জাবিতে সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতার অসদাচরণের অভিযোগ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ২২: ২২
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ফাইল ছবি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সাবেক এক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণ ও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একটি হলের পদধারী নেতা। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দাবি, অভিযোগটি একপাক্ষিক; বরং ওই সাবেক ছাত্রীই আগে দুর্ব্যবহার করেছেন।

গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হল–সংলগ্ন টারজান পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আফসানা ঊর্মি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে ভুক্তভোগী আফসানা ঊর্মি ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।

অভিযোগকারী আফসানা ঊর্মির ভাষ্য, গতকাল বিকেলে তিনি তাঁর ছোট ভাই ও আড়াই বছরের সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। টারজান পয়েন্ট এলাকায় সামনের একটি রিকশা থেমে গেলে তাঁরা ডান পাশ দিয়ে সেটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন জুনায়েদ। কাছাকাছি এসে জুনায়েদ জোরে ব্রেক কষেন। পরে তিনি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে এসে তাঁদের পরিচয় জানতে চান।

আফসানা বলেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও সে (জুনায়েদ) বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায় এবং আমার বাচ্চার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।’ তাঁর অভিযোগ, পরে তাঁরা শহীদ মিনারের সামনে গেলে জুনায়েদ সেখানেও তাঁদের পিছু নেন এবং আবারও তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে গালিগালাজ করেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী স্ট্রিমকে বলেন, জুনায়েদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহপাঠী (বান্ধবী) সেখানে অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই জুনায়েদের আচরণের সমালোচনা করেন।

তবে পুরো ঘটনাটিকে ‘একপাক্ষিক ও অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত জুনায়েদ আল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তাঁদের মোটরসাইকেলটি খুব বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করছিল। আমি এর কারণ জানতে চাইলে ওই আপু (আফসানা) আমাকে “তুই” করে বলেন, “লাগে তো নাই, মরস তো নাই।” একপর্যায়ে তিনি আমার মা-বাবা তুলে গালি দেন।’

শহীদ মিনারের সামনের ঘটনা সম্পর্কে জুনায়েদের দাবি, তিনি তাঁদের পিছু নেননি। বরং ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় আফসানা পিছন থেকে তাঁর পরিবার নিয়ে কটূক্তি করেন। তখন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন মাত্র। ফেসবুকে সমালোচনার বিষয়ে তাঁর দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার শুধু শেষ দিকের অংশটুকু দেখেছেন।

জানতে চাইলে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত