বাগেরহাটে মাজারের দীঘিতে কুমিরে টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বাগেরহাট

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০৯: ১০
বাগেরহাটে খান জাহান আলীর (রহ.) মাজারের দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া শিশু ফাতেমা আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে খান জাহান আলীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের আক্রমণের শিকার শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিঘির পূর্ব পাশে মহিলা ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমিরটি ফাতেমাকে টেনে নিয়ে যায়। পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরা তাতে যোগ দেয়।

স্থানীয়রা জানান, ফাতেমা মাজার এলাকায় বসবাসকারী মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ঘাটে অনেক মানুষ ছিলেন। গোসল করতে নামার কিছুক্ষণ পরই কুমিরটি শিশুটিকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। শিশুটি ওই সময় চিৎকার করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ পানিতে নামার সাহস পাননি।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ দাফন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে এপ্রিলে দিঘির কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই সময় মাজারের দিঘিতে এভাবে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

বাগেরহাটের খান জাহান আলীর (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমির রাখার ঐতিহ্য রয়েছে। কথিত আছে, খান জাহান আলী (রহ.) দিঘিটি খননের পর জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। সেই কুমিরের সবশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালে। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখতে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটা কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়েছিল। বাকিগুলো মারা যাওয়ায় এখন শুধু একটা কুমির দিঘিতে আছে।

সম্পর্কিত