নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন, ভিডিওটির নারী রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন, ভিডিওটির নারী রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী। ছবি: ভিডিও থেকে
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন, ভিডিওটির নারী রাজবাড়ীর ব্যবসায়ী। ছবি: ভিডিও থেকে

ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কিল-লাথি মারা হয়েছে। একই ভিডিও আরেকটি ক্যাপশনে ছড়িয়ে বলা হচ্ছে, ‘ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ায় একজন নারীকে এভাবেই পুলিশের সামনে মারধর এবং হেনস্থা করছে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা।’

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দাবি সঠিক নয়। ভিডিওর নারী কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নন এবং ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করেও ঘটনাটি ঘটেনি। তিনি রাজবাড়ী শহরের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের ‘আস্থা’ নামের একটি পোশাকের দোকানের পরিচালক জাকিয়া সুলতানা। ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য

ভিডিওটির বিভিন্ন স্থিরচিত্র ও ঘটনার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে রাজবাড়ীর স্থানীয় ফেসবুক পেজ Voice of Rajbari-তে ভিডিওটি পাওয়া যায়। ওই সূত্র ধরে ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে স্ট্রিম।

ঘটনার সূত্রপাত ও বিরোধের কারণ নিয়ে জাকিয়া সুলতানা ও তাঁর সাবেক কর্মচারী শাহানা পারভীন বৃষ্টি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। দুই পক্ষই ঘটনার পেছনে আগের বিরোধ ও পারস্পরিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

জাকিয়া সুলতানা স্ট্রিমকে জানান, বৃষ্টি তাঁর দোকানে প্রায় তিন মাস কাজ করেছেন। কাজ করার কথা ছিল আগস্ট পর্যন্ত। ২৩ আগস্ট বৃষ্টি তাঁর দোকানে এসে হামলা করেন। সে সময় বাজারে লোকজন না থাকায় ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। এর প্রতিবাদে ২৯ আগস্ট দুপুরে দোকানের সামনে মানববন্ধন করার সময় আবারও তাঁর ওপর হামলা করেন। তাঁর দাবি, পুলিশ তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও কয়েকজন তাকে কিল ও থাপ্পড় মারেন।

অন্যদিকে শাহানা পারভীন বৃষ্টি স্ট্রিমকে জানান, তিনি আগে ‘আস্থা’য় কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরে সেখানে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিজে ব্যবসা শুরু করেন। জাকিয়া সুলতানা তাঁর কয়েক মাসের বেতন পরিশোধ করেননি। তিনি জাকিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী স্ট্রিমকে বলেন, জাকিয়া সুলতানা বাইরে থেকে কয়েকজন নারীকে এনে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এর প্রতিবাদ করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে সভাপতির দোকানের সামনে গিয়েও হুমকি দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে তাকে প্রতিরোধ করেন। জাকিয়া সুলতানা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

কাপড় বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি বেনজীর হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, জাকিয়া সুলতানা বাইরে থেকে কয়েকজন নারীকে এনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা তাকে প্রতিহত করেন বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ তাকে সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার দাবির প্রমাণ নেই

ফেসবুকে একই ভিডিওর সঙ্গে আরও দাবি করা হয়েছে, ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার কারণে ওই নারীকে মারধর করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং পুলিশের বক্তব্যে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

যাচাইয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেনি। বরং ‘আস্থা’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে আগে থেকে চলা বিরোধের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে আস্থার মালিককে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে আসি। পরে কয়েকজন তাকে কিল-থাপ্পড় মারে। তিনি এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত