে কাঠমান্ডু। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ইতোমধ্যে জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত