জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বেতারের সাবেক প্রধান কারিকে মারধরের অভিযোগ

Multiple Authors
স্ট্রিম প্রতিবেদক ও স্ট্রিম সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২৩: ৩৭
হাসপাতালের বেডে কারি আবু রায়হান। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান কারিকে মারধরের অভিযোগ ওঠেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে হামলায় কারি আবু রায়হানের (৬৪) বাম ঊরুর হাড়ের উপরের অংশে ফেটে গেছে।
উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু রায়হান রাজধানী ঢাকার লালবাগের জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়ার দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবু রায়হানের বড় ছেলে কাউসার জামিল বাদি হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন।

মামলায় মোশারফ হোসেন (৪২), মাহমুদুর রহমান ওরফে আলম (৫০) ও তাসলিম আহমেদকে (৪৬) আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এ মামলায় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান।

রোববার (২১ জুন) মারধরের ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার দিনভর সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি আলোচিত হয়। বিচার চেয়ে আহত কারি আবু রায়হানের ছেলে ইফতেখার জামিল মঙ্গলবার ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ওইদিন রাতেই রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানায় আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ। এ ঘটনায় বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দ্রুত বিচার দাবি করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, আহত আবু রায়হানের সঙ্গে স্থানীয় মক্তবের শিক্ষক মোশারফ হোসেন, মাহমুদুর রহমান ওরফে আলম, তাসলিম আহমেদের বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। রোববার আবু রায়হান সেখানে বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন এসে জায়গাটি তাদের দাবি করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ তাঁকে মারধর করে। এতে তাঁর বাম ঊরুর হাড়ের উপরের অংশে ফেটে গেছে বলে চিকিৎসাপত্র সূত্রে নিশ্চিত করেছে পরিবার।

এদিকে, ঘটনার দুদিন পর মঙ্গলবার আহতের ছেলে ইফতেখার জামিল ফেসবুক পোস্টে ওই হামলায় জামায়াতের কর্মী ও একজন রোকন জড়িত উল্লেখ করে বিচার দাবি করেন। পরে পোস্টটি ভাইরাল হয়। তিনি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধ হলেও আক্রমণকারীরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনি সেবা পেতে বাধা সৃষ্টি করেছেন। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সার্বিক সহায়তা চেয়ে জামায়াত দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যবস্থা না নিয়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরুর পর মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে আহত আবু রায়হানের লালবাগের বাসায় যান ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের জামায়াতের এমপি মো. কামরুল হাসান মিলন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে এমপি কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি তাৎক্ষণিক ইফতেখার জামিলের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে দ্রত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিই। অভিযুক্ত যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবে পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়াটা দুঃখজনক।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে এবং ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানানোর পরও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি জানান।

উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক শামীম বলেন, কারি আবু রায়হান ও তার প্রতিবেশি মোশারফ হোসেন সম্পর্কে দাদা-নাতি। পারিবারিক জমির সীমানা নিয়ে রোববার উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ বিষয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফেসবুকে পোস্ট করে ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। যেহেতু এটি পারিবারিক বিষয়, তাই সামাজিকভাবে সমাধান করাই উত্তম।

তবে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আবু রায়হানের ছোট ছেলে ইফতেখার জামিল স্ট্রিমকে জানান, জমির ইস্যুটা একটা অজুহাত। গত বছর তাঁর বাবার প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহ ও মসজিদ নিয়ে তার উপস্থিতিতেই অভিযুক্তরা হুমকি-ধমকি দিয়ে যায়। এবার রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে হামলা করেছে।

ইফতেখার দাবি করেন, বিরোধটি রাজনৈতিক না হলেও অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। এ কারণে এখনও অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মাহমুদুর রহমান ওরফে আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি বলে তাঁর দাবি। মোশারফ হোসেনের সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান স্ট্রিমকে বলেন, বাড়ির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মারামারিতে আবু রায়হান নামে একজনকে আহত করা হয়। মামলার পর মূল অভিযুক্ত মোশারফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত