তরুণ উদ্যোক্তাদের পথে তিন বাধা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ২৫
অনুষ্ঠান শেষে ফটোসেশনে আলোচক ও অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
অনুষ্ঠান শেষে ফটোসেশনে আলোচক ও অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান তিন বাধা হিসেবে দক্ষতার ঘাটতি, ঋণপ্রাপ্তির কঠিন শর্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলেছেন যশোরের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

শনিবার যশোরে ‘বাংলাদেশে তরুণদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা: সুযোগ, অংশগ্রহণের পথ ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সংলাপে এসব কথা উঠে আসে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন (টিএএফ) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

আলোচনায় অংশ নেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ এম. হাসেমী, রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বিশ্বাস, যশোর চেম্বার অব কমার্সের শ্যামল দাস এবং যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ ব্যবসায়ী ও নিয়োগদাতারা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হতে পারছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা দুর্বল। স্থানীয় বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্বল্পমেয়াদি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ চালুর দাবি জানান তাঁরা।

উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের উচ্চ সুদহার ও জামানতের কঠোর শর্ত নিয়েও আলোচনা হয়। কয়েকজন রপ্তানিকারক জানান, ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ হওয়ায় নতুন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্বামীকে জামিনদার করা বা জমির দলিল দেওয়ার মতো শর্ত বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে জানান তাঁরা।

এ ছাড়া, যন্ত্রে তৈরি পণ্য ‘যশোর স্টিচ’ নামে রপ্তানি হওয়ায় স্থানীয় কারুশিল্পের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানানো হয়। ফুল খাতেও আমদানি করা প্লাস্টিকের ফুলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থার ঘাটতির কথা তুলে ধরা হয়। ব্যবসা শুরুর লাইসেন্স প্রক্রিয়ার জটিলতা তুলে ধরে একজন অংশগ্রহণকারী জানান, যশোরে একটি রেস্তোরাঁ চালু করতে ১১টি পৃথক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জাতীয় নীতিপরিকল্পনার সঙ্গে স্থানীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতার বড় ব্যবধান রয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়াকে চূড়ান্ত লক্ষ্য না ধরে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও নতুন উদ্যোগ তৈরির ফলাফলের ভিত্তিতে কর্মসূচি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো তরুণদের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে পিপিআরসি-টিএএফের বৃহত্তর গবেষণায় ব্যবহার করা হবে বলা জানানো হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত