বরকলে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ, পুনর্বাসনই বড় চ্যালেঞ্জ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙামাটি

রাঙামাটির বরকল উপজেলার বন্যায় কবলিত এলাকা। সংগৃহীত ছবি

সপ্তাহব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বরকল উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলা জুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়া মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাই এখন তাদের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সবার সহযোগিতায় এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। আশা করছি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজের বাসাবাড়িতে ফিরে যাবে। সেখানে আমাদের সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, একদিকে তাদের বাসাবাড়ি মেরামতের বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক পর্যায়ে নেওয়ার প্রশ্ন রয়েছে। মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, তারই বন্দোবস্ত করতে হবে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা। ‍সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা। ‍সংগৃহীত ছবি

জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে ওই মতবিনিময় সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন করে প্লাবিত বরকল

নতুন করে প্লাবিত বরকল উপজেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী দুটি ইউনিয়নে। এসব দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ভারী বর্ষণে উপজেলার প্রায় পাঁচটি ইউনিয়নেই বন্যা দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে ভূষণছড়া ও বড় হরিণা ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নতুন করে সুবলং ইউনিয়নও প্লাবিত হতে শুরু করেছে। উপজেলা জুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ২২৪ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বন্যায় ভূষণছড়া ইউনিয়নের প্রায় ৪৪টি গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। শনিবারের বর্ষণে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ১, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে মোট ১৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে গতকাল শনিবার তাদের ৩৫ প্যাকেট শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার বন্যায় কবলিত এলাকা। সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটির বরকল উপজেলার বন্যায় কবলিত এলাকা। সংগৃহীত ছবি

ভূষণছড়া ইউনিয়নের জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও বড় হরিণা ইউনিয়নের প্রতিবিন্দু চাকমা জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাড়িঘর তলিয়ে গেছে, ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাদের খোঁজখবর নিতে ও ত্রাণ সহায়তা দিতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি সেখানে যাচ্ছেন না।

বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে শনিবার থেকে লোক বাড়ছে। আজ (রোববার) পর্যন্ত চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২৪ জন লোক রয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে পানির তীব্র স্রোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

রাঙামাটির বরকল উপজেলার বন্যায় কবলিত এলাকা। সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটির বরকল উপজেলার বন্যায় কবলিত এলাকা। সংগৃহীত ছবি

বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতে ত্রাণ সংকট

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়া উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি কমছে। তবে বিলাইছড়ির রাইংখ্যং নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মৃণাল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, রোববার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এখন ফারুয়া বাজারসহ আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই পানি নেমে গেছে। তবে পুরো এলাকা কাদাময় হয়ে আছে। তবে রাইংখ্যং নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। যে কোনো সময় টানা বৃষ্টি হলে আবারও তলিয়ে যেতে পারে।

গতকাল শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় ধস ও বন্যাদুর্গতদের সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যায় ও পাহাড় ধসে অনেক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যতদিন সহায়তা লাগে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তিন মাস পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত জেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন লোক আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ১ হাজার ৪৪টি পরিবার। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত