ad

শিশুদের বইয়ের সঙ্গে এখন লড়াই স্ক্রিনের, পাল্টাচ্ছে পাঠাভ্যাসও

শিশুদের হাতে এখন মোবাইল, ইউটিউব আর গেম। তাহলে কি স্ক্রিনের কাছে হারছে বই? নাকি বদলে যাওয়া শিশুমনের জন্য বইও খুঁজছে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র? এখনকার শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস, বইয়ের বাজার ও নতুন চরিত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশক, শিশু সাহিত্যিক ও পাঠ্যাভ্যাস বিষয়ক গবেষকের মতামত রয়েছে এই লেখায়।

শিশুদের বইয়ের সঙ্গে এখন লড়াই স্ক্রিনের, পাল্টাচ্ছে পাঠাভ্যাসও। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক
শিশুদের বইয়ের সঙ্গে এখন লড়াই স্ক্রিনের, পাল্টাচ্ছে পাঠাভ্যাসও। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা। নীলক্ষেত বইয়ের বাজারে হন্তদন্ত হয়ে হাঁটছেন রবিউল ইসলাম। অফিস ছুটির পর ভিড়-বাসে চেপে বই কিনতে এসেছেন সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া সন্তান আহনাফের জন্য।

প্রথমে একটি দোকানে ঢুকে শিশুদের বই দেখতে চাইলেন। দোকানি একগাদা রূপকথার বই সামনে এনে রাখলেন। বইগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে রবিউলের নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল। তাঁর কল্পনার জগতে তখন রাজত্ব করত ঠাকুরমার ঝুলি। সেখানে ছিল রাজা-রানি, দৈত্য-দানব, ডাইনি, জাদু আর অচেনা সব রাজ্য। গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধির গল্পও ছিল প্রিয়। একটু বড় হওয়ার পর সেই জগতে ঢুকে পড়েছিল পৃথিবীর অন্য প্রান্তের চরিত্রও। বাংলাদেশের অগণিত শিশুর মতো হ্যারি পটারের জাদুর দুনিয়াও তাঁকে টেনেছিল।

হঠাৎ তাঁর মনে হলো, আজকের শিশুরা বড় হয়ে কোন চরিত্রগুলোর কথা মনে রাখবে? নতুন চরিত্র তৈরি হচ্ছে না, নাকি তৈরি হলেও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না? শিশুদের বইয়ের বাজারে কি নতুন কিছু নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার জায়গা কম? নাকি সমস্যা আরও গভীরে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে প্রথমেই তাকাতে হয় শিশুদের বইয়ের বাজারের দিকে। কারণ একটি বই শিশুর হাতে পৌঁছানোর আগে পেরোতে হয় লেখক, প্রকাশক ও বাজারের নানা হিসাব।

প্রকাশকের চোখে বাজার: ঝুঁকি আছে, সম্ভাবনাও আছে

রুমঝুম প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী রাখি খাতুন বলেন, শিশুদের জন্য বই প্রকাশ করা সহজ নয়। ভালো একটি শিশুতোষ বই তৈরিতে শুধু লেখার মান নয়, অলংকরণ, কাগজ, ছাপা ও উপস্থাপনার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। ফলে বড়দের বইয়ের তুলনায় শিশুদের বইয়ের উৎপাদন খরচ অনেক সময় বেশি পড়ে। এর সঙ্গে যোগ হয় বাজারের অনিশ্চয়তা। একটি নতুন শিশুতোষ বই পাঠকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। বিশেষ করে নতুন চরিত্র বা নতুন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। পরিচিত নাম বা প্রতিষ্ঠিত চরিত্রের তুলনায় নতুন একটি চরিত্রকে পাঠকের কাছে পরিচিত করতে সময় লাগে।

তবে ঝুঁকি থাকলেও শিশুদের বইয়ের বাজার নিয়ে রাখি খাতুন হতাশ নন। তাঁর মতে, ভালো শিশুতোষ বইয়ের চাহিদা আছে। ছোটদের জন্য গল্প, রূপকথা, ছড়া ও ছবির বইয়ের পাশাপাশি একটু বড় শিশুদের মধ্যে কমিকস, রহস্য-রোমাঞ্চ, অ্যাডভেঞ্চার, কল্পকাহিনি, বিজ্ঞানভিত্তিক বই ও সায়েন্স ফিকশনেরও চাহিদা রয়েছে।

কোন বয়সে কেমন বই পড়তে হবে, এ ধরনের কোনো ম্যানুয়াল তৈরি করা হয়নি আমাদের দেশে। ফলে প্রায়ই অভিভাবককে হিমশিম খেতে হয় একটা উপযুক্ত বই শিশুর জন্য বাছাই করতে।

এ ছাড়া বয়স ও আগ্রহ বদলানোর সঙ্গে বইয়ের পছন্দও বদলায়। হাতের কাছেই থাকা ইউটিউব, কার্টুন আর রিলসের রঙিন জগত হাতছানি দেয় শিশুদের মনে। তাই বই পড়ার ব্যাপারে শিশুদের আগ্রহী করাটাও রীতিমতো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে পাল্লা দিতে প্রকাশকরা কী করছেন জানতে চাইলে ঝিলমিল প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী আনিস সুজন বলেন, ‘‘শিশুতোষ বইগুলোকে স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। শিশুদের এই ডিজিটাল আকর্ষণ সামলাতে আমরা বইয়ের উপস্থাপনায় অনেক পরিবর্তন আনছি। যেমন উচ্চমানের রঙিন অলংকরণ ও হাই-কনট্রাস্ট ভিজুয়াল ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। এ ছাড়াও বইগুলোতে যুক্ত করা হচ্ছে ফ্ল্যাপ, পাজল, অ্যাক্টিভিটি, কালারিং এবং কিউআর কোডভিত্তিক ইন্টারঅ্যাক্টিভ কনটেন্ট। আমাদের প্রকাশনী থেকে ছবি ও লেখার সমন্বয়ে এমন ‘টাচ এন্ড ফিল টাইপ’ বই তৈরি করা হচ্ছে যেন বই স্পর্শ করা ও পাতা উল্টানো শিশুর কাছে খেলার অংশ মনে হয়।’’

তবে প্রশ্ন হলো, বইয়ের উপস্থাপনায় এত পরিবর্তন আনার পরও কি শিশুরা বই পড়তে আগ্রহী হচ্ছে? প্রকাশক রাখি খাতুন মনে করেন, শুধু ‘বই পড়ো’ বললে হবে না। বইকেই আকর্ষণীয় হতে হবে। পাণ্ডুলিপি বাছাই থেকে ভাষা, গল্প বলার ধরন ও অলংকরণ—সবকিছুতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। শিশুর জন্য বই মানেই শুধু নৈতিক শিক্ষা নয়; বই তাকে আনন্দ দেবে, কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে, নতুন কিছু ভাবার সুযোগ দেবে।

তবে বাজারের আরেকটি বাস্তবতা হলো বইয়ের দাম। কাগজ, মুদ্রণ ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে বইয়ের দামও বাড়াতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকেরা বই কেনার সময় আগের চেয়ে বেশি হিসাব করছেন। প্রকাশকদের মতে, দাম বাড়ার প্রভাব শিশুদের বইয়ের বাজারেও পড়ছে। কিন্তু মান কমিয়ে দাম কমানোও সমাধান নয়।

শুধু কি বইমেলাতেই বই প্রকাশ হয় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রাখি খাতুন বলেন, রুমঝুম প্রকাশন শুধু বইমেলাকেন্দ্রিক প্রকাশনার মধ্যে থাকতে চায় না। বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ বাজার হলেও সারা বছর শিশুদের হাতে বই পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেন তারা। নতুন পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি ভালো ক্লাসিক বই প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।

শিশুদের বই পড়ার আগ্রহ না থাকার দায় অভিভাবকেরও, মনে করেন লেখকেরা

শিশু সাহিত্যিক রবিউল কমল মনে করেন, আগের সময়ের সঙ্গে এখনকার শিশুদের বড় পার্থক্য হলো বিনোদনের উপকরণ। আগে শিশুর সামনে বিকল্প কম ছিল। বই ছিল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। বাবা-মা বই পড়লে শিশুরাও তা দেখে বইয়ের প্রতি আগ্রহী হতো। এখন সেই জায়গায় মোবাইল, ইউটিউব, গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা কনটেন্ট এসেছে। ফলে শিশুদের জন্য বই লিখতে গেলে সময়ের পরিবর্তন বুঝতে হবে। আগে বইয়ের সঙ্গে ছবির ব্যবহার থাকলেও এখন ছবির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তবে সময় বদলালেও শিশুদের সাহিত্য নিয়ে আলাদাভাবে ভাবছেন এমন সাহিত্যিকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। রবিউল কমলের মতে, এ ব্যাপারে কেউ ভাবছেন, কেউ ভাবছেন না। শিশুদের মনোজগতেও যে পরিবর্তন আসছে তা নিয়ে লেখক, প্রকাশক আর অভিভাবক সকলেই কিছুটা উদাসীন।

ছবি: রুম টু রিড
ছবি: রুম টু রিড

তবে শিশু সাহিত্যিক আশিক মুস্তফা মনে করেন, বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক পিকচার বুকের চর্চা গত ১০-১৫ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় ছোটদের জন্য এমন বই খুব কম ছিল। ষাটের দশকেও জসীম উদ্‌দীনের মতো লেখকেরা শিশুদের জন্য পিকচার বুক লিখেছেন। কিন্তু পাঠক ও অভিভাবকদের মধ্যে এসব বই নিয়ে সচেতনতা ছিল কম।

এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বৈশ্বিক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অভিভাবকদের সচেতনতার কারণে বয়স অনুযায়ী বই তৈরির প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। দুই-তিন বছরের শিশুর বই আর চার-পাঁচ বছরের শিশুর বই এক হতে পারে না। শিশুর বয়স, শব্দভাণ্ডার, মনোযোগ ও বোঝার ক্ষমতা মাথায় রেখে ভাষা ও বাক্যের গঠন করতে হয়।

‘নতুন চরিত্র’ কেন তৈরি হচ্ছে না

এ বিষয়ে শিশু সাহিত্যিক আশিক মুস্তফা মনে করেন, শুধু অতীতের স্মৃতিকাতরতা নিয়ে লিখলে হবে না। লেখকদের বর্তমান শিশুর পরিচিত জগৎকে বুঝতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে বৈশ্বিক ভাবনারও সমন্বয় ঘটাতে হবে। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বাংলাদেশের শিশুর কল্পনার জগৎ এখন আর শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

সাহিত্যিক রবিউল কমলের মতে, একটি চরিত্রকে জনপ্রিয় করে তুলতে সময় ও ধারাবাহিক শ্রম প্রয়োজন। কিন্তু অনেক শিশু সাহিত্যিকের লেখালেখি মূল পেশা নয়। অন্য চাকরি বা পেশার পাশাপাশি তাঁরা লেখেন। ফলে একটি চরিত্রকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা এবং তাকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মতো সময় পাওয়া কঠিন। আবার প্রকাশকেরাও নতুন চরিত্র নিয়ে ঝুঁকি নিতে চান না। ফলে নতুন চরিত্র তৈরির সংকট শুধু লেখকের নয়, প্রকাশনারও।

আশিক মুস্তফা অবশ্য মনে করেন, শিশু সাহিত্যে নতুন চরিত্রও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রচার ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা যাচ্ছে না। লেখক যা লিখলেন, সেটিই সরাসরি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযায়ী ভাষা, শব্দ ও বিষয়বস্তুর উপযোগিতা যাচাই করতে দক্ষ সম্পাদনা দরকার।

‘ভালো বই’ কার চোখে ভালো?

বইয়ের পাঠক শিশু, কিন্তু বইয়ের ক্রেতা অভিভাবক। ফলে বইটি শিশুর ভালো লাগবে, নাকি অভিভাবকের কাছে ‘ভালো’ মনে হবে, এই দুইয়ের মধ্যে কখনো কখনো তৈরি হয় দূরত্ব। রবিউল কমল মনে করেন, অনেক লেখক-প্রকাশক তাই কখনো কখনো শিশুর চেয়ে অভিভাবকের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন।

অভিভাবকেরা সাধারণত চান, শিশু এমন বই পড়ুক যেখান থেকে জ্ঞান বা নৈতিক শিক্ষা পাওয়া যাবে। কিন্তু শিশুর পছন্দ অনেক সময় ভিন্ন। সে চায় গল্প, রহস্য, রোমাঞ্চ, কল্পনা কিংবা মজার কিছু। সরাসরি উপদেশ তার ভালো নাও লাগতে পারে। রবিউল কমলের মতে, আজকের শিশু গল্পের ভেতর দিয়ে শিখতে রাজি, কিন্তু সরাসরি নীতিকথা শুনতে চায় না।

শিশুতোষ বইগুলোকে স্ক্রিন টাইমের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। শিশুদের এই ডিজিটাল আকর্ষণ সামলাতে আমরা বইয়ের উপস্থাপনায় অনেক পরিবর্তন আনছি। যেমন উচ্চমানের রঙিন অলংকরণ ও হাই-কনট্রাস্ট ভিজুয়াল ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। এ ছাড়াও বইগুলোতে যুক্ত করা হচ্ছে ফ্ল্যাপ, পাজল, অ্যাক্টিভিটি, কালারিং এবং কিউআর কোডভিত্তিক ইন্টারঅ্যাক্টিভ কনটেন্ট।

রুমঝুম প্রকাশনীর রাখি খাতুনও মনে করেন, বই শিশুকে আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতাকে সমৃদ্ধ করবে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ঈশপের গল্পের প্রতি শিশুদের আগ্রহ থাকলেও বর্তমান সময়ের শিশুরা শুধু উপদেশ পছন্দ করছে না। গল্পের ভেতর দিয়ে কোনো উপদেশ বা নীতিকথা ফুটে উঠলে তা নিয়ে শিশুদের আগ্রহ দেখা যায়।

শিশুদের পাঠ্যাভ্যাস বিষয়ক গবেষক মৃদুল মাহবুব মনে করেন, শিশু বই পড়ে না বলে শিশুকে দায়ী করার আগে বাবা-মাকে নিজেদের অভ্যাস দেখতে হবে। বাবা-মা যদি নিজেরাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইলে থাকেন, তাহলে শিশুকে বই পড়তে বলার মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি আছে। এ ছাড়া শিশুর হাতে একটা বই তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকরা নিজেরা আগে একটু যাচাই করে দেখবেন, বইটা কী আসলে সেই শিশুর জন্য উপযুক্ত কি-না। বয়সের চেয়ে কঠিন বই ধরিয়ে দিলে তাদের শৈশব থেকেই বইয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সাহিত্যিক রবিউল কমলের কথাতেও উঠে আসে আরেকটি বাস্তবতা। তাঁর মতে, বই কেনার ক্ষেত্রেও অভিভাবকরা অগ্রাধিকার দেন না। তাঁরা হয়তো মনে করেন, সবকিছু তো ইউটিউবেই আছে, টাকা দিয়ে বই কেনার প্রয়োজন কী? অথচ ইউটিউব বা ভিডিও দেখার চেয়ে বই পড়ার মাধ্যমে শিশু অনেক বেশি শেখে। তার মস্তিষ্কের গঠন ভালো হয়, কল্পনাশক্তিও বেড়ে যায়।

সংকটের মাঝেও সম্ভাবনা

বাংলাদেশের শিশুতোষ বইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু প্রকাশকের বিক্রি বা লেখকের লেখার ওপর নির্ভর করছে না। একটি শিশুর হাতে বই পৌঁছানোর আগে অনেকগুলো দরজা পার হতে হয়। লেখককে শিশুর মন বুঝতে হয়। সম্পাদককে বইটিকে বয়সোপযোগী করতে হয়। আবার প্রকাশককে ঝুঁকি নিতে হয়। আর অভিভাবককেও শিশুর হাতে বই তুলে দিতে হয়। এখানে কোন বয়সে শিশুর হাতে কোন বই থাকবে সেটিও বিবেচনার বিষয়।

গবেষক মৃদুল মাহবুব মনে করেন, কোন বয়সে কেমন বই পড়তে হবে, এ ধরনের কোনো ম্যানুয়াল তৈরি করা হয়নি আমাদের দেশে। ফলে প্রায়ই অভিভাবককে হিমশিম খেতে হয় একটা উপযুক্ত বই শিশুর জন্য বাছাই করতে। তিনি বলেন, অনেক দেশেই শিশুর পাঠ্যাভ্যাস তৈরি করতে সরকার থেকেই অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শিশুর পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে অভিভাবকের হাতেও বই থাকতে হবে।

তবে এই সংকটের মধ্যেও সম্ভাবনা দেখছেন মৃদুল মাহবুব। তাঁর মতে, আমরা বলি শিশুরা বই পড়ছে না। কিন্তু শিশু প্রকাশক বা লেখক কিন্তু কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। সচেতন অভিভাবকের সংখ্যাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।

সাহিত্যিক রবিউল কমলের অভিজ্ঞতাও আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেন, ‘বইকে আমি পেশা হিসেবে নিয়েছি। তাই বই লিখতেই হয়। শিশুদের জন্য বয়সভিত্তিক লেখা বেশি লিখি। বড়দের জন্যও লিখি। মজার ব্যাপার হলো, তুলনামূলক ভালো বিক্রি হয় শিশুদের বই-ই।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

শিশুদের বইয়ের সঙ্গে এখন লড়াই স্ক্রিনের, পাল্টাচ্ছে পাঠাভ্যাসও