স্ট্রিম ডেস্ক
-2b0a72.jpeg)
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—কোন বিষয়ে পড়বেন? অনেক শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। কেউ নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ভাবেন, কেউ আবার বন্ধু বা পরিচিতদের দেখাদেখি বিষয় বেছে নেন। আবার কোনো কোনো বিষয়কে সমাজে বেশি মর্যাদার বলে মনে হওয়ায় সেটিকেই পছন্দের তালিকার ওপরে রাখেন।
কিন্তু শুধু অন্যের পছন্দ, সামাজিক মূল্য কিংবা চলতি প্রবণতা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নির্বাচন করা ঠিক নয়। আবার অনেকে মেধাতালিকার ক্রম অনুসারে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান না। কিন্তু এগুলোর বাইরেও অনেক বিষয় পড়ে ভালো করা যায় এবং ক্যারিয়ারেও এগিয়ে থাকা যায়। বিশেষ করে সেই বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা জানা থাকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে পড়ছেন, সেটিই যে আপনার পুরো কর্মজীবন নির্ধারণ করে দেবে, এমন নয়। বর্তমানে কাজের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বিষয় বেছে নেওয়ার আগে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা আর ভবিষ্যতে সেই বিষয়ে কাজের সুযোগ, সবকিছুই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কোনো বিষয়ে ভালো ফল করার জন্য যেমন আগ্রহ দরকার, তেমনি সেই জ্ঞান ভবিষ্যতে কোথায় কাজে লাগানো যাবে, সেটিও জানা জরুরি। তাই শুধু ‘বিষয়টি ভালো লাগে’ বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আবার শুধু চাকরির বাজার ভালো বলে এমন বিষয়ে ভর্তি হওয়া উচিত নয়, যেটির প্রতি নিজের কোনো আগ্রহ নেই।
অনেকে আবার অন্যের দেখাদেখি বিষয় নির্বাচন করেন বা অভিভাবকরাও চাপ দেন। যেমন পাশের বাড়ির কুদ্দুস সাহেবের ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ছেন, তোমাকেও পড়তে হবে। অথচ দেখা গেল ঐ বিষয়ে পড়ার প্রতি আপনার আগ্রহ নেই, তবু পরিবারের চাপে ভর্তি হয়ে গেলেন। এটা ঠিক নয়। এতে করে কিছুদিন পর সেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন যে বিষয়ে পড়বেন, সেটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ বা ধারণা না থাকলে, তা ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, কোন বিষয় পড়তে ভালো লাগে? কোন ধরনের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
শুধু দেশের চাকরির বাজার নয়, বিদেশে সম্ভাবনা কেমন—সেটিও দেখুন
বিষয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। তবে শুধু দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই হবে না। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ এবং চাকরির সুযোগও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। কোনো বিষয়ে পড়লে কোন কোন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে, ওই বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র কেমন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে স্কলারশিপ পাওয়া যায় কি না—এসব তথ্য আগে থেকেই খুঁজে দেখা সম্ভব।
এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে এসব তথ্য আগের চেয়ে অনেক সহজে পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন বিভাগের তথ্য, গবেষণার বিষয়, স্কলারশিপের শর্ত এবং চাকরির বিজ্ঞপ্তি, অনেক কিছুই হাতের মুঠোয়। তাই বিষয় নির্বাচনকে হেলাফেলা করে দেখার সুযোগ নেই।
তবে কোনো বিষয় সম্পর্কে শুধু ইন্টারনেটের তথ্য দেখলেই পুরো ধারণা পাওয়া যায় না। বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা কোথায় কাজ করছেন, তাঁরা পড়াশোনা শেষ করে কী ধরনের সুযোগ পেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চাকরির ক্ষেত্রে কতটা কাজে লেগেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা ভাবছেন, সেই বিভাগের পড়াশোনার পরিবেশও খোঁজ নেওয়া দরকার। শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ কেমন, কোর্সগুলো কতটা ব্যবহারিক, গবেষণার সুযোগ আছে কি না, ইন্টার্নশিপ বা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ কেমন, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান না। ভর্তি পরীক্ষার ফল, আসনসংখ্যা বা অন্য কোনো কারণে তাঁকে অন্য বিষয়ে ভর্তি হতে হয়। এ কারণে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থীর কম্পিউটারবিজ্ঞানে আগ্রহ আছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সে গণিত নিয়ে পড়ার সুযোগ পেল। সে চাইলে গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটার নিয়ে নিজে শেখা শুরু করতে পারে। কোডিং, প্রোগ্রামিং বা অন্যান্য দক্ষতা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আবার সোশ্যাল সায়েন্স বা সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও কম্পিউটার, তথ্য বিশ্লেষণ, ইংরেজি ও যোগাযোগের মতো দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের কর্মক্ষেত্র বাড়াতে পারেন। আবার চারুকলা নিয়ে পড়েও অ্যাপ ডিজাইন বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে যে বিষয়েই পড়া হোক, কিছু অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। কম্পিউটার ব্যবহার, ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলা, তথ্য বিশ্লেষণ, যোগাযোগ এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো দক্ষতা প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজে লাগে।
অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ার করতে হলে ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল বা প্রযুক্তিনির্ভর কোনো বিষয়ে পড়তে হবে। এই ধারণা ঠিক নয়। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্যও নানা ক্ষেত্র রয়েছে। ধরা যাক, কারও লেখালেখি, সংবাদ ও সমাজের নানা ঘটনা নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। তাঁর জন্য সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগ ভালো পছন্দ হতে পারে। সাংবাদিকতার কাজ এখন শুধু সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা রেডিওতে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন সাংবাদিকতা, ডিজিটাল কনটেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ, জনসংযোগ, উন্নয়ন যোগাযোগ, গবেষণা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও এই শিক্ষার ব্যবহার রয়েছে।
আবার সমাজের উন্নয়ন, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থাকলে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ইকোনমিক্স পড়লে অর্থনীতি, গবেষণা, ব্যাংকিং, নীতি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর ভূগোলের মতো বিষয়কে শুধু শিক্ষকতা বা প্রচলিত কয়েকটি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখারও কারণ নেই। পরিবেশ, নগরায়ণ, জনসংখ্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রেও এর জ্ঞান কাজে লাগতে পারে।
কোনো একটি বিষয় হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে গেলেই সেখানে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সবাই বিবিএ পড়ছে বলে নিজেকেও বিবিএ পড়তে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আবার কোনো একটি পেশার সামাজিক মর্যাদা বেশি বলে সেটিই নিজের জন্য সেরা হবে, এমনটিও নয়।
অ্যাকাউন্টিং বা ফাইন্যান্সের মতো বিষয়ের চাহিদা দীর্ঘদিন থাকলেও ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রেও তথ্য বিশ্লেষণ ও ডেটা সায়েন্সের মতো দক্ষতার প্রয়োজন বাড়তে পারে। একইভাবে প্রকৌশল বা ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদেরও নিজের মূল বিষয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় একরোখা হওয়ার চেয়ে নমনীয় থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই বিষয় না পেলে পড়বই না, এমন মানসিকতা রাখা উচিত নয়। বিষয় পছন্দ না হলেও শেখার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করা যায়।
-2b0a72.jpeg)
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি—কোন বিষয়ে পড়বেন? অনেক শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। কেউ নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ভাবেন, কেউ আবার বন্ধু বা পরিচিতদের দেখাদেখি বিষয় বেছে নেন। আবার কোনো কোনো বিষয়কে সমাজে বেশি মর্যাদার বলে মনে হওয়ায় সেটিকেই পছন্দের তালিকার ওপরে রাখেন।
