স্ট্রিম সম্পাদকীয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ বড় ধাক্কা খায়। এরপর পুলিশ পুনর্গঠন ও তার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বিভিন্ন কারাগার ভেঙে ২,২৪০ বন্দি পালিয়েছিল। সাম্প্রতিক হিসাবে এখনো ৬৮৩ জন পলাতক। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং জঙ্গি সদস্যও রয়েছে। এত দিন পরও কীভাবে তাঁরা আত্মগোপনে? তাঁদের ধরতে প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা জোরদার? এর সদুত্তর না থাকলে জনমনে নিরাপত্তাবোধ কীভাবে ফিরবে? লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রশ্নটিও গুরুতর। ৫,৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১,৩১৮টি উদ্ধার হয়নি। উদ্ধার হয়নি বিপুল পরিমাণ গুলিও। পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে চাঁদাবাজি আবার দৃশ্যমান। পরিবহন, নির্মাণ খাত, পণ্যবাজার—মোটা দাগে কোনো কিছুই চাঁদাবাজিমুক্ত নয়। চাঁদাবাজি এখন আর কেবল অর্থ আদায়ের বিষয়ও নয়। এটি ক্ষমতার বিকল্প কাঠামো তৈরির চেষ্টা। যেখানে যে গোষ্ঠী চাঁদা তোলে, সেখানে সেই গোষ্ঠীই ক্ষমতার একাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রতিশ্রুতি থাকলেও বন্ধ হয়নি মব। মবের হামলায় মানুষ হতাহত হওয়ার চিত্র মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে। চলছে গণপিটুনিও। এগুলো রাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষ হচ্ছে। ব্যবসায়ী থেকে চিকিৎসক—কেউই পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করছেন না। হালে ঢাকায় একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ওপর চাঁদা দাবির পর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে সংবাদে এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ঘটনা নাগরিকের আস্থায় আঘাত।
আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে প্রয়োজন কার্যকর পুলিশ, সক্রিয় গোয়েন্দা ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার। সন্দেহ নেই, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এর আগেও সরকারের প্ররোচনায় নজিরবিহীন অপরাধে জড়ায় পুলিশের বড় অংশ। পরবর্তী সময়ে বাহিনীটির ভেতর ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। সব রদবদল সঠিক হয়েছে, সেটা অবশ্য বলা যাবে না। এতে করে মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ, আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বের ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সংস্কার প্রয়োজন বৈকি। তবে সংস্কার আর সক্ষমতায় ধস এক নয়। দুর্বল পুলিশ ব্যবস্থা কখনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না।
চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক, কিশোর অপরাধ, ছিনতাই—এসব হঠাৎ করে বাড়ে না। এর পেছনে নেটওয়ার্ক থাকে। অর্থের প্রবাহ থাকে। স্থানীয় আশ্রয় থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে শুধু রাস্তায় টহল যথেষ্ট নয়। গ্রেপ্তারই সাফল্য নয়। অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সময়মতো তদন্ত শেষ করতে হবে। মামলা আদালতে টিকতে হবে। বিচার সুসম্পন্ন হতে হবে। অপরাধী দণ্ডিত হলে তবেই রাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
সরকারকে প্রথমেই একটি জাতীয় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য থাকতে হবে। পলাতক বন্দির হালনাগাদ তালিকা করে গুরুতর অপরাধী ও জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো প্রয়োজন। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাই। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অভিযান চালাতে হবে। তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষককেও আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা পুনর্গঠন হতে হবে লক্ষ্য। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; কিন্তু সৎ ও দক্ষ পুলিশ সদস্যকে দিতে হবে নিরাপদে কাজের নিশ্চয়তা। তদন্তের মান বাড়াতে আধুনিক অপরাধ তদন্ত, আলামত সংগ্রহ, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং আন্তঃসংস্থা তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশ বড় ধাক্কা খায়। এরপর পুলিশ পুনর্গঠন ও তার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বিভিন্ন কারাগার ভেঙে ২,২৪০ বন্দি পালিয়েছিল। সাম্প্রতিক হিসাবে এখনো ৬৮৩ জন পলাতক। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং জঙ্গি সদস্যও রয়েছে। এত দিন পরও কীভাবে তাঁরা আত্মগোপনে? তাঁদের ধরতে প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা জোরদার? এর সদুত্তর না থাকলে জনমনে নিরাপত্তাবোধ কীভাবে ফিরবে? লুণ্ঠিত অস্ত্রের প্রশ্নটিও গুরুতর। ৫,৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১,৩১৮টি উদ্ধার হয়নি। উদ্ধার হয়নি বিপুল পরিমাণ গুলিও। পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কিছু লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে চাঁদাবাজি আবার দৃশ্যমান। পরিবহন, নির্মাণ খাত, পণ্যবাজার—মোটা দাগে কোনো কিছুই চাঁদাবাজিমুক্ত নয়। চাঁদাবাজি এখন আর কেবল অর্থ আদায়ের বিষয়ও নয়। এটি ক্ষমতার বিকল্প কাঠামো তৈরির চেষ্টা। যেখানে যে গোষ্ঠী চাঁদা তোলে, সেখানে সেই গোষ্ঠীই ক্ষমতার একাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রতিশ্রুতি থাকলেও বন্ধ হয়নি মব। মবের হামলায় মানুষ হতাহত হওয়ার চিত্র মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে। চলছে গণপিটুনিও। এগুলো রাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা।
চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষ হচ্ছে। ব্যবসায়ী থেকে চিকিৎসক—কেউই পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করছেন না। হালে ঢাকায় একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ওপর চাঁদা দাবির পর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর কাছে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার চাঁদা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে সংবাদে এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ঘটনা নাগরিকের আস্থায় আঘাত।
আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে প্রয়োজন কার্যকর পুলিশ, সক্রিয় গোয়েন্দা ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার। সন্দেহ নেই, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এর আগেও সরকারের প্ররোচনায় নজিরবিহীন অপরাধে জড়ায় পুলিশের বড় অংশ। পরবর্তী সময়ে বাহিনীটির ভেতর ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। সব রদবদল সঠিক হয়েছে, সেটা অবশ্য বলা যাবে না। এতে করে মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ, আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্বের ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সংস্কার প্রয়োজন বৈকি। তবে সংস্কার আর সক্ষমতায় ধস এক নয়। দুর্বল পুলিশ ব্যবস্থা কখনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না।
চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক, কিশোর অপরাধ, ছিনতাই—এসব হঠাৎ করে বাড়ে না। এর পেছনে নেটওয়ার্ক থাকে। অর্থের প্রবাহ থাকে। স্থানীয় আশ্রয় থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে শুধু রাস্তায় টহল যথেষ্ট নয়। গ্রেপ্তারই সাফল্য নয়। অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সময়মতো তদন্ত শেষ করতে হবে। মামলা আদালতে টিকতে হবে। বিচার সুসম্পন্ন হতে হবে। অপরাধী দণ্ডিত হলে তবেই রাষ্ট্রের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।
সরকারকে প্রথমেই একটি জাতীয় আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য থাকতে হবে। পলাতক বন্দির হালনাগাদ তালিকা করে গুরুতর অপরাধী ও জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো প্রয়োজন। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাই। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অভিযান চালাতে হবে। তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষককেও আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা পুনর্গঠন হতে হবে লক্ষ্য। অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; কিন্তু সৎ ও দক্ষ পুলিশ সদস্যকে দিতে হবে নিরাপদে কাজের নিশ্চয়তা। তদন্তের মান বাড়াতে আধুনিক অপরাধ তদন্ত, আলামত সংগ্রহ, তথ্যভিত্তিক পুলিশিং এবং আন্তঃসংস্থা তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে।
.png)

গ্যাস নেই। তাই চুলা জ্বলছে না। তাই কারখানার বয়লার চলছে না। এই একটি সহজ বাক্যেই আজকের বাংলাদেশের শিল্পখাতের ছবি ফুটে ওঠে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগে। এই টার্মিনাল দেশের মোট গ্যাসের একটি অংশ সরবরাহ করত। আগুনের পর সেই সরবরাহ প্রায় অর্ধেক কমে
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গত ১৭ আগস্ট আবারও সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। এর আগে জুলাই ও আগস্টজুড়ে সৌদি বিনিয়োগ, বন্দর-লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ নিয়ে ঢাকার সঙ্গে রিয়াদের ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের য
৪ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রপতি রাজা নন, কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর মর্যাদা, আনুষ্ঠানিকতা, প্রাসাদের মতো সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং সম্বোধন রীতি অনেক ক্ষেত্রেই রাজা বা ঔপনিবেশিক আমলের গভর্নরের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর অবস্থান, আনুষ্ঠানিক ক্ষমতার প্রয়োগ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা তাঁক