বাবার অভাব বুঝতে দেন না, ধুমধাম করে দিলেন ১১২তম বিয়ে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩৬
সুমাইয়া আক্তার তিথি। ছবি: সংগৃহীত
সুমাইয়া আক্তার তিথি। ছবি: সংগৃহীত

বাবা মারা গেছেন ১০ বছর আগে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে বড় করেছেন মা। নানা প্রতিকূলতায় মেয়েকে মানুষ করলেও বিয়ে নিয়ে পড়েন দুশ্চিন্তায়।

এমন সময় পাশে দাঁড়ালেন একজন মানবিক মানুষ। শুধু বিয়ের খরচ নয়, নিজের মেয়ের মতো আয়োজন করলেন বিয়ের অনুষ্ঠান। খাবারের আয়োজন, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা—কোনো কিছুতে রাখেননি কমতি।

এভাবে গত ২৪ বছরে ১১২ জন দরিদ্র ও এতিম মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের রুহুল আমিন রুবেল। এবার তার উদ্যোগে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের ১৯ বছরের সুমাইয়া আক্তার তিথির বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বালাদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই পুরো বাড়িতে উৎসবের আমেজ। বাড়ির সামনে বিয়ের কারুকাজ করা গেট। অতিথি ও বরযাত্রীদের আপ্যায়নের জন্য চেয়ার-টেবিল সাজানো। বাড়ির এক পাশে চলছে রান্নার ব্যস্ততা। গরু, খাসি, মুরগি, ডিম, পোলাওসহ নানা পদের খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে।

প্রায় ১০ বছর আগে বাবাকে হারান সুমাইয়া আক্তার তিথি। এরপর মা জহুরা খাতুনই হয়ে ওঠেন তার একমাত্র অবলম্বন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন, সংসার চালিয়েছেন।

মেয়ের বিয়েতে বড় আয়োজনের সামর্থ্য ছিল না মায়ের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুহুল আমিন রুবেলের কার্যক্রম দেখতে পান তিনি। এরপর যোগাযোগ করেন তার সঙ্গে। তিথির পরিবারের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান রুবেল।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয় গায়ে হলুদের আয়োজন। শুক্রবার দিনভর চলে বিয়ের নানা আনুষ্ঠানিকতা।

জুমার নামাজের পর কনেবাড়িতে বরযাত্রীসহ আসেন বর তরিকুল ইসলাম। পাশের রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা তরিকুলকে সোনার আংটি দিয়ে বরণ করেন রুহুল আমিন।

তিথির মা জহুরা খাতুন বলেন, এমন আয়োজন তাদের পরিবারের কাছে ছিল কল্পনারও বাইরে।

কনে সুমাইয়া আক্তার তিথি জানান, এত বড় আয়োজন দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়েছেন

রুহুল আমিন রুবেল বলেন, এটি তার ১১২তম মেয়ের বিয়ে। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কেউ যোগাযোগ করলে তিনি খোঁজখবর নেন। নিজ থেকে বিয়ের যাবতীয় খরচ করেন। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের দায়িত্ব ও সৌভাগ্য মনে করেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

বাবার অভাব বুঝতে দেন না, ধুমধাম করে দিলেন ১১২তম বিয়ে