জুলাই জাদুঘরে শাপলাহত্যার ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মোছার পরামর্শ মামুনুল হকের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২০: ০৪
দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণভবনে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করেন মাওলানা মামুনুল হক। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে স্থান পাওয়া শাপলা চত্বরের শহীদদের ভাস্কর্যের মুখাবয়ব মুছে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে জাদুঘর পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়ে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি—সেটি হলো ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় মুসলিম সংস্কৃতি ও মূল্যবোধবিরোধী মানুষের ভাস্কর্য থাকতে পারে না। সে জায়গা থেকে শাপলা চত্বরের শহীদদের মুখাবয়ব বাদ দিয়ে তাঁদের স্মৃতি ও ঘটনাকে চিত্রিত করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলের পৈশাচিকতা, নির্যাতন এবং লাশের সঙ্গে করা বর্বর আচরণের চিত্র এখানে উঠে এসেছে। এই জাদুঘর বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য, বিশেষ করে রাষ্ট্রের শাসকদের জন্য শিক্ষণীয়।

তবে প্রদর্শনীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই হেফাজত নেতা জানান, অনেক মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে রাখা রয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঐতিহাসিক ঘটনার তথ্য সংরক্ষণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে হওয়া হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৫-১৬ সালে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করার প্রতিবাদে আন্দোলনের ইতিহাস এখানে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী বিক্ষোভের ইতিহাসও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফেলানী হত্যার ছবি সরিয়ে ফেলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবির চেয়ে বড় ফ্যাসিবাদী নির্যাতনের ছবি আমাদের সামনে আসেনি। এই ছবি পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব (রিপ্রেজেন্ট) করে। এটি সরিয়ে ফেলায় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছি।’ কারও মুখের দিকে না তাকিয়ে ১৯৭১ সালের মতো সীমান্ত হত্যা ও মোদিবিরোধী বিক্ষোভের ইতিহাসও সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

জাদুঘরে জুলাই বিপ্লবের অংশীজনদের অবদানের স্বীকৃতিতে বৈষম্য করা হয়েছে দাবি করে মামুনুল হক বলেন, যার যতটুকু ভূমিকা রয়েছে সেভাবেই তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মনোযোগ আশা করেন তিনি।

পরিদর্শনে দলের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন উপস্থিত ছিলেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত