মাজারে কুমিরের মুখে জ্যান্ত কুকুর, তদন্তে কমিটি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ০১
খান জাহান আলীর মাজারের কুমির। সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজারের দিঘিতে কুমিরের খাবার হিসেবে জ্যান্ত কুকুর দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনকে প্রধান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছায়েব আলী ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শহিদুল ইসলামকে সদস্য করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।’

খানজাহান আলীর মাজারের দিঘির কুমির এখানকার ঐতিহ্যের অংশ। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী মানত নিয়ে এখানে আসেন। অনেকে কুমিরকে হাঁস, মুরগি ও ছাগল দিয়ে থাকেন।

মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান বলেন, ‘কুকুরটি আসলে অসুস্থ ছিল এবং জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে মনে হচ্ছিল। যাকে পাচ্ছিল তাকেই কামড় দিচ্ছিল। ঘটনার দিন দুই, তিনজনকে কামড় দেয়, এমনকি আমাকেও কামড়েছে।’ অবশ্য তাকে কোথায় কামড়েছে জানতে চাইলে তিনি তার পা দেখালেও সেখানে কামড়ের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

কুকুরটিকে কেন বাঁচালেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কুকুরটি নিজে থেকে ওপরে উঠতে পারছিল না। পা পিছলে যাওয়ায় বারবার উঠতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিল। এরই মধ্যে কুমির চলে আসায় ভয়ে আমি এগিয়ে যেতে পারেননি।’

মাজারের খাদেম মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একটি কুকুরকে কুমির খেয়ে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়, তা আসলে বিভ্রান্তিকর। প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। কুকুরটিকে কুমির ধরার সময় অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করেননি।

সম্পর্কিত