কিন্তু শুধু অন্যের পছন্দ, সামাজিক মূল্য কিংবা চলতি প্রবণতা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নির্বাচন করা ঠিক নয়। আবার অনেকে মেধাতালিকার ক্রম অনুসারে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান না। কিন্তু এগুলোর বাইরেও অনেক বিষয় পড়ে ভালো করা যায় এবং ক্যারিয়ারেও এগিয়ে থাকা যায়। বিশেষ করে সেই বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা জানা থাকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে পড়ছেন, সেটিই যে আপনার পুরো কর্মজীবন নির্ধারণ করে দেবে, এমন নয়। বর্তমানে কাজের ক্ষেত্র অনেক বিস্তৃত। একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বিষয় বেছে নেওয়ার আগে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা আর ভবিষ্যতে সেই বিষয়ে কাজের সুযোগ, সবকিছুই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কোনো বিষয়ে ভালো ফল করার জন্য যেমন আগ্রহ দরকার, তেমনি সেই জ্ঞান ভবিষ্যতে কোথায় কাজে লাগানো যাবে, সেটিও জানা জরুরি। তাই শুধু ‘বিষয়টি ভালো লাগে’ বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আবার শুধু চাকরির বাজার ভালো বলে এমন বিষয়ে ভর্তি হওয়া উচিত নয়, যেটির প্রতি নিজের কোনো আগ্রহ নেই।
অনেকে আবার অন্যের দেখাদেখি বিষয় নির্বাচন করেন বা অভিভাবকরাও চাপ দেন। যেমন পাশের বাড়ির কুদ্দুস সাহেবের ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ছেন, তোমাকেও পড়তে হবে। অথচ দেখা গেল ঐ বিষয়ে পড়ার প্রতি আপনার আগ্রহ নেই, তবু পরিবারের চাপে ভর্তি হয়ে গেলেন। এটা ঠিক নয়। এতে করে কিছুদিন পর সেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন যে বিষয়ে পড়বেন, সেটি সম্পর্কে আপনার আগ্রহ বা ধারণা না থাকলে, তা ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই প্রথমেই নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, কোন বিষয় পড়তে ভালো লাগে? কোন ধরনের কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
শুধু দেশের চাকরির বাজার নয়, বিদেশে সম্ভাবনা কেমন—সেটিও দেখুন
বিষয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের বর্তমান চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। তবে শুধু দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করলেই হবে না। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ এবং চাকরির সুযোগও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। কোনো বিষয়ে পড়লে কোন কোন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে, ওই বিষয়ে গবেষণার ক্ষেত্র কেমন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে স্কলারশিপ পাওয়া যায় কি না—এসব তথ্য আগে থেকেই খুঁজে দেখা সম্ভব।
এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে এসব তথ্য আগের চেয়ে অনেক সহজে পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন বিভাগের তথ্য, গবেষণার বিষয়, স্কলারশিপের শর্ত এবং চাকরির বিজ্ঞপ্তি, অনেক কিছুই হাতের মুঠোয়। তাই বিষয় নির্বাচনকে হেলাফেলা করে দেখার সুযোগ নেই।
তবে কোনো বিষয় সম্পর্কে শুধু ইন্টারনেটের তথ্য দেখলেই পুরো ধারণা পাওয়া যায় না। বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা কোথায় কাজ করছেন, তাঁরা পড়াশোনা শেষ করে কী ধরনের সুযোগ পেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চাকরির ক্ষেত্রে কতটা কাজে লেগেছে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা ভাবছেন, সেই বিভাগের পড়াশোনার পরিবেশও খোঁজ নেওয়া দরকার। শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ কেমন, কোর্সগুলো কতটা ব্যবহারিক, গবেষণার সুযোগ আছে কি না, ইন্টার্নশিপ বা বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ কেমন, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেক শিক্ষার্থী নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান না। ভর্তি পরীক্ষার ফল, আসনসংখ্যা বা অন্য কোনো কারণে তাঁকে অন্য বিষয়ে ভর্তি হতে হয়। এ কারণে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থীর কম্পিউটারবিজ্ঞানে আগ্রহ আছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে সে গণিত নিয়ে পড়ার সুযোগ পেল। সে চাইলে গণিতের পাশাপাশি কম্পিউটার নিয়ে নিজে শেখা শুরু করতে পারে। কোডিং, প্রোগ্রামিং বা অন্যান্য দক্ষতা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আবার সোশ্যাল সায়েন্স বা সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও কম্পিউটার, তথ্য বিশ্লেষণ, ইংরেজি ও যোগাযোগের মতো দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের কর্মক্ষেত্র বাড়াতে পারেন। আবার চারুকলা নিয়ে পড়েও অ্যাপ ডিজাইন বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সম্ভব। তবে যে বিষয়েই পড়া হোক, কিছু অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। কম্পিউটার ব্যবহার, ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলা, তথ্য বিশ্লেষণ, যোগাযোগ এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো দক্ষতা প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজে লাগে।
অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে ভালো ক্যারিয়ার করতে হলে ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল বা প্রযুক্তিনির্ভর কোনো বিষয়ে পড়তে হবে। এই ধারণা ঠিক নয়। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্যও নানা ক্ষেত্র রয়েছে। ধরা যাক, কারও লেখালেখি, সংবাদ ও সমাজের নানা ঘটনা নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। তাঁর জন্য সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগ ভালো পছন্দ হতে পারে। সাংবাদিকতার কাজ এখন শুধু সংবাদপত্র, টেলিভিশন বা রেডিওতে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন সাংবাদিকতা, ডিজিটাল কনটেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ, জনসংযোগ, উন্নয়ন যোগাযোগ, গবেষণা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজেও এই শিক্ষার ব্যবহার রয়েছে।
আবার সমাজের উন্নয়ন, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থাকলে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ইকোনমিক্স পড়লে অর্থনীতি, গবেষণা, ব্যাংকিং, নীতি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর ভূগোলের মতো বিষয়কে শুধু শিক্ষকতা বা প্রচলিত কয়েকটি পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখারও কারণ নেই। পরিবেশ, নগরায়ণ, জনসংখ্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের মতো ক্ষেত্রেও এর জ্ঞান কাজে লাগতে পারে।
কোনো একটি বিষয় হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে গেলেই সেখানে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সবাই বিবিএ পড়ছে বলে নিজেকেও বিবিএ পড়তে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আবার কোনো একটি পেশার সামাজিক মর্যাদা বেশি বলে সেটিই নিজের জন্য সেরা হবে, এমনটিও নয়।
অ্যাকাউন্টিং বা ফাইন্যান্সের মতো বিষয়ের চাহিদা দীর্ঘদিন থাকলেও ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রেও তথ্য বিশ্লেষণ ও ডেটা সায়েন্সের মতো দক্ষতার প্রয়োজন বাড়তে পারে। একইভাবে প্রকৌশল বা ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদেরও নিজের মূল বিষয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় একরোখা হওয়ার চেয়ে নমনীয় থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই বিষয় না পেলে পড়বই না, এমন মানসিকতা রাখা উচিত নয়। বিষয় পছন্দ না হলেও শেখার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন দক্ষতা অর্জন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করা যায়।
.png)

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হয়েছে। তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিটি পলিটিক্সে। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্তরা প্রাধান্য পাচ্ছেন সিটে। তাদের ‘দখলের’ কারণে পিষ্ট সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বরাদ্দ পেলেও নিজের সিটে উঠতে পারছেন না অনেকে।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় ‘নিলস-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) এই আয়োজনে দেশের ৫০-এর বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তখন মাসখানেক বাকি। চারদিকে ভোটের ব্যস্ততা। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময় শুরু হয় নিয়োগের তোড়জোড়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে আবেদন গ্রহণ, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ— পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হয় মাত্র ২৫ দিনে। ভোটের দুই দিন আগে (৯ ফেব্রুয়ারি) সিন্ডিকেট বসিয়ে ১৯ শিক্ষকের নিয়োগ
২৯ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় নিলস-এলইবি ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ জাতীয় আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০০-এর অধিক অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করছেন।
২৯ আগস্ট ২০২৬