ad

টাকা জমাতে চান? যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় এই সঞ্চয় কৌশল মেনে চলুন

মাসের পর মাস কেটে যায়, কিন্তু সঞ্চয় আর হয়ে ওঠে না। এই চক্র থেকে বের হওয়ার সহজ উপায় হতে পারে ‘পে ইউরসেলফ ফার্স্ট’ বা ‘আগে নিজেকে টাকা দিন’ পদ্ধতি।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০০
বেতন হাতে পেয়েই মনে হয়, এবার কিছু টাকা ঠিকই জমাব। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক
বেতন হাতে পেয়েই মনে হয়, এবার কিছু টাকা ঠিকই জমাব। ছবি: স্ট্রিম গ্রাফিক

বেতন হাতে পেয়েই মনে হয়, এবার কিছু টাকা ঠিকই জমাব। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় খরচের মিছিল। বাসাভাড়া, বাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, যাতায়াত, কেনাকাটা; একে একে টাকা খরচ হতে থাকে। দেখতে দেখতে মাস শেষ, অথচ সঞ্চয়ের খাতায় যোগ হয়নি কিছুই। এভাবেই মাসের পর মাস কেটে যায়, কিন্তু সঞ্চয় আর হয়ে ওঠে না।

এই চক্র থেকে বের হওয়ার সহজ উপায় হতে পারে ‘পে ইউরসেলফ ফার্স্ট’ বা ‘আগে নিজেকে টাকা দিন’ পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এটি বেশ পরিচিত সঞ্চয় কৌশল। মার্কিন শ্রম দপ্তরও সঞ্চয়ের পরামর্শ হিসেবে ‘পে ইউরসেলফ ফার্স্ট’ নীতির কথা বলেছে।

এই কৌশলের নামটা অদ্ভুত লাগলেও নিয়ম খুব সহজ। বেতন হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই খরচ শুরু না করে, প্রথমেই নির্দিষ্ট একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। এরপর বাকি টাকা দিয়ে চালাতে হবে মাসের প্রয়োজনীয় খরচ।

অর্থাৎ এতদিনের নিয়ম ‘আয় করলাম, খরচ করলাম, শেষে যা থাকল তা জমালাম’ বদলে করতে হবে ঠিক উল্টোটা: ‘আয় করলাম, আগে জমালাম, তারপর খরচ করলাম।’ এই ছোট পরিবর্তনই ধীরে ধীরে বদলে দিতে পারে সঞ্চয়ের অভ্যাস। এই পদ্ধতির মূল কথা হলো, বেতন হাতে পাওয়ার পরই সঞ্চয়ের টাকা আলাদা করে রাখা। অল্প আয় হলেও নিয়মিত কিছু টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে।

কেন মাসের শুরুতেই সঞ্চয় করবেন

শুধু ‘টাকা জমাব’ এমন লক্ষ্য অনেক সময় বেশিদিন ধরে রাখা কঠিন। বরং সঞ্চয়ের পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকলে সেই অভ্যাস ধরে রাখা অনেক সহজ হয়। কেউ হয়তো উচ্চশিক্ষার জন্য টাকা জমাচ্ছেন, কেউ ভবিষ্যতে ব্যবসা শুরু করতে চান, কেউ বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছেন। আবার কারও লক্ষ্য হতে পারে জরুরি সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কিছু অর্থ হাতে রাখা। ভ্রমণ, নতুন কম্পিউটার কেনা কিংবা ভবিষ্যতের চিকিৎসার খরচও হতে পারে সঞ্চয়ের কারণ।

তাই প্রথমেই নিজের লক্ষ্যগুলো লিখে ফেলুন। এরপর ভাবুন, প্রতিটি লক্ষ্য পূরণ করতে কত টাকা লাগবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা অর্জন করতে চান। যেমন, আপনি যদি এক বছরে ৬০ হাজার টাকা জমাতে চান, তাহলে মাসে ৫ হাজার টাকা আলাদা রাখলেই সেই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব।

বিশেষ করে বাংলাদেশের বাস্তবতায় জরুরি তহবিলকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো, পরিবারের জরুরি প্রয়োজন বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বাড়তি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এমন সময়ে হাতে কিছু সঞ্চয় থাকলে অন্য কারো থেকে ধার করার প্রয়োজন পড়ে না। তাই জরুরি প্রয়োজনের জন্য সঞ্চয় করার চেষ্টা করা ভালো।

তবে সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক করার সময় নিজের বাস্তব আয় ও খরচের দিকে নজর দিতে হবে। আয় ৩০ হাজার টাকা হলে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের লক্ষ্য ঠিক করে মাস চালানো কঠিন হতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত সঞ্চয়ের টাকা আবার তুলে খরচ করতে হতে পারে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কেউ ১ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করতে পারেন, কেউ ৩ হাজার বা ৫ হাজার দিয়ে। মূল কথা হলো নিয়মিত সঞ্চয় করা।

সঞ্চয় প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করে দেওয়া ভালো

বেতন পাওয়ার পর হাতে টাকা রেখে দিলে খরচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সম্ভব হলে সঞ্চয় প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করে দেওয়া ভালো। আগে মাটির ব্যাংকে টাকা জমানো হতো। ব্যাংক ভাঙলে দেখা যেত বড় অংকের টাকা জমা হয়ে গেছে। কিন্তু এখন চাইলে বিভিন্ন ডিজিটাল উপায়েই টাকা জমা রাখা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন আপনার একটু সদিচ্ছা।

বেতন যে অ্যাকাউন্টে আসে, সেখান থেকে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অন্য একটি সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে প্রতি মাসে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। টাকা আসার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের অংশটি আলাদা হয়ে যাবে, আর খরচের জন্য থাকবে বাকি টাকা।

এই কৌশলের নামটা অদ্ভুত লাগলেও নিয়ম খুব সহজ। বেতন হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই খরচ শুরু না করে, প্রথমেই নির্দিষ্ট একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য আলাদা করে রাখতে হবে। এরপর বাকি টাকা দিয়ে চালাতে হবে মাসের প্রয়োজনীয় খরচ।

যাদের ব্যাংকিং সুবিধা আছে, তারা আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় ব্যবস্থাও ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি সেটি আপনার জন্য সুবিধাজনক হয়। উদ্দেশ্য একটাই, সঞ্চয়ের টাকা যেন দৈনন্দিন খরচের টাকার সঙ্গে মিশে না যায়।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোট ছোট খরচের হিসাব রাখা। চা-কফি, বাইরে নাশতা, অনলাইন কেনাকাটা বা সাবস্ক্রিপশনের মতো খরচ আলাদা করে দেখলে বোঝা যায়, মাসে কোথায় কত টাকা চলে যাচ্ছে। এর মানে এই নয় যে আনন্দ বা প্রয়োজনীয় সব খরচ বন্ধ করে দিতে হবে। বরং কোন খরচটি সত্যিই দরকার আর কোনটি কমানো সম্ভব, সেটি বোঝাই উদ্দেশ্য।

বাড়তি আয় পুরোপুরি খরচ না করে সঞ্চয় করতে পারেন

‘পে ইউরসেলফ ফার্স্ট’ পদ্ধতিতে সঞ্চয় বাড়ানোর আরেকটি সহজ উপায় হলো বাড়তি আয়ের পুরোটা খরচ না করা। ঈদের বোনাস, উৎসব ভাতা বা অতিরিক্ত কাজের টাকা থেকে কিছু অংশ সঞ্চয় করা যায়। ফ্রিল্যান্সিংয়ের আয় বা হঠাৎ পাওয়া অতিরিক্ত টাকাও ভবিষ্যতের জন্য রাখা যেতে পারে। এতে মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ না দিয়েই সঞ্চয় বাড়ানো সম্ভব। আবার বেতন বাড়লে পুরো টাকা খরচ না করে তার একটি অংশ সঞ্চয় করা ভালো। এভাবে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকে।

মাস শেষে একবার নিজের আর্থিক অবস্থার দিকে তাকানোও জরুরি। কত টাকা আয় হলো, কত টাকা সঞ্চয় হলো, কোন খাতে বেশি খরচ হলো এবং পরের মাসে কোথায় পরিবর্তন আনা যায়, এসব কয়েক মিনিট সময় নিয়ে দেখলেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। কোনো মাসে নির্ধারিত পরিমাণ সঞ্চয় করতে না পারলেও হতাশ হওয়ার দরকার নেই। পরের মাসে আবার শুরু করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সঞ্চয়কে কোনো শাস্তি হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতের নিজের ‘নিরাপত্তা’ হিসেবে দেখা।

প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বা ১ হাজার টাকা আলাদা করে রাখা হয়তো খুব বড় ব্যাপার মনে হবে না। কিন্তু নিয়মিত এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তই কয়েক বছর পর আপনার অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। আয় বাড়লে সঞ্চয়ের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ানো যায়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

টাকা জমাতে চান? যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় এই সঞ্চয় কৌশল মেনে চলুন