স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে টানা দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী-ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের মাধ্যমে। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিলের যে রায় দিয়েছিল, তা ছিল আইনের সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা ও জনবিরোধী। তবে সদ্য দেওয়া রিভিউ রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট নিজেদের দায়মুক্ত করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মেট্রোপলিটন চেম্বারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়, সংবিধান সংস্কার ও সংস্কার পরিষদ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচকেরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে রিভিউ আবেদনকারী ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং আইনজ্ঞ ড. শরীফ ভূইয়া আদালতের রায়ের আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত বলেন।
সংবিধান সংশোধন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল প্রসঙ্গে ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল বিভাগের বর্তমান রায়টিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে যে ১৫-১৬ বছর ধরে একটা স্বৈরাচারী-ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেটার সূচনা কিন্তু হয়েছিল বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটা বাতিল করার মাধ্যমে।’
তিনি উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পরপরই সরকার বুঝতে পারে যে ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদের আর জনগণের ভোটের প্রয়োজন নেই। এর পরিণতিতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।
এই আইনজ্ঞ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার ফলে দেশে মানুষের অধিকার রক্ষিত হয়নি এবং গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক ও রিপাবলিকান চরিত্র নষ্ট করে রাষ্ট্রকে একটি কর্তৃত্ববাদী নেক্রোক্রেটিক সিস্টেমে রূপান্তর করেছিল।
তবে রিভিউ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই ভুল শুধরে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ যে ভুল ২০১১ সালে করেছিলেন, ১৪-১৫ বছর পর তারা তা সংশোধন করার সুযোগ পেলেন। সুপ্রিম কোর্টের যে ভুল ছিল, সেটা সংশোধন করা হয়েছে। কাজেই জাতির যে দুঃখবোধ সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপারে থাকতে পারে, সেটা তারা সংশোধন করেছেন।’
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায় বাতিলের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা বা ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়েও ড. শরীফ ভূঁইয়া আইনি ব্যাখ্যায় জানান, রায়টি বাতিল হওয়ার ফলে ত্রয়োদশ সংশোধনী আপনা-আপনিভাবে সংবিধানে পুনরুজ্জীবিত হলো। তবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষে বা কোনো কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে তার ১৫ দিনের মধ্যে এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে।
ড. মজুমদার বলেন, আদালত ২০১১ সালের ১০ মে দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশে স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ভবিষ্যতের জন্য (প্রসপেক্টিভলি) বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু ১৬ মাস পর দেওয়া বিস্তৃত রায়ে বিষয়টি বদলে যায় এবং সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয়ভাবে এটি বাতিল করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার পথ প্রশস্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘যে বিষয়টি চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, আমরা সেটি উদ্ঘাটন করে আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করে প্রতিকার পেয়েছি। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়টিও এখন আপিল বিভাগের সামনে আছে, আশা করি সেখানেও প্রতিকার পাব।’
আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা সম্পর্কে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই ঠিক করবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কে হবেন। আমি আশা করব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী বাস্তবায়নে প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে রাজনৈতিক দলগুলো।’

দেশে টানা দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী-ব্যবস্থার সূচনা হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতের একটি রায়ের মাধ্যমে। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিলের যে রায় দিয়েছিল, তা ছিল আইনের সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা ও জনবিরোধী। তবে সদ্য দেওয়া রিভিউ রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট নিজেদের দায়মুক্ত করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মেট্রোপলিটন চেম্বারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়, সংবিধান সংস্কার ও সংস্কার পরিষদ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচকেরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে রিভিউ আবেদনকারী ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং আইনজ্ঞ ড. শরীফ ভূইয়া আদালতের রায়ের আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত বলেন।
সংবিধান সংশোধন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল প্রসঙ্গে ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল বিভাগের বর্তমান রায়টিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে যে ১৫-১৬ বছর ধরে একটা স্বৈরাচারী-ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেটার সূচনা কিন্তু হয়েছিল বিচারপতি খায়রুল হকের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাটা বাতিল করার মাধ্যমে।’
তিনি উল্লেখ করেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের পরপরই সরকার বুঝতে পারে যে ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদের আর জনগণের ভোটের প্রয়োজন নেই। এর পরিণতিতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।
এই আইনজ্ঞ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার ফলে দেশে মানুষের অধিকার রক্ষিত হয়নি এবং গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে সংবিধানের গণতান্ত্রিক ও রিপাবলিকান চরিত্র নষ্ট করে রাষ্ট্রকে একটি কর্তৃত্ববাদী নেক্রোক্রেটিক সিস্টেমে রূপান্তর করেছিল।
তবে রিভিউ রায়ের মাধ্যমে আদালত সেই ভুল শুধরে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ যে ভুল ২০১১ সালে করেছিলেন, ১৪-১৫ বছর পর তারা তা সংশোধন করার সুযোগ পেলেন। সুপ্রিম কোর্টের যে ভুল ছিল, সেটা সংশোধন করা হয়েছে। কাজেই জাতির যে দুঃখবোধ সুপ্রিম কোর্টের ব্যাপারে থাকতে পারে, সেটা তারা সংশোধন করেছেন।’
ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায় বাতিলের ফলে সাংবিধানিক শূন্যতা বা ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়েও ড. শরীফ ভূঁইয়া আইনি ব্যাখ্যায় জানান, রায়টি বাতিল হওয়ার ফলে ত্রয়োদশ সংশোধনী আপনা-আপনিভাবে সংবিধানে পুনরুজ্জীবিত হলো। তবে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষে বা কোনো কারণে সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে তার ১৫ দিনের মধ্যে এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে।
ড. মজুমদার বলেন, আদালত ২০১১ সালের ১০ মে দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশে স্পষ্টভাবে বলেছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ভবিষ্যতের জন্য (প্রসপেক্টিভলি) বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী দুই নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু ১৬ মাস পর দেওয়া বিস্তৃত রায়ে বিষয়টি বদলে যায় এবং সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয়ভাবে এটি বাতিল করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার পথ প্রশস্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘যে বিষয়টি চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, আমরা সেটি উদ্ঘাটন করে আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা করে প্রতিকার পেয়েছি। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের বিষয়টিও এখন আপিল বিভাগের সামনে আছে, আশা করি সেখানেও প্রতিকার পাব।’
আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা সম্পর্কে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদই ঠিক করবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কে হবেন। আমি আশা করব, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী বাস্তবায়নে প্রজ্ঞার পরিচয় দেবে রাজনৈতিক দলগুলো।’

ঈদকে ঘিরে জনভোগান্তি কমাতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
১ ঘণ্টা আগে
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চালু হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
২ ঘণ্টা আগে