মানিকগঞ্জে আতিকা হত্যার প্রধান অভিযুক্ত কিশোর গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে নিহত শিশু আতিকা। স্ট্রিম ছবি

মানিকগঞ্জের বনপারিলে শিশু আতিকা হত্যাকাণ্ডে করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত কিশোর নাঈম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে পার্শ্ববর্তী জেলার ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়। শনিবার মামলা পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে আতিকার মৃত্যু কেন্দ্র করে কিশোর নাঈমের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এর আগে সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল গ্রামে আতিকা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনকে আসামি করে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন তার মা আরিফা আক্তার। আতিকা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী দুদল মিয়ার মেয়ে।

মামলার আসামিরা হলেন বনপারিল গ্রামের কিশোর নাঈদ হোসেন (১৫), তার বাবা নিহত পান্নু মিয়া (৪৫), চাচা নিহত ফজলু মিয়া (৩০) ও ভাই আহত নাজমুল হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের মো. রনি (২২)। তাঁদের মধ্যে নাজমুল বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ও মো. রনি গা-ঢাকা দিয়ে আছেন বলে জানিয়ে জেলা পুলিশ।

আসামিদের মধ্যে দুজন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করে আজ দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম বলেন, ‘নাঈম পুলিশের বিশেষ হেফাজতে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁকে কিশোর আদালতে তোলা হবে। অন্য আসামিকে রনিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে নিখোঁজ হয় শিশু আতিকা। রাত ১০টার দিকে কিশোর নাঈমের দেওয়া তথ্যে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রথমে কিশোরের বড় ভাইকে আটক করে, পরে তার বাবা পান্নু ও চাচা ফজলুকে শিশুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়।

এতে কিশোরের বাবা ও চাচা ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তাঁদের মরদেহ লাশ বাড়ির পাশে একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত নাজমুলকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতাল পাঠায় পুলিশ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, গতকাল শুক্রবার নিহত পান্নু ও ফজলুরের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। আজ শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে তাঁদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সন্ধ্যায় শিশু আতিকার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে এশার নামাজের পর জানাজা শেষে বনপারিল কেন্দ্রীয় কবরস্থা দাফন করা হয়েছে।

সম্পর্কিত