কিশোরীর হাত বিচ্ছিন্ন, অভিযুক্তের বাবা বললেন ‘স্ত্রীকে’ আনতে গিয়ে ঘটনা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মেহেরপুর

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

মেহেরপুর সদরে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে একই পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের ডান হাতের কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন– সেলিম হোসেন (৫৫), তাঁর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৪৬) ও মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৬)। হাত বিচ্ছিন্ন স্মৃতির অবস্থা গুরুতর। প্রথমে আহতদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।

অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে শহরের মল্লিকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে মো. সায়ন (২২) তিনজনকে কুপিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়ন বাড়িতে ঢুকে স্মৃতির ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁর আর্তচিৎকারে মা-বাবা এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করেন সায়ন। পরে টের পেয়ে প্রতিবেশীরা এলে সায়ন পালিয়ে যান।

তিনজনকে কুপিয়ে জখমের পর থেকে অভিযুক্ত সায়ন পলাতক। ছবি: সংগৃহীত
তিনজনকে কুপিয়ে জখমের পর থেকে অভিযুক্ত সায়ন পলাতক। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার বিষয়ে আহতদের বক্তব্য জানতে পারেনি স্ট্রিম। নাম প্রকাশ না করে ভুক্তভোগী পরিবারের এক নিকটাত্মীয় জানান, সেলিম হোসেন মেয়ের সম্মতি নিয়ে সায়নকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে কাজি অফিসের মাধ্যমে। এতে সায়ন ক্ষুব্ধ হয়ে রাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।

সায়নের বাবা আবু তালেব বলেছেন, সায়ন ও স্মৃতি পরস্পরকে ভালবাসতো। সম্প্রতি তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু স্মৃতির বাবা এই বিয়ে মেনে নেননি এবং মেয়েকে বাড়িতে আটকে রাখেন। স্মৃতিকে তুলে আনতে গিয়ে হয়তো অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থেকে লর্ড মার্কেট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সরেজমিন সেলিম হোসেনের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশ না করে এক প্রতিবেশী জানান, গভীর রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা সেলিম হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে তিনজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় পান। লোকজন দেখে সায়ন দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে আহতদের হাসপাতালে নেন প্রতিবেশীরা।

সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, অভিযুক্ত যুবককে ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হামলার কারণ ও পূর্ববিরোধের বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত