লাউয়াছড়ার অজগর এখন লোকালয়ে, দুই মাসে উদ্ধার ১০

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ১৬
উদ্ধার করা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অজগর। ছবি: সংগৃহীত

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গভীর বন ছেড়ে অজগর প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বনসংলগ্ন এলাকায় এসব অজগরের দেখা মিলছে। বাড়ির আঙিনা, হাঁস-মুরগির খামার, বাঁশঝাড়, চা-বাগান ও হাওড়ের আশপাশে অজগর পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন ও জুলাই মাসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০টি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অজগরগুলোর দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৮ ফুট। ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত।

গত জুনে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে চারটি অজগর উদ্ধার করা হয়। এরপর ৯ জুলাই ভূরভূড়িছড়া চা-বাগান থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ১৬ জুলাই ভাড়াউড়া চা-বাগান ও সিন্দুরখান থেকে আরও দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়।

২১ জুলাই উত্তর ভাড়াউড়া থেকে একটি এবং ২৮ জুলাই কমলগঞ্জের ফুলবাড়ী ও শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান থেকে আরও দুটি অজগর উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগের মাধ্যমে অজগরগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবক চঞ্চল গোয়ালা বলেন, বনের খাদ্যশৃঙ্খল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। অজগর লোকালয়ের খামারে থাকা হাঁস-মুরগি ও গৃহপালিত প্রাণী সহজেই শিকার করতে পারছে। এ কারণে খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে তারা লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজগরের প্রধান খাবার ইঁদুর, পাখি, বনমোরগ ও ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে অজগরের খাবারের সংকট তৈরি হয়। একই সঙ্গে বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ও সংকুচিত হচ্ছে।

বন উজাড়, অবৈধ দখল, জনবসতি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক বাগানের সম্প্রসারণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সাজু মার্চিয়াং বলেন, লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে সড়ক ও রেলপথ চলে গেছে। এতে বন্যপ্রাণীর চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে ট্রেন ও যানবাহনের ধাক্কায় সাপ, গন্ধগোকুল, বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী মারা যাচ্ছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে বনের ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। এ কারণে কিছু অজগর লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। চা-বাগানও তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, লোকালয়ে অজগর দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দিতে হবে।

পরিবেশকর্মীদের মতে, দুই মাসে ১০টি অজগর উদ্ধার হওয়া শুধু উদ্ধারের সংখ্যা নয়। এটি লাউয়াছড়া ও আশপাশের বনাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটেরও ইঙ্গিত। অজগর উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বনভূমি দখল ও উজাড় বন্ধ করতে হবে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে হবে। বন্যপ্রাণীর খাদ্যের উৎস সংরক্ষণ করতে হবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত