বাবার কান্না, টাকা খ্যায়া তোক মারলে বাবা পুলিশে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ধরে পীরগাছা থানার সামনে বিলাপ করেন মনোয়ারুল বকশীর বাবা জাফর আলী বকশী। স্ট্রিম ছবি

‘তোক মারলে বাবা পুলিশে। এই পীরগাছার পুলিশে মারলে বাবা। টাকা খ্যায়া মারলে বাবা’। রংপুরের পীরগাছা থানার সামনে ছেলের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স জড়িয়ে এভাবেই কান্না করেন জাফর আলী বকশী।

শনিবার (৮ আগস্ট) পরিকল্পিতভাবে সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনোয়ারুল হোসেন বকশীকে (২৯) হত্যার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টার পরে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে পাঁচ তলা ভবনের ‘ছাদ থেকে পড়ে’ ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল নিহত হন। এই সময়ে এক কিশোরীর সন্ধানে তাঁর বাসায় সাভার মডেল থানার সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করছিল পীরগাছা থানার পুলিশ।

মনোয়ারুল হোসেন বিপিএটিসির নিরাপত্তারক্ষী জাফর আলী বকশীর ছেলে ও সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, পীরগাছার এক কিশোরীকে প্রেমের সম্পর্কে এনে মামা মনোয়ারুল হোসেনের বাসায় তোলেন তাঁর ভাগনে। মেয়েটির পরিবারের জিডির সূত্রে বাসাটিতে অভিযান চালায় পীরগাছা থানার পুলিশ।

ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা। স্ট্রিম ছবি
ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর লাশ নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা। স্ট্রিম ছবি

মনোয়ারুলের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি স্থায়ীভাবে সাভারে বসবাস করতেন। ঢাকা থেকে শনিবার সকালে মনোয়ারুলের লাশ পীরগাছা থানার সামনে আসেন স্বজনেরা। সেখানে লাশ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। খবর পেয়ে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

পরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’

স্বজনেরা জানান, কিশোরীর সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুজন স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন। মেয়েকে উদ্ধারের অভিযানে তাঁর বাবা ও আরেকজন পুলিশের পোশাক পরে অংশ নেন। তারাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

থানার সামনে নিহত ছাত্রদল নেতার ভাই মমদেল হোসেন বলেন, ‘মেয়েটির বাবা পুলিশের সহায়তায় আমার ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে। প্রেমের সম্পর্কে আমার ভাগনে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে। কিন্তু মেয়েটির বাবা সন্দেহ থেকে আমার ভাইয়ের বাসায় পুলিশ নিয়ে যান। সেখানে তারা ছেলে-মেয়ে কাউকে পায়নি। ছাদে ভাইয়ের সঙ্গে হয়তো কথা কাটাকাটির সময় ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছে। তারাই আবার নিচে নেমে বলেছে– তাড়াতাড়ি হাসপাতাল নিয়া যান। ভাইকে তো আমরা বাঁচাতে পারি নাই।’

পীরগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোফাচ্ছিরুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘মনোয়ারুল আমাদের সহযোদ্ধা ছিলেন। আমরা চাই– তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, কারা জড়িত তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক। প্রকৃত অপরাধী যেন ছাড়া না পায়।’

জানতে চাইলে পীরগাছা থানার ওসি সেলিম মালিক জানান, লাশ নিয়ে স্বজনেরা কিছু কথা জানার জন্য থানায় এসেছিলেন। আমাদের থানা পুলিশ কী কারণে সাভার গেছে, কারা ছিল– এসব। পরে তারা লাশ নিয়ে আবার চলে যান।

তিনি বলেন, ‘সাভার মডেল থানার সহায়তায় ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধারের অভিযানের সময় পুলিশই হঠাৎ শব্দ শুনতে পায়। একটি ছেলে পাঁচ তলা থেকে পড়ে গেছে। তিনি লাফ দিয়েছেন, নাকি কিছু ঘটেছে, তা জানি না। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। আমরা শুধু ভুক্তভোগীকে উদ্ধারে গেছি। কিন্তু তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত