রায়হান রাহিম

কলোনিয়ালিজম কইলেই আমাদের চোখের সামনে কী কী ভাইসা উঠে? বন্দুক, সৈন্য, ভিনদেশি রাজত্ব ব্লা ব্লা, এটসেট্রা এটসেট্রা!
কিন্তু হিস্ট্রির সবচেয়ে ডার্ক ট্রুথটা হইলো, কোনো মিলিটারি বাহিনী কিন্তু কলোনিয়ালিজমের পথরে স্মুদ করে নাই। এই কলোনিয়ালিজমের প্রসেসটা স্মুদ হইতে শুরু করে বিগ বিগ করপোরেশনগুলার আরোপ করা কিছু কিউট কিউট শব্দের মাধ্যমে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথাই ধরেন। শুরুতে এরা জাস্ট একটা ট্রেডিং কোম্পানি ছিল। হাতে রয়্যাল একটা চার্টার নিয়া তারা শুরুতে ব্যবসা করতে আসছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ আর ১৭৬৫ সালে দিওয়ানি অধিকার পাওয়ার পর এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটাই বাংলার অ্যাকচুয়াল রুলার, ট্যাক্স কালেক্টর হইয়া গেল। ১৭৬৯-৭০ সালে খরা আর ফসলহানিতে বাংলায় যখন দুর্ভিক্ষ নামলো, তারা তখন রেভিনিউ কালেকশন তো কমায়ই নাই, উল্টা কোনো কোনো বছর আগের থিকাও বেশি ট্যাক্স তুলছে। আর এর রেজাল্টই হইতেছে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’।

এই ঘটনায় তখন প্রায় এক কোটি মানুষ মারা যায়, যা ছিল বাংলার তখনকার পপুলেশনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর এই পুরা ঘটনাটাই ঘটছিল একটা ‘কোম্পানি’র ব্যানারে, কোনো রাষ্ট্রের নামে না।
আরেকটা এক্সাম্পল দিই। কঙ্গো ফ্রি স্টেট। ১৮৮৫ সালে বেলজিয়ামের রাজা সেকেন্ড লেওপোল্ড ‘ইন্টারন্যাশনাল আফ্রিকান অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটা প্রতিষ্ঠানের নামে কঙ্গো দখল করেন। সারা দুনিয়ার কাছে একটা হিউম্যানিটারিয়ান প্রজেক্ট হিসাবে এই কোম্পানির পরিচিতি ছিল। কিন্তু রিয়েলিটিতে এইটা ছিল রাবার এক্সট্র্যাক্ট করার একটা ব্রুটাল কোটা সিস্টেম। কোটা ফিল আপ করতে না পারলে হাত কাইটা ফেলা হইতো। ওই টাইমে প্রায় এক কোটি কঙ্গোলিজ মানুষ মারা যায়। অথচ গোটা দুনিয়ার কাছে লেওপোল্ড নিজেরে ‘গুড হিউম্যানিট্যারিয়ান’ হিসাবেই প্রেজেন্ট কইরা গেছেন।

এই দুইটা কেসেই একটা কমন প্যাটার্ন আপনার খেয়াল করার কথা!
কলোনিয়ালিজম কখনো আইসা বলে নাই, ‘ভাই, আমরা তোমারে লুট করতে আসছি।’ এইটা সব সময় নিজেরে ‘ট্রেড’, ‘চার্টার’, ‘সিভিলাইজিং মিশন’, বা ‘হিউম্যানিটারিয়ান প্রজেক্ট’-এর মতো কিউট কিউট শব্দের মোড়কে র্যাপ কইরা রাখছে। এদের শেয়ারহোল্ডার থাকতো, মিশন স্টেটমেন্ট থাকতো। আর এই ভাষাটাই এক্সট্র্যাকশন বা শোষণটারে স্মুদ কইরা দুনিয়ার চোখে মেনে নেওয়ার মতো লিগ্যাল আর লজিক্যাল বানায় তুলতো।
আজকের দিনে ঠিক এই স্ক্রিপ্টটাই ভাষা পাল্টায়ে রিপিট হইতেছে। ‘ট্রেড’ বা ‘সিভিলাইজিং মিশন’-এর জায়গায় এখনকার বাজওয়ার্ড হইলো ‘কানেক্টিং দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘ডেমোক্রাটাইজিং নলেজ’। আর ওপেনএআই এর মিশন স্টেটমেন্টের ভাষায় বললে, ‘এআই যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে লাগে।’
অর্থাৎ কোম্পানি আর ভাষা বদলায় গেছে, কিন্তু আন্ডারলাইং মেকানিজমটা প্রায় হুবহু সেইম আছে।
জাস্ট ভাইবা দেখেন, চ্যাটজিপিটিতে প্রম্পট লেইখা এন্টার চাপার ওই ফ্র্যাকশন অব আ সেকেন্ডে ব্যাকএন্ডে লিটারেলি একটা গ্লোবাল চেইন অ্যাক্টিভেট হয়ে যায়। আপনার মনে হইতে পারে জাস্ট কয়েকটা অ্যালগরিদম রান করলো, কিন্তু রিয়েলিটিতে এর আড়ালে কাজ করতেছে ডেটা, লেবার আর রিসোর্স এক্সট্র্যাকশনের একটা বিশাল নেটওয়ার্ক। টেক দুনিয়ার এই যে সাইলেন্ট এক্সপ্লয়টেশন, একাডেমিয়া আর জার্নালিজমে এই হোল সিস্টেমটার নাম এখন ‘এআই কলোনিয়ালিজম’।
মজার ব্যাপার হইতেছে, এই ‘এআই কলোনিয়ালিজম’ টার্মটা হুট কইরা আসমান থিকা পড়ে নাই।
এর গ্রাউন্ডওয়ার্ক হইছে ২০১৯ সালে। নিক কুলড্রি আর ইউলিসেস মেহিয়াস তাদের 'দ্য কস্টস অব কানেকশন' বইতে ফার্স্ট টাইম ‘ডেটা কলোনিয়ালিজম’ কনসেপ্টটা কয়েন করেন। তাদের আর্গুমেন্ট ছিল: হিস্ট্রিতে যে আমরা দেখি পুরান কলোনিয়ালিজম যেইভাবে মিলিটারি আর পলিটিক্যাল পাওয়ার খাটায়া জমি, সম্পদ আর মানুষের শ্রম দখল করছিল, এখনকার বিগ টেক করপোরেশনগুলাও ঠিক সেম কাজটাই করতেছে। এরা লিটারালি আমাদের ডেইলি লাইফটা দখল কইরা নিতেছে। এইটারে জাস্ট আপগ্রেডেড ক্যাপিটালিজম ভাবলে ভুল করবেন। বলা যায়, এই ঘটনা কলোনিয়ালিজম আর ক্যাপিটালিজমের পাঁচশ বছরের পুরান টক্সিক রিলেশনশিপেরই একটা ব্র্যান্ড নিউ চ্যাপ্টার।

এআই যখন এই সিস্টেমের ইঞ্জিন হয়ে উঠল, তখন এই থিয়োরিটা আরও স্পেসিফিক আর কংক্রিট হয়ে গেল। ২০২০ সালে শাকির মোহাম্মদ, মেরি থেরেসা পিং আর উইলিয়াম আইজ্যাক ‘ডিকলোনিয়াল এআই’ নামে একটা ফাউন্ডেশনাল পেপার লেখেন। সেখানে তারা দেখান, এআই ডেভেলপমেন্টের ভেতরে পাওয়ার আর ভেল্যুজের যে ডায়নামিকস কাজ করে, সেটা কীভাবে প্রায় সব সময়ই আড়ালে থাইকা যায়।
পরে ২০২৪ সালে ওয়েসেল মলেমা সরাসরি 'এআই কলোনিয়ালিজম' টার্মটা ইউজ করেন। তিনি দেখান এই কোম্পানিগুলা কীভাবে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আমাদের কালচারাল ডমিনেন্স, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের নামে আমাদের পানি-বিদ্যুৎ শুইষা নেওয়া, আর সস্তা লেবার বা শ্রম দিয়ে নিজেদের মডেল ট্রেইন করানোর মতো জিনিস দিয়া আমাদের এক্সপ্লয়েট করতেছে। এই যে শুধু নেওয়ার আর শুষে নেওয়ার একটা টেন্ডেন্সি, এই ‘এক্সট্র্যাক্টিভ লজিক’ বা শোষণ প্রক্রিয়াটাকেই তিনি এক সুতায় গাঁথেন।
এখন এই পুরো ফ্রেমওয়ার্কটাকে চারটা আলাদা, কিন্তু ইন্টারকানেক্টেড ডাইমেনশনে ভাগ কইরা দেখা যায়।
১) লেবার কলোনিয়ালিজম:
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পার্টটা হইতেছে লেবার এক্সপ্লয়টেশন। কোনো এআই মডেল ম্যাজিক্যালি একা একা সেইফ বা স্মার্ট হয়ে যায় না। এর পেছনে মানুষের গাধার খাটনি থাকে। এআই তো আর নিজে নিজে বোঝে না। তারে হাতে ধইরা ট্রেইন করতে হয় কোনটা কী। হাজার হাজার ছবি বা টেক্সটে ম্যানুয়ালি ট্যাগ বসাইতে হয়। এইটারে বলে ডেটা অ্যানোটেশন।
আবার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যত ডার্ক, ভায়োলেন্ট আর নোংরা আবর্জনা আছে, সেগুলারেও দিনের পর দিন নিজের চোখে দেইখা দেইখা ফিল্টার করতে হয়, যাতে এআই আপনার সামনে ভদ্রসভ্য আচরণ করে। এই কাজটারে বলা হয় কনটেন্ট মডারেশন।
টেক জায়ান্টরা এই মেন্টালি ড্রেইনিং কাজগুলা কেনিয়া, ফিলিপাইন বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থিকা আউটসোর্স করায় নেয়। সস্তা শ্রমের কারণেই মূলত তারা এই কাজটা করে, কারণ ঐসব জায়গায় এডুকেটেড কিন্তু ডেসপারেট ওয়ার্কারদের একদম চিপ রেটে পাওয়া যায়।

সাংবাদিক ক্যারেন হাও, তার ২০২৫ সালে পাবলিশড বই ‘এম্পায়ার অব এআই’তে দেখাইছেন, ওপেনএআই এর জন্য যেসব ওয়ার্কার দিনের পর দিন ওই হেট স্পিচ, সেলফ হার্ম আর ডিস্টার্বিং কনটেন্ট ফিল্টার করতো, তাদের অনেকেই পরে সিভিয়ার ট্রমা আর পিটিএসডিতে সাফার করছে। এই স্টোরিটা প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে, টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক বিলি প্যারিগোর একটা এক্সক্লুসিভ ইনভেস্টিগেশনে, যেখানে দেখা যায় নাইরোবির এই ওয়ার্কাররা ঘণ্টায় দুই ডলারেরও কম মজুরিতে কাজ করতেছিলেন। আর এই ট্রমা শুধু তাদের মধ্যেই আটকায় থাকে নাই, তাদের ফ্যামিলি-কমিউনিটিতেও স্প্রেড করছে। হাও-এর পয়েন্টটা অনেক সিম্পল এবং ইন্টারেস্টিং! হিস্ট্রিক্যাল কলোনাইজেশনের কারণে এই দেশগুলোর ইকোনমি এখনো ফ্র্যাজাইল, আর এই ভালনারেবিলিটিটারেই টেক কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রম হিসেবে ক্যাশ করতেছে।
২) রিসোর্স কলোনিয়ালিজম:
এইটারে ‘কম্পিউট কলোনিয়ালিজম’ও বলা যায়।
একটা এআই মডেলরে ট্রেইন করতে যে কী পরিমাণ কারেন্ট আর পানি লাগে! এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলারে ঠান্ডা রাখার জন্য বর্তমানে কোম্পানিগুলা চিলি, ব্রাজিল বা সাউথ আফ্রিকার মতো দেশে জায়গা খুঁজতেছে। এইসব দেশে সস্তায় জমি আর বিদ্যুতের পাশাপাশি ট্যাক্স বেনিফিটও মেলে। কিন্তু এতে কইরা লোকাল কমিউনিটির লাভ লিটারালি জিরো।
কঙ্গোর কথাই ধরেন। দেড়শ বছর আগে এই কঙ্গো থিকাই রাবার লুইটা নেওয়া হইছিল, আর এখন নেওয়া হইতেছে কোবাল্ট। দুনিয়ার ৭০ শতাংশ কোবাল্ট যেখান থিকা আসে, সেখানে এখনো চাইল্ড লেবার ইউজ হওয়ার অভিযোগ আছে। এদিকে চিলির আটাকামা মরুভূমিতে লিথিয়াম এক্সট্র্যাক্ট করতে গিয়া লোকাল আদিবাসীদের পানির সোর্স শুকায় ফেলা হইতেছে।
বটমলাইন হইতেছে, পুরানা কলোনিয়ালিজম আমাদের থিকা যেমন প্রচুর খনিজ আর কৃষিজাত সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছিল, নতুনটা ঠিক তেমন কইরাই আমাদের পানি আর কারেন্ট শুইষা নিচ্ছে।
৩) ল্যাঙ্গুয়েজ আর নলেজের কলোনিয়ালিজম:
বড় বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলা মূলত ইংরেজি আর ওয়েস্টার্ন ইন্টারনেট ডেটার ওপর বেস করে ট্রেইনড হয়। এর রেজাল্টে দেখা যায় এই মডেলগুলা কন্টিনিউয়াসলি ওয়েস্টার্ন নর্মস, জেন্ডার স্টেরিওটাইপ আর ভাষার একটা হায়ারার্কিকাল মূল্যায়ন রিপ্রোডিউস করতে থাকে। এটা আসলে ইম্পেরিয়াল নলেজ সিস্টেমেরই একটা অ্যালগরিদমিক ঘটনা।
বাংলার মতো ভাষাগুলা এখানে ‘লো রিসোর্স’ ক্যাটাগরিতে থাকে। এ কারণে এই সব ল্যাঙ্গুয়েজের পারফরম্যান্সও হয় বেশ উইক। কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রেও অনেকটা সেইম হিপোক্রেসি।
জানলে অবাক হইবেন, ২০২০ সালে ফেসবুক কনটেন্ট মডারেশনে যে ৩২ লাখ ঘণ্টা ব্যয় করছিল, তার মাত্র ১৩ পার্সেন্ট গেছে আমেরিকার বাইরের কনটেন্টের জন্য। অথচ তাদের বেশিরভাগ ইউজারই ইউএসের বাইরের লোকজন!
অবাক লাগলেও এটারে জাস্ট টেকনিক্যাল লিমিটেশন হিসেবে দেখার জো নাই। এটা একটা এপিস্টেমিক ঘটনা! এবং এই ঘটনা আমাদেরকে একটা আইরনিক কোশ্চেনের সামনে দাঁড় করায় দেয়। আর এই কোশ্চেনটা হইতেছে: কার ভাষা আর নলেজটারে আমরা ডিফল্ট ধইরা নিচ্ছি?
৪) কন্ট্রোলের কলোনিয়ালিজম:
এখানেই ‘এথিকস ডাম্পিং’ এর কনসেপ্টটা চইলা আসে।
অনেকেরই জানার কথা, নতুন বা আনটেস্টেড এআই সিস্টেমগুলা সবার আগে কোথায় টেস্ট করা হয়! যারা জানেন না, তাদেরকে বলি: নতুন বা আনটেস্টেড এআই সিস্টেমগুলা সেসব দেশে সবার আগে টেস্ট করা হয়, যেখানে ডেটা প্রটেকশন আইন একদম উইক বা নাই বললেই চলে।
যেসব জায়গায় কড়া রেগুলেশন, সেখানে টেক কোম্পানিগুলা খুবই অ্যালার্ট। আর যেখানে রেগুলেশন দুর্বল, সেখানে তারা ফুল এক্সপেরিমেন্টাল মোডে চইলা যায়। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলা এইভাবে বারবার একটা ফ্রি টেস্টিং গ্রাউন্ড হইয়া উঠে। এর ভিতর দিয়া রিস্কটা আমাদের কান্ধে চাপায় দেওয়া হয়। আর ফাইনাল প্রোডাকশন বা বেনিফিটটা এক্সপোর্ট হয়া যায় সেই গ্লোবাল নর্থেই।
এখন উপায়?
উপায় একটা আছে। এই হোল ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরেই একটা কাউন্টার ন্যারেটিভ বা রেজিস্ট্যান্স ট্র্যাডিশন তৈরি হইছে। ‘মোহাম্মদ-পিং-আইজ্যাক’ প্রস্তাব করছেন ‘রিভার্স ট্যুটেলেজ’ এর। সহজভাবে বলতে গেলে, শেখার এই রিলেশনশিপটারে একদম উল্টায়ে দেওয়ার আলাপ করছেন তারা। অর্থাৎ গ্লোবাল সাউথের নলেজরে সাইডলাইনে না রাইখা একেবারে সেন্টারে নিয়া আসার কথা বলছেন উনারা।
প্র্যাকটিক্যাল লেভেলে চিন্তা করলে, এখন কিন্তু ‘স্মল’ বা ‘লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ নিয়া বেশ ভালো আলোচনা হইতেছে। এগুলা রান করতে বিশাল কম্পিউট বা কারেন্ট লাগে না, আর স্পেসিফিক কোনো ভাষা বা কালচারের জন্য একদম কাস্টমাইজ কইরাই ট্রেইন করা যায়। এর সাথে উনারা ডেটা রেসিডেন্সি আইনের মতো পলিসি লেভেলের কথাবার্তাও প্রস্তাব করছেন। যাতে আমাদের দেশের ডেটা কোনো ফরেন সার্ভারে গিয়া গায়েব না হয়ে, আমাদের এখানেই থাকে।
অফকোর্স, এই থিওরিরও কিছু লিমিটেশন আছে। অনেক ক্রিটিকই আর্গুমেন্ট দিতেছেন যে ‘কলোনিয়ালিজম’ টার্মটা ইদানিং এত ঢালাওভাবে ইউজ হইতেছে যে, এর অ্যানালিটিক্যাল প্রিসিশন বা ধারটাই কইমা যাচ্ছে। আপনি যদি লেবার এক্সপ্লয়টেশন, রিসোর্স এক্সট্র্যাকশন আর ঐতিহাসিক কলোনিয়ালিজমের মতো এই তিনটা জিনিসরে জাস্ট একটা ছাতার নিচে আইনা ফেলেন, তাইলে প্রতিটার যে আলাদা পলিটিক্যাল আর ইকোনমিক মেকানিজম আছে, সেটা ফিগার আউট করা টাফ হয়া যায়।
বাট এত লুপহোল বা লিমিটেশনের পরেও, এই ফ্রেমওয়ার্কটা আসলে আমাদেরকে মারাত্মক জরুরি একটা রিয়েলিটি চেক দেয়। এইটা আমাদের ফিল করায়, এআই কোনো নিউট্রাল বা আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ম্যাজিক্যাল টুল না। এইটা পুরাটাই একটা পাওয়ার স্ট্রাকচারের ঘটনা। আর সেই রিয়েলিটিটা দেখতে পারাই হয়তো এর ম্যাট্রিক্স থিকা বের হওয়ার সবচেয়ে জরুরি ফার্স্ট স্টেপ। কলোনিয়ালিজম কখনো বন্দুক দিয়া শুরু হয় নাই, শুরু হইছিল কিছু কোম্পানির মিষ্টি ভাষা দিয়া। এআই কলোনিয়ালিজমও ঠিক তেমন ভাবেই শুরু হইতেছে।
খালি রয়্যাল চার্টারের বদলে এখন আসছে ‘টার্মস অব সার্ভিস’।

কলোনিয়ালিজম কইলেই আমাদের চোখের সামনে কী কী ভাইসা উঠে? বন্দুক, সৈন্য, ভিনদেশি রাজত্ব ব্লা ব্লা, এটসেট্রা এটসেট্রা!
কিন্তু হিস্ট্রির সবচেয়ে ডার্ক ট্রুথটা হইলো, কোনো মিলিটারি বাহিনী কিন্তু কলোনিয়ালিজমের পথরে স্মুদ করে নাই। এই কলোনিয়ালিজমের প্রসেসটা স্মুদ হইতে শুরু করে বিগ বিগ করপোরেশনগুলার আরোপ করা কিছু কিউট কিউট শব্দের মাধ্যমে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথাই ধরেন। শুরুতে এরা জাস্ট একটা ট্রেডিং কোম্পানি ছিল। হাতে রয়্যাল একটা চার্টার নিয়া তারা শুরুতে ব্যবসা করতে আসছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ আর ১৭৬৫ সালে দিওয়ানি অধিকার পাওয়ার পর এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটাই বাংলার অ্যাকচুয়াল রুলার, ট্যাক্স কালেক্টর হইয়া গেল। ১৭৬৯-৭০ সালে খরা আর ফসলহানিতে বাংলায় যখন দুর্ভিক্ষ নামলো, তারা তখন রেভিনিউ কালেকশন তো কমায়ই নাই, উল্টা কোনো কোনো বছর আগের থিকাও বেশি ট্যাক্স তুলছে। আর এর রেজাল্টই হইতেছে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’।

এই ঘটনায় তখন প্রায় এক কোটি মানুষ মারা যায়, যা ছিল বাংলার তখনকার পপুলেশনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর এই পুরা ঘটনাটাই ঘটছিল একটা ‘কোম্পানি’র ব্যানারে, কোনো রাষ্ট্রের নামে না।
আরেকটা এক্সাম্পল দিই। কঙ্গো ফ্রি স্টেট। ১৮৮৫ সালে বেলজিয়ামের রাজা সেকেন্ড লেওপোল্ড ‘ইন্টারন্যাশনাল আফ্রিকান অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটা প্রতিষ্ঠানের নামে কঙ্গো দখল করেন। সারা দুনিয়ার কাছে একটা হিউম্যানিটারিয়ান প্রজেক্ট হিসাবে এই কোম্পানির পরিচিতি ছিল। কিন্তু রিয়েলিটিতে এইটা ছিল রাবার এক্সট্র্যাক্ট করার একটা ব্রুটাল কোটা সিস্টেম। কোটা ফিল আপ করতে না পারলে হাত কাইটা ফেলা হইতো। ওই টাইমে প্রায় এক কোটি কঙ্গোলিজ মানুষ মারা যায়। অথচ গোটা দুনিয়ার কাছে লেওপোল্ড নিজেরে ‘গুড হিউম্যানিট্যারিয়ান’ হিসাবেই প্রেজেন্ট কইরা গেছেন।

এই দুইটা কেসেই একটা কমন প্যাটার্ন আপনার খেয়াল করার কথা!
কলোনিয়ালিজম কখনো আইসা বলে নাই, ‘ভাই, আমরা তোমারে লুট করতে আসছি।’ এইটা সব সময় নিজেরে ‘ট্রেড’, ‘চার্টার’, ‘সিভিলাইজিং মিশন’, বা ‘হিউম্যানিটারিয়ান প্রজেক্ট’-এর মতো কিউট কিউট শব্দের মোড়কে র্যাপ কইরা রাখছে। এদের শেয়ারহোল্ডার থাকতো, মিশন স্টেটমেন্ট থাকতো। আর এই ভাষাটাই এক্সট্র্যাকশন বা শোষণটারে স্মুদ কইরা দুনিয়ার চোখে মেনে নেওয়ার মতো লিগ্যাল আর লজিক্যাল বানায় তুলতো।
আজকের দিনে ঠিক এই স্ক্রিপ্টটাই ভাষা পাল্টায়ে রিপিট হইতেছে। ‘ট্রেড’ বা ‘সিভিলাইজিং মিশন’-এর জায়গায় এখনকার বাজওয়ার্ড হইলো ‘কানেক্টিং দ্য ওয়ার্ল্ড’, ‘ডেমোক্রাটাইজিং নলেজ’। আর ওপেনএআই এর মিশন স্টেটমেন্টের ভাষায় বললে, ‘এআই যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে লাগে।’
অর্থাৎ কোম্পানি আর ভাষা বদলায় গেছে, কিন্তু আন্ডারলাইং মেকানিজমটা প্রায় হুবহু সেইম আছে।
জাস্ট ভাইবা দেখেন, চ্যাটজিপিটিতে প্রম্পট লেইখা এন্টার চাপার ওই ফ্র্যাকশন অব আ সেকেন্ডে ব্যাকএন্ডে লিটারেলি একটা গ্লোবাল চেইন অ্যাক্টিভেট হয়ে যায়। আপনার মনে হইতে পারে জাস্ট কয়েকটা অ্যালগরিদম রান করলো, কিন্তু রিয়েলিটিতে এর আড়ালে কাজ করতেছে ডেটা, লেবার আর রিসোর্স এক্সট্র্যাকশনের একটা বিশাল নেটওয়ার্ক। টেক দুনিয়ার এই যে সাইলেন্ট এক্সপ্লয়টেশন, একাডেমিয়া আর জার্নালিজমে এই হোল সিস্টেমটার নাম এখন ‘এআই কলোনিয়ালিজম’।
মজার ব্যাপার হইতেছে, এই ‘এআই কলোনিয়ালিজম’ টার্মটা হুট কইরা আসমান থিকা পড়ে নাই।
এর গ্রাউন্ডওয়ার্ক হইছে ২০১৯ সালে। নিক কুলড্রি আর ইউলিসেস মেহিয়াস তাদের 'দ্য কস্টস অব কানেকশন' বইতে ফার্স্ট টাইম ‘ডেটা কলোনিয়ালিজম’ কনসেপ্টটা কয়েন করেন। তাদের আর্গুমেন্ট ছিল: হিস্ট্রিতে যে আমরা দেখি পুরান কলোনিয়ালিজম যেইভাবে মিলিটারি আর পলিটিক্যাল পাওয়ার খাটায়া জমি, সম্পদ আর মানুষের শ্রম দখল করছিল, এখনকার বিগ টেক করপোরেশনগুলাও ঠিক সেম কাজটাই করতেছে। এরা লিটারালি আমাদের ডেইলি লাইফটা দখল কইরা নিতেছে। এইটারে জাস্ট আপগ্রেডেড ক্যাপিটালিজম ভাবলে ভুল করবেন। বলা যায়, এই ঘটনা কলোনিয়ালিজম আর ক্যাপিটালিজমের পাঁচশ বছরের পুরান টক্সিক রিলেশনশিপেরই একটা ব্র্যান্ড নিউ চ্যাপ্টার।

এআই যখন এই সিস্টেমের ইঞ্জিন হয়ে উঠল, তখন এই থিয়োরিটা আরও স্পেসিফিক আর কংক্রিট হয়ে গেল। ২০২০ সালে শাকির মোহাম্মদ, মেরি থেরেসা পিং আর উইলিয়াম আইজ্যাক ‘ডিকলোনিয়াল এআই’ নামে একটা ফাউন্ডেশনাল পেপার লেখেন। সেখানে তারা দেখান, এআই ডেভেলপমেন্টের ভেতরে পাওয়ার আর ভেল্যুজের যে ডায়নামিকস কাজ করে, সেটা কীভাবে প্রায় সব সময়ই আড়ালে থাইকা যায়।
পরে ২০২৪ সালে ওয়েসেল মলেমা সরাসরি 'এআই কলোনিয়ালিজম' টার্মটা ইউজ করেন। তিনি দেখান এই কোম্পানিগুলা কীভাবে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আমাদের কালচারাল ডমিনেন্স, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের নামে আমাদের পানি-বিদ্যুৎ শুইষা নেওয়া, আর সস্তা লেবার বা শ্রম দিয়ে নিজেদের মডেল ট্রেইন করানোর মতো জিনিস দিয়া আমাদের এক্সপ্লয়েট করতেছে। এই যে শুধু নেওয়ার আর শুষে নেওয়ার একটা টেন্ডেন্সি, এই ‘এক্সট্র্যাক্টিভ লজিক’ বা শোষণ প্রক্রিয়াটাকেই তিনি এক সুতায় গাঁথেন।
এখন এই পুরো ফ্রেমওয়ার্কটাকে চারটা আলাদা, কিন্তু ইন্টারকানেক্টেড ডাইমেনশনে ভাগ কইরা দেখা যায়।
১) লেবার কলোনিয়ালিজম:
সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো পার্টটা হইতেছে লেবার এক্সপ্লয়টেশন। কোনো এআই মডেল ম্যাজিক্যালি একা একা সেইফ বা স্মার্ট হয়ে যায় না। এর পেছনে মানুষের গাধার খাটনি থাকে। এআই তো আর নিজে নিজে বোঝে না। তারে হাতে ধইরা ট্রেইন করতে হয় কোনটা কী। হাজার হাজার ছবি বা টেক্সটে ম্যানুয়ালি ট্যাগ বসাইতে হয়। এইটারে বলে ডেটা অ্যানোটেশন।
আবার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় যত ডার্ক, ভায়োলেন্ট আর নোংরা আবর্জনা আছে, সেগুলারেও দিনের পর দিন নিজের চোখে দেইখা দেইখা ফিল্টার করতে হয়, যাতে এআই আপনার সামনে ভদ্রসভ্য আচরণ করে। এই কাজটারে বলা হয় কনটেন্ট মডারেশন।
টেক জায়ান্টরা এই মেন্টালি ড্রেইনিং কাজগুলা কেনিয়া, ফিলিপাইন বা ভেনেজুয়েলার মতো দেশ থিকা আউটসোর্স করায় নেয়। সস্তা শ্রমের কারণেই মূলত তারা এই কাজটা করে, কারণ ঐসব জায়গায় এডুকেটেড কিন্তু ডেসপারেট ওয়ার্কারদের একদম চিপ রেটে পাওয়া যায়।

সাংবাদিক ক্যারেন হাও, তার ২০২৫ সালে পাবলিশড বই ‘এম্পায়ার অব এআই’তে দেখাইছেন, ওপেনএআই এর জন্য যেসব ওয়ার্কার দিনের পর দিন ওই হেট স্পিচ, সেলফ হার্ম আর ডিস্টার্বিং কনটেন্ট ফিল্টার করতো, তাদের অনেকেই পরে সিভিয়ার ট্রমা আর পিটিএসডিতে সাফার করছে। এই স্টোরিটা প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে, টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক বিলি প্যারিগোর একটা এক্সক্লুসিভ ইনভেস্টিগেশনে, যেখানে দেখা যায় নাইরোবির এই ওয়ার্কাররা ঘণ্টায় দুই ডলারেরও কম মজুরিতে কাজ করতেছিলেন। আর এই ট্রমা শুধু তাদের মধ্যেই আটকায় থাকে নাই, তাদের ফ্যামিলি-কমিউনিটিতেও স্প্রেড করছে। হাও-এর পয়েন্টটা অনেক সিম্পল এবং ইন্টারেস্টিং! হিস্ট্রিক্যাল কলোনাইজেশনের কারণে এই দেশগুলোর ইকোনমি এখনো ফ্র্যাজাইল, আর এই ভালনারেবিলিটিটারেই টেক কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রম হিসেবে ক্যাশ করতেছে।
২) রিসোর্স কলোনিয়ালিজম:
এইটারে ‘কম্পিউট কলোনিয়ালিজম’ও বলা যায়।
একটা এআই মডেলরে ট্রেইন করতে যে কী পরিমাণ কারেন্ট আর পানি লাগে! এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলারে ঠান্ডা রাখার জন্য বর্তমানে কোম্পানিগুলা চিলি, ব্রাজিল বা সাউথ আফ্রিকার মতো দেশে জায়গা খুঁজতেছে। এইসব দেশে সস্তায় জমি আর বিদ্যুতের পাশাপাশি ট্যাক্স বেনিফিটও মেলে। কিন্তু এতে কইরা লোকাল কমিউনিটির লাভ লিটারালি জিরো।
কঙ্গোর কথাই ধরেন। দেড়শ বছর আগে এই কঙ্গো থিকাই রাবার লুইটা নেওয়া হইছিল, আর এখন নেওয়া হইতেছে কোবাল্ট। দুনিয়ার ৭০ শতাংশ কোবাল্ট যেখান থিকা আসে, সেখানে এখনো চাইল্ড লেবার ইউজ হওয়ার অভিযোগ আছে। এদিকে চিলির আটাকামা মরুভূমিতে লিথিয়াম এক্সট্র্যাক্ট করতে গিয়া লোকাল আদিবাসীদের পানির সোর্স শুকায় ফেলা হইতেছে।
বটমলাইন হইতেছে, পুরানা কলোনিয়ালিজম আমাদের থিকা যেমন প্রচুর খনিজ আর কৃষিজাত সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছিল, নতুনটা ঠিক তেমন কইরাই আমাদের পানি আর কারেন্ট শুইষা নিচ্ছে।
৩) ল্যাঙ্গুয়েজ আর নলেজের কলোনিয়ালিজম:
বড় বড় ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলা মূলত ইংরেজি আর ওয়েস্টার্ন ইন্টারনেট ডেটার ওপর বেস করে ট্রেইনড হয়। এর রেজাল্টে দেখা যায় এই মডেলগুলা কন্টিনিউয়াসলি ওয়েস্টার্ন নর্মস, জেন্ডার স্টেরিওটাইপ আর ভাষার একটা হায়ারার্কিকাল মূল্যায়ন রিপ্রোডিউস করতে থাকে। এটা আসলে ইম্পেরিয়াল নলেজ সিস্টেমেরই একটা অ্যালগরিদমিক ঘটনা।
বাংলার মতো ভাষাগুলা এখানে ‘লো রিসোর্স’ ক্যাটাগরিতে থাকে। এ কারণে এই সব ল্যাঙ্গুয়েজের পারফরম্যান্সও হয় বেশ উইক। কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রেও অনেকটা সেইম হিপোক্রেসি।
জানলে অবাক হইবেন, ২০২০ সালে ফেসবুক কনটেন্ট মডারেশনে যে ৩২ লাখ ঘণ্টা ব্যয় করছিল, তার মাত্র ১৩ পার্সেন্ট গেছে আমেরিকার বাইরের কনটেন্টের জন্য। অথচ তাদের বেশিরভাগ ইউজারই ইউএসের বাইরের লোকজন!
অবাক লাগলেও এটারে জাস্ট টেকনিক্যাল লিমিটেশন হিসেবে দেখার জো নাই। এটা একটা এপিস্টেমিক ঘটনা! এবং এই ঘটনা আমাদেরকে একটা আইরনিক কোশ্চেনের সামনে দাঁড় করায় দেয়। আর এই কোশ্চেনটা হইতেছে: কার ভাষা আর নলেজটারে আমরা ডিফল্ট ধইরা নিচ্ছি?
৪) কন্ট্রোলের কলোনিয়ালিজম:
এখানেই ‘এথিকস ডাম্পিং’ এর কনসেপ্টটা চইলা আসে।
অনেকেরই জানার কথা, নতুন বা আনটেস্টেড এআই সিস্টেমগুলা সবার আগে কোথায় টেস্ট করা হয়! যারা জানেন না, তাদেরকে বলি: নতুন বা আনটেস্টেড এআই সিস্টেমগুলা সেসব দেশে সবার আগে টেস্ট করা হয়, যেখানে ডেটা প্রটেকশন আইন একদম উইক বা নাই বললেই চলে।
যেসব জায়গায় কড়া রেগুলেশন, সেখানে টেক কোম্পানিগুলা খুবই অ্যালার্ট। আর যেখানে রেগুলেশন দুর্বল, সেখানে তারা ফুল এক্সপেরিমেন্টাল মোডে চইলা যায়। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলা এইভাবে বারবার একটা ফ্রি টেস্টিং গ্রাউন্ড হইয়া উঠে। এর ভিতর দিয়া রিস্কটা আমাদের কান্ধে চাপায় দেওয়া হয়। আর ফাইনাল প্রোডাকশন বা বেনিফিটটা এক্সপোর্ট হয়া যায় সেই গ্লোবাল নর্থেই।
এখন উপায়?
উপায় একটা আছে। এই হোল ফ্রেমওয়ার্কের ভেতরেই একটা কাউন্টার ন্যারেটিভ বা রেজিস্ট্যান্স ট্র্যাডিশন তৈরি হইছে। ‘মোহাম্মদ-পিং-আইজ্যাক’ প্রস্তাব করছেন ‘রিভার্স ট্যুটেলেজ’ এর। সহজভাবে বলতে গেলে, শেখার এই রিলেশনশিপটারে একদম উল্টায়ে দেওয়ার আলাপ করছেন তারা। অর্থাৎ গ্লোবাল সাউথের নলেজরে সাইডলাইনে না রাইখা একেবারে সেন্টারে নিয়া আসার কথা বলছেন উনারা।
প্র্যাকটিক্যাল লেভেলে চিন্তা করলে, এখন কিন্তু ‘স্মল’ বা ‘লোকাল ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ নিয়া বেশ ভালো আলোচনা হইতেছে। এগুলা রান করতে বিশাল কম্পিউট বা কারেন্ট লাগে না, আর স্পেসিফিক কোনো ভাষা বা কালচারের জন্য একদম কাস্টমাইজ কইরাই ট্রেইন করা যায়। এর সাথে উনারা ডেটা রেসিডেন্সি আইনের মতো পলিসি লেভেলের কথাবার্তাও প্রস্তাব করছেন। যাতে আমাদের দেশের ডেটা কোনো ফরেন সার্ভারে গিয়া গায়েব না হয়ে, আমাদের এখানেই থাকে।
অফকোর্স, এই থিওরিরও কিছু লিমিটেশন আছে। অনেক ক্রিটিকই আর্গুমেন্ট দিতেছেন যে ‘কলোনিয়ালিজম’ টার্মটা ইদানিং এত ঢালাওভাবে ইউজ হইতেছে যে, এর অ্যানালিটিক্যাল প্রিসিশন বা ধারটাই কইমা যাচ্ছে। আপনি যদি লেবার এক্সপ্লয়টেশন, রিসোর্স এক্সট্র্যাকশন আর ঐতিহাসিক কলোনিয়ালিজমের মতো এই তিনটা জিনিসরে জাস্ট একটা ছাতার নিচে আইনা ফেলেন, তাইলে প্রতিটার যে আলাদা পলিটিক্যাল আর ইকোনমিক মেকানিজম আছে, সেটা ফিগার আউট করা টাফ হয়া যায়।
বাট এত লুপহোল বা লিমিটেশনের পরেও, এই ফ্রেমওয়ার্কটা আসলে আমাদেরকে মারাত্মক জরুরি একটা রিয়েলিটি চেক দেয়। এইটা আমাদের ফিল করায়, এআই কোনো নিউট্রাল বা আউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ম্যাজিক্যাল টুল না। এইটা পুরাটাই একটা পাওয়ার স্ট্রাকচারের ঘটনা। আর সেই রিয়েলিটিটা দেখতে পারাই হয়তো এর ম্যাট্রিক্স থিকা বের হওয়ার সবচেয়ে জরুরি ফার্স্ট স্টেপ। কলোনিয়ালিজম কখনো বন্দুক দিয়া শুরু হয় নাই, শুরু হইছিল কিছু কোম্পানির মিষ্টি ভাষা দিয়া। এআই কলোনিয়ালিজমও ঠিক তেমন ভাবেই শুরু হইতেছে।
খালি রয়্যাল চার্টারের বদলে এখন আসছে ‘টার্মস অব সার্ভিস’।
.png)

কী কী শর্তপূরণ হলে আমরা কোনো শিল্পকর্মকে বৈপ্লবিক বলতে পারি? শিল্পের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক হওয়ার একটা জায়গা থাকে শিল্পশৈলী ও শিল্প-মাধ্যমের দিক থেকে। সেই দিক বিবেচনায় সুবোধ সিরিজটা অতিপরিচিত সীমিত রঙে করা স্টেনসিল পদ্ধতির গ্রাফিতি। মূলত জনপরিসরে যখন এই সিরিজ নিয়ে আলাপ হয় তা এর শিল্পশৈলী না, বরঞ্চ এ
০১ আগস্ট ২০২৬
মিম কালচারে বিটলসের ড্রামার রিঙ্গো স্টাররে নিয়া মজার একটা লাইন আছে। লাইনটা হইল—‘রিঙ্গো ওয়াজ নট ইভেন দ্য বেস্ট ড্রামার ইন দ্য বিটলস।’ আমার কাছে মনে হয়, পপ কালচারের সবচেয়ে ক্লিশে জিনিসটা হইলো, পপ কালচার সবসময় ‘ফ্রন্টম্যান’ আর ‘মাস্টারমাইন্ড’ ন্যারেটিভ সেল করতে পছন্দ করে।
০৭ জুলাই ২০২৬
একটা বাংলা সিনেমা তৈরি হইছে আর এই জন্য সারাদেশ থিকা ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষেরা শহরে ভিড় করতে শুরু করছেন। সিনেমা হল খুঁজতেছে সবাই, সিনেমা দেখবে। কেউ কেউ তো কাঁথা বালিশও নিয়া আসছেন। শুয়ে পড়ছেন সিনেমা হলের গেটে। সকাল সকাল টিকেট পাইতে হবে, যদি টিকেট শেষ হইয়া যায়। গ্রামেও এই সিনেমার ক্রেজ ছড়ায় পড়ছে।
০৫ জুলাই ২০২৬
গতকাল ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ এক ‘সৃজনশীল’ কাজের দেখা পেলাম। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১৯৪৩ সালের যুগান্তকারী কালি-কলমে আঁকা দুর্ভিক্ষ সিরিজকে তুলে আনা হয়েছে নেকলেসে। ক্লে-এর ওপর অ্যাক্রিলিকে আঁকা, তাতে রেজিনের প্রলেপ, আর সঙ্গত দিচ্ছে কাঠের পুঁতি। আজকের পুঁজিবাদী দুনিয়ায় এ অবশ্য নতুন কিছু
০২ জুলাই ২০২৬