২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে তিনটি নির্বাচন পরপর হলো, সেগুলো অংশগ্রহণমূলক ছিল না, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ওই নির্বাচনগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করেছে।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবুও গত অন্তত চারটি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের রেকর্ড হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে মোট প্রার্থীসংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। অন্যদিকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৩৮টি দল। এরপর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল আরও কম।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সেভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি প্রার্থীরা। হয় দলের মনোনয়ন বা ডামি প্রার্থী, অথবা লোকদেখানো বিরোধীদল দিয়ে নির্বাচন কিংবা কৌশলে দলের লোকদেরই স্বতন্ত্র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে দল এবং প্রার্থীসংখ্যা কম ছিল।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে তিনটি নির্বাচন হলো, সেগুলো অংশগ্রহণমূলক ছিল না, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ওই নির্বাচনগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করেছে। নির্বাচনগুলো আসলে ক্ষমতা কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, এটা নিয়ে সন্দেহ ছিল।
গত চার মেয়াদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে বাস্তবে ক্ষমতা কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে কে এম মহিউদ্দিন বলেন, এসব নির্বাচন ক্ষমতা কাঠামোকে নবায়ন করার জন্য হয়েছে। ফলে সেখানে নির্বাচনে দলীয় অংশগ্রহণটা সীমিত ছিল। এ ছাড়া বিএনপি দুটি নির্বাচন বর্জন করেছিল।
দলের সংখ্যা বেড়েছে
২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে কখনোই ৪০টির বেশি দল অংশ নেয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই সংখ্যা এক লাফে ৫১-তে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৩৮টি করে দল অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় ২৯টি দল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়া দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং ছোট-বড় অনেক নতুন দল ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছে।
প্রার্থী সংখ্যায় সর্বোচ্চ
শুধু দলের সংখ্যাই নয়, প্রার্থীর সংখ্যাতেও এবার রেকর্ড হয়েছে। টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, ২০০৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের মধ্যে এবারই প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ (১ হাজার ৯৮১ জন)। এর আগে ২০০৮ সালে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৫৬৭ জন। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৮৬১ জন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন (নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় সংখ্যাটি ১ হাজার ৯৭৯)। তবে ২০১৪ সালের চিত্র ছিল ভিন্ন। সেবার মাত্র ৩৯০ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং আর ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
কমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী
দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী কমেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হার ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ (৪৮৬ জন), যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। তখন দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে অনেক ‘ডামি’ বা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হার নেমে এসেছে ১৩ শতাংশে (২৪৯ জন)। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪০, ১০৫ ও ১৩৪।
টিআইবির এই পর্যবেক্ষণ বলছে, একটি বড় দলের অনুপস্থিতিতেও ভোটের মাঠ ফাঁকা নেই। বরং বহুদলীয় অংশগ্রহণে নির্বাচনটি বেশ জমজমাট হওয়ার আভাস মিলছে।
এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ হবে সেই প্রত্যাশাও সবাই করছে উল্লেখ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সাবেক পরিচালক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আগের তিনটি নির্বাচনে এতটা সম্ভাবনা ছিল না। এবারের নির্বাচনে তাদের সম্ভাবনা বেশি। এবার ইসলামিক দলগুলোর সম্ভাবনাও অন্য যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি। ফলে তাদের তো পার্টিসিপেশনটাও বেশি।

দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবুও গত অন্তত চারটি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর অংশগ্রহণের রেকর্ড হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে মোট প্রার্থীসংখ্যা ১ হাজার ৯৮১ জন। অন্যদিকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ৩৮টি দল। এরপর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল আরও কম।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সেভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি প্রার্থীরা। হয় দলের মনোনয়ন বা ডামি প্রার্থী, অথবা লোকদেখানো বিরোধীদল দিয়ে নির্বাচন কিংবা কৌশলে দলের লোকদেরই স্বতন্ত্র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ফলে দল এবং প্রার্থীসংখ্যা কম ছিল।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে তিনটি নির্বাচন হলো, সেগুলো অংশগ্রহণমূলক ছিল না, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে ওই নির্বাচনগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করেছে। নির্বাচনগুলো আসলে ক্ষমতা কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, এটা নিয়ে সন্দেহ ছিল।
গত চার মেয়াদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে বাস্তবে ক্ষমতা কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে কে এম মহিউদ্দিন বলেন, এসব নির্বাচন ক্ষমতা কাঠামোকে নবায়ন করার জন্য হয়েছে। ফলে সেখানে নির্বাচনে দলীয় অংশগ্রহণটা সীমিত ছিল। এ ছাড়া বিএনপি দুটি নির্বাচন বর্জন করেছিল।
দলের সংখ্যা বেড়েছে
২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনে কখনোই ৪০টির বেশি দল অংশ নেয়নি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই সংখ্যা এক লাফে ৫১-তে দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৩৮টি করে দল অংশ নিয়েছিল। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১২। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় ২৯টি দল।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ হওয়া দলের অনুপস্থিতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং ছোট-বড় অনেক নতুন দল ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছে।
প্রার্থী সংখ্যায় সর্বোচ্চ
শুধু দলের সংখ্যাই নয়, প্রার্থীর সংখ্যাতেও এবার রেকর্ড হয়েছে। টিআইবির বিশ্লেষণ বলছে, ২০০৮ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের মধ্যে এবারই প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ (১ হাজার ৯৮১ জন)। এর আগে ২০০৮ সালে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৫৬৭ জন। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৮৬১ জন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৯৬ জন (নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকায় সংখ্যাটি ১ হাজার ৯৭৯)। তবে ২০১৪ সালের চিত্র ছিল ভিন্ন। সেবার মাত্র ৩৯০ জন প্রার্থী নির্বাচন করেন এবং আর ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
কমেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী
দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী কমেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হার ছিল প্রায় ২৩ শতাংশ (৪৮৬ জন), যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। তখন দলীয় কৌশলের অংশ হিসেবে অনেক ‘ডামি’ বা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হার নেমে এসেছে ১৩ শতাংশে (২৪৯ জন)। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থীসংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৪০, ১০৫ ও ১৩৪।
টিআইবির এই পর্যবেক্ষণ বলছে, একটি বড় দলের অনুপস্থিতিতেও ভোটের মাঠ ফাঁকা নেই। বরং বহুদলীয় অংশগ্রহণে নির্বাচনটি বেশ জমজমাট হওয়ার আভাস মিলছে।
এবারের নির্বাচন স্বচ্ছ হবে সেই প্রত্যাশাও সবাই করছে উল্লেখ করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের সাবেক পরিচালক কে এম মহিউদ্দিন বলেন, বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আগের তিনটি নির্বাচনে এতটা সম্ভাবনা ছিল না। এবারের নির্বাচনে তাদের সম্ভাবনা বেশি। এবার ইসলামিক দলগুলোর সম্ভাবনাও অন্য যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি। ফলে তাদের তো পার্টিসিপেশনটাও বেশি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
৬ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
২৮ মিনিট আগে
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ নামে এই প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
৩৪ মিনিট আগে
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উত্তরার বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে