চট্টগ্রাম-৪ আসন

আসলাম চৌধুরীর শপথ বিষয়ে জানতে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ২২: ১২
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। সংগৃহীত ছবি

ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে আইনি মতামত জানতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

আদালত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী এবং কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আগামী ১৫ জুন মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কামরুল হক সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রখ্যাত দেওয়ানি আইন বিশেষজ্ঞ। জনস্বার্থসহ বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল মামলায় আইনি লড়াইয়ের জন্য তিনি পরিচিত। অন্যদিকে, প্রবীর নিয়োগীও দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, যিনি এর আগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে আদালতকে আইনি পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী শিশির মনির স্ট্রিমকে বলেন, মামলাটির শুনানি বর্তমানে আংশিক সম্পন্ন (পার্ট-হার্ড) অবস্থায় রয়েছে। আদালত এই মামলায় আইনি ব্যাখ্যার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে এই আইনজীবী বলেন, ‘আগামী ১৫ তারিখ, সোমবার আদালত অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শুনবেন। তাদের আইনি মতামত শোনার পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ হলেও ২৩টি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগে তাঁর চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও শপথ নিতে পারেননি বিএনপির এই প্রার্থী। পরে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট করেন আবেদনকারীরা। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট দুটিও খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা ওই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় এখন আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি চলছে।

ঋণখেলাপির অভিযোগের চূড়ান্ত সুরাহার আগে আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি সমাধানের জন্যই এখন দেশের দুই শীর্ষ আইনজীবীর মতামত শুনবেন সর্বোচ্চ আদালত।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত