আগামী অর্থবছরে ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য: প্রতিমন্ত্রী নুর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক। সংগৃহীত ছবি

আগামী অর্থবছরে বিদেশে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক।

আজ সোমবার (৮ জুন) তিনি জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং বাহরাইনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসী শ্রমিকেরা যাতে হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, তা বন্ধে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে বিদেশগামী যুবকদের জন্য ৮ শতাংশ সুদে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ দেয় সরকার। যা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া বিএমইটির (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) কার্ড নিয়ে যাঁরা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছেন, তাঁদের মরদেহ সরকার বিনা খরচে দেশে আনছে। পাশাপাশি যাঁদের কার্ড নেই তাঁদের লাশও মানবিক কারণে সরকারি খরচে দেশে আনা হয়।’

এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ টোল ফ্রি (বিনামূল্যে কথা বলার) একটি হটলাইন পরিচালনা করা হয়। দেশের বাইরে থেকে যেকোনো প্রবাসী তাঁদের যেকোনো সেবা কিংবা অসুবিধার কথা এখানে জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এ ছাড়া বাইরের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও তাঁদের সেবা দেওয়া হয়। আগে অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ ছিল না। এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এমওইউ হচ্ছে। যার ফলে শ্রমিকদের মর্যাদার প্রশ্নে কিংবা সোশ্যাল প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে ও কর্মক্ষেত্রে তাঁরা হয়রানির শিকার হলে সেটির প্রতিকার দাবি করতে পারি।’

সেফ হোমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম আছে। এ ছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসার সংখ্যা এখন কিছুটা কমেছে। এ ছাড়া আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের সমন্বয়ে সেখানে সহায়তা দেওয়া হয়। নারী শ্রমিকেরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে কাজের পরিবেশ এবং আইএলওর মানদণ্ড অনুযায়ী তাঁরা সোশ্যাল প্রোটেকশন পাবেন কিনা, সেগুলো নিশ্চিত করার পরেই আমরা তাঁদের পাঠাচ্ছি।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে শ্রমিক পাঠানোর জন্য আমরা একটি অ্যাডভান্স পুল তৈরি করার কথা ভাবছি। যেন মন্ত্রণালয় এবং ওই দেশের নিয়োগকর্তারা সরাসরি এখান থেকে তাঁদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কর্মী নিতে পারেন। এর মাধ্যমে এজেন্সির বাইরেও মন্ত্রণালয়ের একটি সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকবে।’

এর আগে আরেক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে মো. নূরুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার স্থাপিত হলে এর মাধ্যমে সারাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আশা করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাঁদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধ করা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার বদ্ধপরিকর।’

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত